ডার্ক ওয়েব জাল ছড়াচ্ছে রাজ্যে , কড়া হাতে মোকাবিলায় নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

ডার্ক ওয়েব জাল ছড়াচ্ছে রাজ্যে , কড়া হাতে মোকাবিলায় নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

এটিএম জালিয়াতির তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে। অবাক হচ্ছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারাও। এত দিন জানা গিয়েছিল, অন-লাইনে স্কিমার যন্ত্র বেচাকেনা হয়। খোলা বাজারেও পাওয়া যায়। এবার  ডার্কওয়েব (Dark Web)  মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে মাদক । এবার এই 'আধুনিক অপরাধে'র মোকাবিলা করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিলেন পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র। শনিবার প্রত্যেক থানার ওসি ও পুলিশ কর্তার সঙ্গে অপরাধ দমনে বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার।

এই পদে দ্বিতীয়বারের জন্য আসার পর থানার ওসি ও পুলিশকর্তাদের নিয়ে এটিই তাঁর প্রথম বৈঠক। অপরাধ দমনের সঙ্গে সঙ্গে যাতে পুলিশের সুনাম বজায় থাকে, সেই ব্যাপারে আধিকারিকদের গুরুত্ব দিতে বলেন।উল্লেখ্য, শুক্রবার কলকাতা থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭৬ গ্রাম কোকেন। এই ধরনের মাদক ডার্কওয়েবের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনা হয়। এ ছাড়াও ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে যে ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়ে থাকে, সেই ব্যাপারে প্রত্যেক থানার ওসি ও পুলিশকর্তাদের জানানো হয়।

এ ছাড়াও প্রত্যেকদিন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাইবার অপরাধের অভিযোগ আসছে। সেই কারণে লালবাজার সাইবার থানা ছাড়াও প্রত্যেকটি ডিভিশনে তৈরি হয়েছে সাইবার সেল। সাইবার অপরাধের মোকাবিলা ব্যাপারে বিভিন্ন নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার। তিনি জানান, সাইবার অপরাধ ও ডার্কওয়েব নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।

এই সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের হলে তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। এরপর ওই অপরাধীরা যাতে সাজা পায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশকে প্রত্যেকটি অপরাধ দমনের জন্য থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের সংযোগের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য গুরুত্ব দিয়েছেন সৌমেন মিত্র। ’কিন্ত্ত এর নেপথ্যে আসল খেলা কার ? বিশেষজ্ঞদের মতে , এই খেলার আসল খেলোয়াড় ‘টর ’ নামে একটি ব্রাউজার৷ অনেক দেশ এই ব্রাউজারটিকে ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে৷

কিন্ত্ত এ দেশে তা চলছে৷ এই ব্রাউজার ব্যবহার করলে নর্মাল ব্রাউজার দিয়ে তার হদিস পাওয়া যায় না৷ ফলে নকল আইপি অ্যাড্রেস তৈরি করে এ সব অপরাধমূলক কাজকর্ম করা হয়৷ এখানকার যাবতীয় তথ্য এনস্ক্রিপটেড করে রাখায় , তা চট করে উদ্ধার করাও যায় না৷ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এই ধরনের ক্ষেত্রে মাত্র চার শতাংশ অ্যাকসেস পেতে পারি৷ বাকি ৯৬ শতাংশ ডার্ক এলাকাতেই থেকে যায়৷ ফলে বেশির ভাগ সময়েই নানা রকম ছদ্ম আইপি -র খোঁজ পাওয়া যায়৷

যা দিয়ে অপরাধীকে ধরা সম্ভব হয় না৷ একমাত্র হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একটি ঘটনায় তাদেরই এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছিল৷ কারণ সে নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারই ব্যবহার করেছিল৷  পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের প্রথমে এদিন গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন করা হয়। ১৯৪৭ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত অপরাধের ট্রেন্ড নিয়ে আলোচনা করেন পুলিশ কমিশনার।

বলা হয়, স্বাধীনতার পর দারিদ্র ঘিরে প্রচুর অপরাধ সংগঠিত হত। খুনের সংখ্যা বেশি ছিল। বেশি হত ডাকাতিও। উল্লেখ্য, সৌমেন মিত্র যখন গোয়েন্দাপ্রধান ছিলেন তখন বহু দুর্ধর্ষ ডাকাতির কিনারা করেছেন তিনি। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত ডাকাতির সংখ্যা বেশি ছিল কলকাতায়। ধীরে ধীরে সেই অপরাধ কমছে। কিন্তু বাড়ছে অন্য ধরনের অপরাধ, যার মধ্যে রয়েছে ডার্কওয়েব বা সাইবার অপরাধ।