ওজন কমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ? হাইপোথাইরয়েডিজম দায়ী নয় তো?

ওজন কমানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ? হাইপোথাইরয়েডিজম দায়ী নয় তো?

হাইপোথাইরয়েডিজম হল সেই শারীরিক সমস্যা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি যথেষ্ট পরিমাণে হরমোন নিঃসরণ করতে পারে না। যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, সহজে ঠাণ্ডা লাগা এবং ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

 হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে ওজন বাড়ে কেন?   ঘাড়ের কাছে অবস্থিত প্রজাপতি আকারের গ্রন্থি থেকে শরীরের তিনটি প্রয়োজনীয় হরমোন বেরোয়। সেগুলি হল ট্রাইয়োডোথাইরোনিন বা T3, টেট্রাইয়োডোথাইরোনিন বা T4 এবং ক্যালসিটোনিন। যখন এই গ্রন্থি উল্লেখিত হরমোনগুলি পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি করতে সক্ষম হয় না তখন শরীরে বিপাকীয় ক্রিয়ার গতি শ্লথ হয়ে আসে ফলে ওজন বেড়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এই ওজন বেড়ে যাওয়া হাইপোথাইরয়েডিজমের অন্যতম লক্ষণ। থাইরয়েডের ওষুধ এই হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ঠিকই কিন্তু ওজন কম করতে গেলে সঠিক ডায়েট আর ব্যায়ামের উপর ভরসা রাখতে হবে। ইন্টারনেটে ওজন কমানোর নানা কৌশল থাকলেও হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে সেগুলো কাজ নাও করতে পারে।

 ক্যালোরি কম করলে কিছু লাভ হয় না     ক্যালোরি কম করা ওজন কমানোর মূল শর্ত। কিন্তু হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে এই প্রক্রিয়া কাজে নাও আসতে পারে। থাইরয়েডের সামঞ্জস্য না থাকলে এমন এক্সারসাইজ করতে হবে যাতে বিপাকীয় ক্রিয়ার গতি বাড়ে, রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন কমানোর সহায়ক হরমোন লেপটিন উৎপন্ন হয়। বিপাকীয় ক্রিয়া ধীর গতির হয় বলে এইসব রোগীদের ক্যালোরি এমনিতেই কম হয় তাই সেটা আর না কমিয়ে এক্সারসাইজে মন দেওয়া উচিত।

 ডায়েট থেকে কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে কিছু হয় না    ওজন কম করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কার্বোহাইড্রেট। তাই অনেকেই কার্বোহাইড্রেট কম করে প্রোটিন বেশি খেতে শুরু করে। হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে এরকম করলে সেটা একটা সমস্যা হতে পারে। কারণ থাইরয়েডের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই কার্বোহাইড্রেট একটি প্রধান ম্যাক্রো নিউট্রিয়েন্ট হিসাবে কাজ করে। তাই ডায়েটে সামান্য কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার রাখতেই হবে।

 যে কোনও ডায়েট অনুসরণ করলেই হয় না    যাঁদের থাইরয়েডের সমস্যা নেই আর যাঁদের আছে এদের ডায়েট একরকম হয় না। যে কোনও ডায়েট অনুসরণ করার আগে অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

 ওজন কম করার ওষুধ একেবারেই কাজে আসে না ॥ একইভাবে ওজন কম করার কোনও ওষুধ খাওয়ার আগেও ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ থাইরয়েডের রোগীরা হরমোন সংক্রান্ত ওষুধ সেবন করেন। এর উপরে অন্য ওষুধ খেলে তার ফলাফল বিপরীত হতে পারে।