ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০৭ এর ইতিহাস 

ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০০৭  এর  ইতিহাস 

একদিবসীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার সর্বশ্রেষ্ঠ আসর হল বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা যা ক্রিকেট বিশ্বকাপ নামে পরিচিত। ২০০৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপ Cricket World 2007  ছিল বিশ্বকাপের নবম আসর। এই বিশ্বকাপের আসর ১৩ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট ১৬টি দেশ এই খেলায় অংশগ্রহণ করেছিল।

এই বিশ্বকাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া চতুর্থবারের জন্য বিশ্বকাপ বিজয়ী হয়েছিল। ২০০৭ সালের এই বিশ্বকাপের স্পনসর কোনো বাণিজ্যিক সংস্থা ছিল না, এটি ছিল আইসিসি দ্বারা আয়োজিত বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপে ফরম্যাটের কিছু পরিবর্তন হয়েছিল। এই বিশ্বকাপের কয়েকটি সাধারণ নিয়মের কথা প্রথমে বলে নেওয়া যাক। খারাপ আবহাওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতি তো ছিলই, এছাড়াও বলা হয় যে, ফলাফল ঘোষণার জন্য অবশ্যই মুখোমুখি দুটি দলকে নূন্যতম ২০ ওভার ব্যাটিং করতেই হবে (ব্যতিক্রম হবে তখনই, যখন দ্বিতীয় ব্যাটিং করতে নামা দল ২০ ওভারের আগে অলআউট হয়ে যাবে)।

প্রতি ম্যাচে একজন বোলার ১০ ওভারের বেশি বোলিং করতে পারবে না। খেলা চলাকালীন কোনো আউট সম্পর্কে মাঠে দাঁড়ানো আম্পায়ারদের সংশয় তৈরি হলে তাঁরা থার্ড আম্পায়ারের কাছে ডিসিশনের জন্য আপিল করতে পারেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে খেলার ফরম্যাটে একটু পরিবর্তন করা হয়েছিল। ১৬টি দল এই বিশ্বকাপে খেলবার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছিল। আইসিসির দশটি টেস্ট খেলিয়ে দল সরাসরি বিশ্বকাপে প্রবেশ করেছিল, অন্যদিকে কেনিয়া ছাড়াও বাকি পাঁচটি দল ২০০৫ সালের আইসিসি ট্রফির মাধ্যমে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। এই ষোলোটি দলকে মোট চারটি গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রতি গ্রুপে ছিল চারটি করে দল।

গ্রুপ ‘এ’-তে ছিল অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ড। গ্রুপ ‘বি’-তে ছিল শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারত ও বারমুডা। গ্রুপ ‘সি’-তে ছিল নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, কেনিয়া ও কানাডা এবং গ্রুপ ‘ডি’-তে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষে থাকা দুটি দল পরবর্তী সুপার এইট পর্বের জন্য কোয়ালিফাই করেছিল। এই সুপার এইট রাউন্ডটি ইতিপূর্বে বিশ্বকাপে কখনও ছিল না। সুপার এইটে কোয়ালিফাই করা একটি দল তার গ্রুপেরই অন্য কোয়ালিফাই করা দলটির সঙ্গে জিতে গ্রুপপর্বে যদি কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করে থাকে তবে সেই পয়েন্টটি ক্যারি ফরোয়ার্ড হবে সুপার এইট রাউন্ডে, এই ছিল নিয়ম।

