শরীরে জিঙ্কের পরিমান কমে গেলে পরিনাম হতে পারে মারাত্মক

শরীরে জিঙ্কের পরিমান কমে গেলে পরিনাম হতে পারে মারাত্মক

আজবাংলা   আমাদের শরীরের কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্য জিংক অতি প্রয়োজনীয় একটি মিনারেল। জিংকের অভাবে ডায়রিয়া বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও কনজাংকটিভার প্রদাহ, পায়ে বা জিহ্বায় ক্ষত, একজিমা, ব্রণ বা সোরিয়াসিস-জাতীয় ত্বকের প্রদাহ, ছত্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণজনিত অসুস্থতা এবং শরীরের ক্ষত শুকাতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। 

রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রকে উজ্জীবিত করে তুলে জিংক এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করতে, জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থেকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে শরীরের কোষকলাকে ফ্রি-রেডিকেলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং ক্ষতের সুস্থতা ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করে।

শরীরে জিংকের ঘাটতি বহু ধরনের সমস্যা শুরু হয়।  যেমন- ১. স্মৃতিশক্তির অভাব-  জিংক আমাদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বড় ভূমিকা পালন করে। জিংকের অভাব হলে এই কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং নিউরোলজিক্যাল পদ্ধতি ব্যাহত হয়। এটি শেখার অক্ষমতাও তৈরি করতে পারে।

২. হাড় দুর্বল করে-  জিংক স্বাস্থ্যকর হাড়ের জন্য জরুরি। এটি হাড়ের গঠনে উদ্দীপকের ভূমিকা পালন করে। জিংকের অভাবে হাড় দুর্বল হয় এবং গাঁটে ব্যথা হয়।


৩. রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায়-  জিংক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়।

৪. দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা-  স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিশক্তির জন্য জিংক খুব প্রয়োজন। এটি চোখের সুরক্ষা দেয় এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। গবেষণায় বলা হয়, জিংকের অভাবে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।



৫. চুল পাতলা হয়ে যায়-  শরীরের জিংকের অভাব হলে মাথার চুল পড়ে যায়। এটি মাথার কোষগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এতে চুল শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুল ভেঙে যেতে পারে। এতে চুল পাতলা হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হেলথ ইন্সটিটিউট অনুসারে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের জন্য প্রতিদিন ১১ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার প্রতিদিন জিংক প্রয়োজন হয় ৮-৯ মিলিগ্রাম। 

তবে গর্ভাবস্থায় মহিলাদের প্রতিদিন ১১ মিলিগ্রাম জিংক গ্রহণ করা উচিত। স্তন্যদানের সময় মায়েদেরকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ১২ মিলিগ্রাম জিংক রাখতে হবে।

নিত্য বেশ কয়েকটি খাবারে জিঙ্কের উপস্থিত রয়েছে। এর সমৃদ্ধ উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে মাংস, শিম, পালংশাক,  বীজ (মিষ্টি কুমড়ার বীজ বা এ জাতীয় বীজ), বাদাম, ডিম, দানাদার শস্য, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, ডার্ক চকোলেট, আলু প্রভৃতি।