নদীয়ায় গৃহবধূর প্রচেষ্টায় বিক্রির চক্রর হাত থেকে রেহাই পেলো নাবালিকা!

নদীয়ায় গৃহবধূর প্রচেষ্টায় বিক্রির চক্রর হাত থেকে রেহাই পেলো নাবালিকা!

পরনে নীল রঙের চুরিদার! হাতে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ তাতে দু-একটি জামা কাপড় এবং কিছু খাদ্য খাবার। এভাবেই কলকাতা থেকে গত কাল রাতে শান্তিপুর রেলওয়ে স্টেশনে, চলে আসা এক আনুমানিক 16 বছরের নাবালিকাকে ঘিরে চাঞ্চল্য দেখা যায় যাত্রীদের মধ্যে।

 

শান্তিপুর শহরের বিবাদীর নগরের এক গৃহবধূ গীতা দাস চাকদহ থেকে ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার সময়, লক্ষ্য করে ওই মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। হতভম্ব ওই নাবালিকাকে নিয়ে তিনি সোজা শান্তিপুর থানায় পৌঁছান।

 

বিভিন্ন কথোপকথন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, ওই নাবালিকার নাম নার্গিস খাতুন বাড়ি দক্ষিণ 24 পরগনার জীবনতলা থানার কালিকাতলা নামে একটি এলাকায়। বছর চারেক আগে মা মারা যাওয়ার পর বাবা সালাউদ্দিন দ্বিতীয়বার বিবাহ করে এবং তাদের দুটি সন্তান হয়। সৎ মায়ের অত্যাচার সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কলকাতার একটি 5 তলা ফ্ল্যাট এর উপর এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে‌ ,চার বছর কাজ করার পর টাকা চুরির অপবাদে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

 

পথচলতি এক মহিলা তাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একরাত্রি রাখার পর ট্রেনে করে কোথাও নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ওই মহিলার ফোনে বিভিন্ন কথোপকথনে নার্গিস জানতে পারে তাকে 30 -40 হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে! ভীর ট্রেন থেকে পালিয়ে থাকা অপর একটি ট্রেনে উঠে পড়ে সারাদিন ওই ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে পৌঁছানোর পর অবশেষে বেড়ানোর পর অবশেষে শান্তিপুরে এসে পৌঁছায় সে। পড়াশোনা না জানার কারণে নার্গিস কলকাতার কিছুই চিনতে পারেনি।

গতকাল রাত দশটা নাগাদ শান্তিপুর থানার তৎপরতায় চাইল্ড লাইনের সহায়তায় কৃষ্ণনগরে হোমে থাকার ব্যবস্থা করে ওই নাবালিকার। চাইল্ড লাইন সূত্রে জানা যায়, ওই নাবিলাকে কে লিখিত সরকারি নিয়ম নীতি মেনে লিখিত ভিত্তিক বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে ততদিন পর্যন্ত সরকারি এই হোমই থাকবে সে।