সুপার এইটের নিয়ম ছিল রাউন্ডে প্রতিটি দল তার গ্রুপ থেকে কোয়ালিফাই করা দলটি ছাড়া বাকি ছয়টি দলের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে। এই সুপার এইট রাউন্ড থেকে শীর্ষে থাকা চারটি দল চলে যাবে সেমিফাইনালে এবং তারপর অবশেষে দুটি দল খেলবে ফাইনাল। তবে সুপার এইট রাউন্ডে যদি দুটি দলের মধ্যে টাই হয় তবে সেক্ষেত্রে নেট রানরেট বা গ্রুপ কিংবা সুপার এইটে কোন দল সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জিতেছে ইত্যাদির ভিত্তিতে একটি দল পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছবে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে এই ছিল ফরম্যাট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের যেসমস্ত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এই বিশ্বকাপের খেলাগুলি আয়োজিত হয়েছিল, সেগুলি হল, স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম, কেনসিংটন ওভাল, কুইন্স পার্ক, প্রোভিডেন্স স্টেডিয়াম, সাবিনা পার্ক, ওয়ার্নার পার্ক, বিউসজোর স্টেডিয়াম এবং কুইন্স পার্ক ওভাল। এই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি কিংস্টনের সাবিনা পার্ক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫৪ রানে সেই ম্যাচটি জিতেছিল। এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে কেনসিংটন ওভাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া ডাকওয়ার্থ-লুইস মেথডের সাহায্যে ৫৩ রানে ম্যাচটি জিতে চতুর্থবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

২০০৭ সালের এই বিশ্বকাপে ফাইনাল ম্যাচে একটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল। বৃষ্টির কারণে খেলার ওভার যেমন কমিয়ে আনা হয়েছিল তেমনি দ্বিতীয় ব্যাট করা শ্রীলঙ্কার জন্য পুনরায় ওভারের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্যও কমিয়ে দেওয়া হয়।  পরে খারাপ আলোর কারণে নির্ধারিত ৩৬ ওভারের তিনটি ওভার আগেই অর্থাৎ ৩৩তম ওভারে আম্পায়ার ম্যাচটি স্থগিত করে দেয় এবং ডিএলএস অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা তখনও ৩৭ রান পিছনে। অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা জয় উদযাপন শুরু করে দেন, কিন্তু আম্পায়ার হঠাৎ সিদ্ধান্ত জানায়, যেহেতু খারাপ আলোর জন্য ম্যাচ বাতিল হয়েছে, তাই বাকি তিনওভার পরেরদিন খেলা হবে। পরদিন প্রায়ান্ধকার অবস্থাতেই ব্যাট করে শ্রীলঙ্কান টিম মাত্র নয়রান তুলে ম্যাচ হেরে যায়।

পরে অবশ্য আম্পায়ার ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, যে, ওই তিনটি ওভার পরেরদিন খেলানোর সিদ্ধান্তটি নেওয়া উচিত হয়নি। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটিতে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কা। এটি ছিল শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং অস্ট্রেলিয়ার টানা চতুর্থবার। টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক রিকি পয়েন্টিং। বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে দেরী হয় এবং ওভার ৫০ থেকে কমিয়ে করা হয় ৩৮। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওপেন করতে নামেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট এবং ম্যাথিউ হেডেন। দুজন মিলে ১৭২ রানের পার্টনারশিপ তৈরি করেন। গিলক্রিস্ট প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন।

হেডেন শ্রীলঙ্কার ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গার বলে আউট হয়ে যান ৩৮ রান করেন। এরপর অধিনায়ক রিকি পয়েন্টিং নেমে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে রানআউট হন। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস খেলেন ২৩ রানের ইনিংস, কিন্তু শ্রীলঙ্কার বোলারদের বিধ্বস্ত করতে থাকেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট একাই। ফাইনাল ম্যাচে তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্যিই অবিস্মরণীয়। ১০৪ বলে ১৪৯ রান করেছিলেন তিনি৷ বিশ্বকাপের ফাইনালে এত রান আর কোনো খেলোয়াড় করতে পারেননি। শ্রীলঙ্কার মুরালিধরন বা চামিন্ডা ভাসের মতো বোলার আশানুরূপ বোলিং করতে পারেননি।

