দুর্লভা কালী | বর্ধমান শহর লাগোয়া লাকুড্ডির দুর্লভা কালী মন্দির

দুর্লভা কালী | বর্ধমান শহর লাগোয়া লাকুড্ডির দুর্লভা কালী মন্দির

 বছরভর বিভিন্ন মরসুমে সব দেবীরই পুজো হয় এক মূর্তিতে। এমন ভাবেই তিন শতকেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমান শহর লাগোয়া লাকুড্ডি এলাকায় দুর্লভা কালীর পুজো চলছে। বর্ধমানের প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম লাকুড্ডি দুর্লভা কালী। এই কালীমন্দিরে ঘটের আবাহন বা বিসর্জন নেই। ঘট ছাড়াই শুধু বিগ্রহের নিত্য পূজা হয় এই কালী মন্দিরে। বর্ধমান রাজার দান করা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছিল এই মন্দির। দীপান্বিতা কালীপুজোয় অগণিত ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে। 

চারদিকে ঘন জঙ্গল। তার মাঝে বসে কালী সাধনা করছেন তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী। লোকমুখে তাঁর নানান অলৌকিক ক্ষমতা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই ক্ষমতার কথা শুনে একদিন রাত্রে বর্ধমানের মহারাজ তেজচাঁদ মন্ত্রী সান্ত্রীদের নিয়ে সেখানে গেলেন। বর্ধমানের মহারাজ দেখতে চান তান্ত্রিকের অলৌকিক ক্ষমতা। তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী বুঝলেন, রাজা তাঁর ক্ষমতার পরীক্ষা নিতে এসেছেন।

সেদিন ঘোর অমাবস্যা। রাজা জানতে চাইলেন, আজ কি তিথি? তান্ত্রিক জানালেন, আজ পূর্ণিমা। রাজা বললেন, আমাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখাতে পারেন। মৃদু হাসলেন গোকুলানন্দ। চারদিক জ্যোৎস্না আলোকিত হয়ে উঠলো। আকাশের দিকে আঙুল দেখিয়ে তান্ত্রিক বললেন, ওই পূর্ণিমার চাঁদ। দেখুন মহারাজ।অমাবস্যার রাতে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে তান্ত্রিকের সাধনায় মুগ্ধ হয়ে মহারাজ তেজচাঁদ কালী মন্দির করে দিলেন। সেদিন থেকেই বর্ধমানের লাকুড্ডির দুর্লভা কালীবাড়িতে নিত্য পুজো চলছে।

দেবীর দর্শন পাওয়া অতি দুর্লভ। তাই নাম দুর্লভা কালী। প্রায় তিন শতকেরও বেশি বছর আগে তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী পাশের জলাশয়ে স্নান করতে নেমে একটি পাথর পান। সেই পাথরকেই মা কালী রূপে পুজো করেন তিনি। সেই পাথর খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয় রাজার তৈরি করে দেওয়া মন্দিরে। পরে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও সেখানে সেই পাথর খণ্ড সামনে রেখেই পুজো করা হয়। সাধক কমলাকান্তও এখানে তন্ত্র সাধনা করতে আসতেন।

বর্ধমানের রাজারা এই মন্দিরে ভোগঘর তৈরি করে দেন। পুজোর ব্যয়ভার বহন করতেন তাঁরাই। এখানে আজও নিত্য পূজার পাশাপাশি দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়।  পাশেই তৈরি করা হয় বেশ কয়েকটি শিব মন্দিরের। এ ভাবেই ধীরে ধীরে দেবী দুর্লভার প্রসিদ্ধি ছড়িয়ে পড়ে সংলগ্ন এলাকায়। গোকুলানন্দ স্বামী মারা যাওয়ার পরে দুর্লভ ভট্টাচার্য নামে একজনকে পুরোহিত হিসেবে নিয়োগ করেন রাজা বিজয়চাঁদ। রাজ অনুগ্রহে মন্দির ও সম্পত্তিরও অধিকারী হন তিনি। 

এই দুর্লভ ভট্টাচার্যের পরিবারের সূত্রে জানা গেল, দেবী এখানে শ্বেত পাথরের মূর্তিতে পূজিতা। তবে দেবীর মূর্তিটি প্রথমে মাটির ছিল। পরে তা অষ্টধাতুতে তৈরি করা হয়। তবে সেই মূর্তি চুরি যায়। তারপর মহারাজা বিজয়চাঁদের নির্দেশে দেবী বেলকাঠের মূর্তিতে পূজিতা হতেন। কিন্তু সময়ের ফেরে ওই বেলকাঠেও ঘুন ধরে। তারপর ভট্টাচার্য পরিবারের তরফে সিমেন্টের দেবী মূর্তি তৈরি করা হয়।

কিন্তু বছর খানেকের মধ্যে তাতেও ফাটল ধরে। শেষমেশ, রাজস্থান থেকে সাড়ে চার ফুট উচ্চতার শ্বেত পাথরের মূর্তিটি আনা হয় বলে জানান মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত মঙ্গল ভট্টাচার্য। বর্ধমানের রাজারা এই মন্দিরে ভোগঘর তৈরি করে দেন। পুজোর ব্যয়ভার বহন করতেন তাঁরাই। এখানে আজও নিত্য পূজার পাশাপাশি দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়।দীপান্বিতা কালীপুজোয় অগণিত ভক্তের সমাগম হয় মন্দিরে।

মনে করা হয় দেবীর দর্শন পাওয়া অতি দুর্লভ। তাই নাম দুর্লভা কালী। প্রায় আড়াইশো বছর আগে তান্ত্রিক গোকুলানন্দ ব্রহ্মচারী পাশের জলাশয়ে স্নান করতে নেমে একটি পাথর পান।সেই পাথরকেই মা কালী রূপে পুজো করেন তিনি। সেই পাথর খণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয় রাজার তৈরি করে দেওয়া মন্দিরে। পরে কালীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজও সেখানে সেই পাথর খণ্ড সামনে রেখেই পুজো করা হয়।বর্ধমান পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই মন্দির। সেখানে গিয়ে জানা গেল, দুর্গাপুজোর সময় এখানে চারদিন ধরে পুজো হয়। তবে কালীপুজোর সময়মতো রাতভর পুজো হয়।