রাতে বিছানায় এপাশ-ওপাশ ঘুম আসে না? জেনে নিন ঘুমিয়ে পড়ার উপায়

রাতে বিছানায় এপাশ-ওপাশ ঘুম আসে না? জেনে নিন  ঘুমিয়ে পড়ার উপায়

আজবাংলা    একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। কিন্তু অনেকেরই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। তাঁরা বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেন, ঘুম আসে না। কারও আবার ঘুম পাতলা, বারবার ভেঙে যায়।

নিদ্রাজনিত সমস্যা দূর করতে যখন-তখন ঘুমের বড়ি না খেয়ে জীবনাচরণে কিছু পরিবর্তন এনে এমন সমস্যা দূর করা যেতে পারে। আসুন, জেনে নিই এ রকম কিছু অভ্যাস।বিছানা কেবল ঘুমানোর জন্য: শোবার ঘর এবং বিছানার ব্যবহার কেবল ঘুমের জন্যই রাখা উচিত।

শোবার ঘরে টেলিভিশন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা ফোন ব্যবহার করলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এসব কাজ সেরে তবেই শোবার ঘরে ঢুকবেন। ঘুমানোর অন্তত আধঘণ্টা আগে থেকে টেলিভিশন দেখা, কম্পিউটারে কাজ করা বা ফোনে ফেসবুক ব্যবহার করার অভ্যাস বাদ দিতে হবে।

অনেকেই দুপুরে ভাত-ঘুম দেন। অথবা দিনের অন্য সময় একটু ঘুমিয়ে নেন। এতে রাতের ঘুমে বিঘ্ন না হলে ক্ষতি নেই। তবে যদি হয়, তবে দিবানিদ্রা বাদ দিলেই ভালো হবে। আর যদি দুপুরে বা বিকেলে বিশ্রাম নিতেই হয়, সেটা ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখুন।

চা-কফি নয়: যাঁদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাঁরা সন্ধ্যার পর থেকে চা-কফি পান করবেন না। গবেষণায় দেখা যায়, ক্যাফেইনের কার্যকারিতা অনেক সময় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকে। কফির এই উপাদান মস্তিষ্কে উদ্দীপনা জাগায়। ফলে ঘুমে বিঘ্ন ঘটে।

সময় ঠিক রাখুন: ঘুমের একটা জৈবিক চক্র রয়েছে। আর সেই চক্রের সময় অপরিবর্তিত রাখাই ভালো। তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা উচিত, এমনকি ছুটির দিনেও।

রাতে বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করেন? যতই চেষ্টা করুন না কেন কিছুতেই দু’চোখের পাতায় ঘুম আসে না। জানতে কি, মাত্র এক মিনিটেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন আপনি! না কোনও ম্যাজিক নয়, এমনটাই হতে পারে বলে দাবি করেছেন মার্কিন মুলুকের গবেষকরা।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের গবেষকদের দাবি, দৈনন্দিন জীবনে স্ট্রেস ও ইনসোমনিয়ার গলায় গলায় বন্ধুত্ব! একটা থাকলে অন্যটা নাকি এসে যাবেই আপনার জীবনে। আর রাতে ঘুম না আসার পিছনে নাকি যাবতীয় দায় ওই স্ট্রেস-এর। তবে ঘুমোবেন কী করে? তা-ও আবার এক মিনিটে! এক মিনিটে ঘুমোনোর জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা প্রয়োজন। কী ভাবে? জেনে নিন তা—

• প্রথমে জিভের ডগাটা রাখুন সামনের দাঁতের সারির মাংসল জায়গায়। পুরো ব্যায়ামের সময় জিভ সেখানেই থাকবে।

• এ বার বেশ জোরে ‘হুশশশ’ শব্দ করে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ুন।

• এ বার মুখ বন্ধ করে আস্তে আস্তে নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিন। এ সময় মনে মনে এক থেকে চার গুনুন।

• শ্বাস ধরে রেখে এক থেকে সাত গুনতে শুরু করুন।

• আট গুনে শ্বাস পুরোপুরি ছেড়ে দিন। একই ভাবে ‘হুশশশ’ শব্দ করে শ্বাস ছাড়তে থাকুন।

• এটা হল প্রথম বারের ব্যায়াম। এ ভাবেই মোট চার বার ব্যায়ামটা করুন।

গবেষকদের দাবি, এতে স্ট্রেস কমবে। ফলে ঘুমও আসবে তাড়াতাড়ি। মাত্র এক মিনিটেই!