মালিঙ্গা ২টি এবং দিলহারা ফার্নান্দো নিয়েছিলেন ১টি উইকেট। ৩৮ ওভারে অস্ট্রেলিয়া করেছিল ৪ উইকেটে ২৮১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার হয়ে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন উপুল থারাঙ্গা এবং সানাথ জয়সুরিয়া। ৭ রানে শ্রীলঙ্কার একটি উইকেট (উপুল থারাঙ্গা) পড়ে যায় প্রথমেই। এরপর কুমার সাঙ্গাকারা ব্যাট করতে নেমে জয়সুরিয়ার সঙ্গে একজোটে শ্রীলঙ্কার ইনিংসকে শক্ত হাতে ধরেন৷ দুজনের ১১৬ রানের পার্টনারশিপটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সঙ্গেকারা ৫২ বলে ৫৪ রান করে আউট হয়ে যান।

ঠিক এরপর থেকেই পুনরায় বৃষ্টির জন্য ছেদ পড়ে খেলায় এবং শ্রীলঙ্কার আশা আরও ভেঙে যায়। বৃষ্টির কারণে খেলা ৩৬ ওভারে নামিয়ে আনা হয় এবং লক্ষ্য পরিবর্তন করে করা হয় ২৬৯। সাঙ্গাকারার পর ব্যাট করতে নেমেছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক মাহিলা জয়বর্ধনে। কিন্তু তিনিও মাত্র ১৯ রান করে আউট হন এবং তাঁর পর চামারা সিলভা বা তিলকরত্ন দিলশন কেউই ভাল ইনিংস খেলতে পারেনি। তবে শ্রীলঙ্কা যখন ৩৩ ওভার খেলে ফেলেছিল তখন খারাপ আলোর কারণে আম্পায়ার ম্যাচটি স্থগিত করে দেন। যেহেতু শ্রীলঙ্কার ২০ ওভার খেলা হয়ে গিয়েছিল, এবং ডিএলএস পদ্ধতি অনুযায়ী ৩৭ রান পিছিয়ে ছিল, তাই অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়রা তাঁদের জয় উদযাপন শুরু করেছিলেন।

সেইসময় আম্পায়াররা ঘোষণা করেন যেহেতু খারাপ আলোর কারণে খেলা বন্ধ হয়েছে তাই বাকি তিনটি ওভার পরেরদিন খেলা হবে। সেই হিসেবে পরেরদিন শ্রীলঙ্কার সামনে লক্ষ্য ছিল ১৮ বলে ৬৩ রান। যদিও জয়বর্ধনে বলেছিলেন পরেরদিন খেলবার প্রয়োজন নেই, অন্যদিকে রিকি পয়েন্টিং জানান যে, তিনি শুধুই স্পিনারদের দিয়ে বল করাবেন। পরেরদিনও প্রায় অন্ধকার অবস্থায় ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৯ রান করতে পেরেছিল। অবশেষে তাদের স্কোর দাঁড়িয়েছিল ৮ উইকেট হারিয়ে ২১৫ রান। ডিএলএস মেথডে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫৩ রানে হেরে যায় শ্রীলঙ্কা।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে পরপর তিনবার বিশ্বকাপ জেতার কৃতিত্ব অর্জন করে। ফাইনাল ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান এবং গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলবার জন্য অ্যাডাম গিলক্রিস্টকে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হিসেবে নির্বাচন করা হয়। অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লার্ক এবং শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা ২টি করে উইকেট নিয়েছিলেন। ২০০৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৬৫৯ রান করে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার মেথিউ হেডেন। ৫৪৮ রান করে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান মাহিলা জয়নর্ধনে।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় ২৬টি উইকেট নিয়ে প্রথম স্থানে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা। একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছিলেন ম্যাকগ্রা এই বিশ্বকাপেই। ২৩টি উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলে শ্রীলঙ্কান স্পিনার মুরলিধরন। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় ৮টি ক্যাচ নিয়ে প্রথম স্থানে ছিলেন ইংল্যান্ডের পল কলিংউড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেম স্মিথ। ২০০৭ বিশ্বকাপে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের খেতাব পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলার গ্লেন ম্যাকগ্রা।

