ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর খবরটাই বড় হল? মমতা

ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর খবরটাই বড় হল? মমতা

লোকাল ট্রেন বাংলার লাইফলাইন। নতুন করে সেই লোকাল ট্রেনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধের কোপ পড়ায় গত কয়েকদিনে বিতর্ক হয়েছে বিভিন্ন মহলে। কারও মতে ট্রেনের সংখ্যা কমানো মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেউ বলছেন, ট্রেন না চললে রুজি রোজগারে পড়বে কোপ। ট্রেনের জন্য বিক্ষোভ, কামরায় বেসামাল ভিড়ের ছবি তো দেখা গিয়েছেই, ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আর সেই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাঁর প্রশ্ন, ‘ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর খবরটাই বড় হল?’ তাঁর দাবি, ট্রেন চালালেও সমস্যা, না চালালেও! ট্রেনের প্রবল ভিড় থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রশ্ন যখন সামনে এসেছে, তখন মমতা বললেন, ‘আমি যদি ট্রেন বন্ধ করে দিই। তাহলে বলবে লোক আসতে পারছে না। আর ট্রেন চললে গাদাগাদি করে লোক আসবে। বলুন কোনটা করব, এগোলেও দোষ! পিছলেও দোষ!’ সাধারণ মানুষের জীবন- জীবিকার কথা ভাবতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তিন বছর ধরে এই পরিস্থিতি চলায় মানুষের রুজি- রোজগারে টান পড়েছে।  পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুর খবরের বদলে কিছু ইতিবাচক খবর প্রকাশ করা উচিৎ। তিনি বলেন, ‘ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে একজন মরে গেল, ভিড় সামলাতে গিয়ে, এটা আপনার কাছে বড় নিউজ! না আপনার কাছে খবর হওয়া উচিৎ ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।’ তাঁর কথায়, ‘করোনা পজিটিভিটি ঠেকানোর জন্য কখনও কখনও পজিটিভ খবরও করা দরকার।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ডানকুনি থেকে খড়গপুর যাওয়ার পথে ডানকুনি ও বেলানগর স্টেশনের মাঝে ট্রেন থেকে পড়ে যান এক যাত্রী। তাঁর নাম চন্দন প্রচন্ড (৫৫)। বাড়ি মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা টাউন। জানা গিয়েছে ডানকুনিতে আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। এরপর সকালে বাড়ি ফেরার জন্য ডানকুনি থেকে ট্রেন ধরেন চন্দন বাবু।  প্রচণ্ড ভিড় থাকায় ট্রেনের দরজাতেই ঝুলতে থাকেন তিনি। কিছুটা যেতেই ধাক্কা লেগে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যান তিনি।

তড়িঘড়ি তাঁকে জিআরপির সাহায্যে সহযাত্রীরা প্রথমে উত্তরপাড়া স্টেট জেনেরাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। লোকাল ট্রেন নিয়ে বিক্ষোভের ছবিও দেখা গিয়েছে স্টেশনে স্টেশনে। রাজ্যে বিধিনিষেধের জেরে বাতিল হয়েছে ফার্স্ট ট্রেন। প্রতিবাদে শিয়ালদা-ক্যানিং দক্ষিণ শাখার তালদি স্টেশনে, শিয়ালদা বনগাঁ শাখার ঠাকুরনগর স্টেশনে বিক্ষোভের ছবি দেখা যায় বুধবার। শুধু তাই নয়, বিধি নিষেধ জারি হওয়ার পর প্রথম দিনেই হাওড়া স্টেশনে ট্রেন না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।