ডাহুক | ডাকতে ডাকতে গলায় রক্ত উঠে মারা যায় চিরবিরহী ডাহুক

ডাহুক | ডাকতে ডাকতে গলায় রক্ত উঠে  মারা যায়  চিরবিরহী ডাহুক

প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার হল পাখি।বিভিন্ন ঋতুতে নানা রকম পাখি দেখা যায়।গ্রামগঞ্জের ঝোপেঝাড়ে দেখা মেলে অনেক নাম না জানা পাখি।আজ সেরকমই দুটো পাখির সম্পর্কে জেনে নেব। যাদের ডাকের সঙ্গে আমরা খুবই পরিচিত। তাদের ইংরাজি নাম জানা থাকলেও বাংলা নামের সাথে আমারা খুব একটা পরিচিত নই , আসুন জেনে নেওয়া জাক এমন দুটি পাখির সম্পর্কে ……

ডাহুক  নাম আশা করি সকলেরই জানা ,  ডাহুক আসলে চিরবিরহী একটি পাখি।ডাহুক পাখিকে ‘ডাইক’, ‘ধলাবুক ডাহুক’ ‘পান পায়রা’ ইত্যাদি বিভিন্ন নামেও ডাকা হয়। রাতে ডাহুকের ‘কোয়াক’ ‘কোয়াক’ ডাক শুনে সহজেই একে চিনতে পারা যায়। এই ডাক পুরুষ পাখির, যা বর্ষাকালে বেশি শোনা যায়। একটানা অনেকক্ষণ ডেকে শ্বাস নেয়।  এদের প্রধান খাবার জলজ পোকামাকড়, জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা,  , ছোট মাছ, শ্যাওলা, ধান ইত্যাদি খায়। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি এবং আত্মগোপনে এরা খুবই পারদর্শী। এই পাখির দেহ কালচে এবং মুখমণ্ডল, গলা, বুক ও পেট সম্পূর্ণ সাদা রঙের।

তবে ডাহুকের বাচ্চারা হয় কালো রঙের । জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস এদের প্রজননকাল। ৬-৭টি ডিম পাড়ে। ডাহুক-ডাহুকি উভয়েই ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৮ থেকে ২০ দিন।  প্রচলিত আছে, ডাহুক হারিয়ে গেলে ডাহুকী দিনরাত পাগলের মতো ডাকাডাকি করতে করতে গলায় রক্ত উঠে  একসময় মারা যায়! প্রচলিত আছে ডাকতে ডাকতে ওদের গলা থেকে রক্তের ফোঁটা ওদের ডিমের ওপর পড়লেই তবে ডিম ফোটে। আবার কেউ বলে, ডাকাডাকি করে মানুষকে ওরা  বিপদ সংকেত জানায়। তবে  আসলে ঘটনা ওদের প্রজনন সময় ঘনিয়ে এলে সঙ্গী পাখিকে আকৃষ্ট করতেই এমন  করে ডাকতে থাকে ওরা। ভারত,বাংলাদেশ , দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পাখির দেখা মেলে।

সবুজ বাঁশপাতি পাখির নাম শুনেছেন ? না শুনলেও এদের ডাক নিশ্চয় শুনে থাকবেন। গ্রাম্য পরিবেশে ঝোপেঝাড়ে গেলে তারা 'ট্রিউ' 'ট্রিউ' পাখির ডাক নিশ্চয়ই শুনতে পেয়েছেন , এই ডাকই হল সবুজ বাঁশপাতি পাখির ডাক। উজ্জ্বল সবুজ রঙের ছোট পাখি  সবুজ বাঁশপাতি তার উজ্জ্বল সবুজ পালকের জন্যই সবুজ পরিবেশে অনায়াসে মানিয়ে যায়।নেপাল , দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার কিছু দেশে পাওয়া যায় এই পাখি।বনে -জঙ্গলে- নদীতীরে মাটিতে খাড়া জায়গায় সুড়ঙ্গ করে নিরাপদে বসবাস করে এই পাখি , এই পাখি গাছে বাসা বানাতে জানেনা।

এই পাখি স্ত্রী পুরুষ উভয় মিলে সমানতালে ডিমে তা দিয়ে সন্তান পালন করে ।একসঙ্গে ৫ থেকে ৭ টা ডিম পাড়ে। অন্তত তিন সপ্তাহ তা দেবার পর বাচ্চা হয়। বাবা-মা উভয়েই যত্ন করে বড় করে সন্তানদের।কীটপতঙ্গের হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করে এই পাখি।এই পাখির দৃষ্টিশক্তি খুবই তীক্ষ্ণ ।  মাটির কাছাকাছি উড়তে উড়তে পতঙ্গ শিকার করে এই পাখি। এরা মৌমাছি ধরলেও মৌমাছির হুল থেকে বিষ বার করে তবেই তারা মৌমাছিটা খায়। পতঙ্গভুক হলেও মাছ ধরাতেও পারদর্শী এই পাখি ।