২৬টি উইকেট নিয়ে রেকর্ড তো তিনি গড়েইছিলেন, তাছাড়াও গোটা টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। সেমিফাইনালে ৮ ওভার বোলিং করে মাত্র ১৮ রান দিয়ে তিনি যে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন তা অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷ তাছাড়া সুপার এইট রাউন্ডে একাধিক ম্যাচে তিনটি করে উইকেট নিয়েছিলেন তিনি৷ তাঁর এই কৃতিত্বের জন্যই তাঁকে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এই ২০০৭ বিশ্বকাপে বিশেষভাবে কয়েকজন প্লেয়ার এবং তাঁদের বিশেষ কৃতিত্বের কথা বলা প্রয়োজন।

প্রথমত বলতে হয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কথা। এই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে তাঁর ১৪৯ রান একটি রেকর্ড হয়ে আছে আজও, কারণ, কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে কেউ আজ পর্যন্ত এত রান করতে পারেননি। দ্বিতীয়ত অবশ্যই ম্যাথিউ হেডেনের কথা বলতে হয়, যিনি মাত্র ৬৬ বলে, সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা ২০০৭ বিশ্বকাপের আগে কেউ করেনি। অবশ্য পরে ২০১১ সালে কেভিন ও’ব্রায়েন সেই রেকর্ড ভেঙে দেন। এছাড়াও নিউজিল্যান্ডের ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের কথাও উল্লেখ করা প্রয়োজন।

কানাডার বিপক্ষে এই বিশ্বকাপে মাত্র ২০ বলে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি করেন তিনি, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আজও রেকর্ড হয়ে রয়েছে। কয়েকটি বিতর্কও দানা বেঁধে উঠেছিল ২০০৭ বিশ্বকাপকে ঘিরে। গ্রুপপর্বে আয়ারল্যান্ডের কাছে একটি ম্যাচ হেরে পাকিস্তান দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ঠিক সেই ম্যাচের পরদিনই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় পাকিস্তানের কোচ বব উলমারকে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর মৃত্যুটিকে সন্দেহজনক হিসেবে ঘোষণা করে এবং বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেয়।

তদন্তে ক্রমশ শ্বাসরোধ করে হত্যার তত্ত্ব উঠে আসতে থাকে। অবশ্য পরে পুলিশ মৃত্যুটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলেই ঘোষণা করেছিল। এছাড়াও ভারত গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচের দুটিতে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল শুরুতেই, ফলে এই বিশ্বকাপের ফরম্যাট নিয়ে বিসিসিআই প্রশ্ন তুলেছিল পরে। ভারত ও পাকিস্তান বিশ্বকাপের শুরুর পর্বেই আউট হয়ে যাওয়ায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে এই এশীয় উপমহাদেশের প্রচুর সমর্থক বেরিয়ে গিয়েছিল। এমনকি এই টুর্নামেন্টটি কিছুটা দীর্ঘ হওয়ার কারণেই সমালোচিত হয়েছিল৷

এছাড়াও ফাইনালে আলো বিভ্রাট এবং আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তো হয়েছিলই। ভারত এই টুর্নামেন্টে খুব একটা আশাপ্রদ কিছু করতে পারেনি, যদিও বারমুডার সঙ্গে গ্রুপপর্বের ম্যাচে তারা ২৫৭ রানের ব্যবধানে জিতেছিল, যা বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড হয়ে রয়েছে। তবে গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে গিয়ে অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল নকআউট হয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপ থেকে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া এই বিশ্বকাপের একটি ম্যাচও না হেরে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে ২০০৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত টানা ২৯টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। সর্বোপরি ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া টানা তিনবার বিশ্বকাপে জয়লাভ করে।

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা