মাত্র ১ টাকায় অক্সিজেন সিলন্ডার ভরে দিচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের উদ্যোগপতি!

মাত্র ১ টাকায় অক্সিজেন সিলন্ডার ভরে দিচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের উদ্যোগপতি!

দেশে চাহিদা আর জোগানের মধ্যে যদি ভারসাম্য না থাকে, তাহলে জনতার নাভিশ্বাস ওঠে! কিন্তু ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বিশাল চাহিদা আর স্বল্প জোগানের হাত ধরে তৈরি হয় কালোবাজারের সমস্যাও, যা পরিস্থিতিকে অতিরিক্ত জটিল করে তোলে। নানা সময়ে এই ঘটনার সাক্ষী থেকেছে দেশ। এখন যখন কোভিডের দ্বিতীয় তরঙ্গে দেশ উথালপাথাল, তখন দেখছে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কালোবাজারি ব্যবসা। বাজারে কোথাও কোথাও ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দর উঠছে মাত্র একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারের! এ হেন পরিস্থিতিতে উদ্যোগপতিদের অনেকেই এগিয়ে আসছেন অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়ে।

এই ব্যাপারে দেশের প্রথম সারির উদ্যোগপতি রতন টাটার নাম নিতেই হয়, যিনি অক্সিজেন প্লান্ট তৈরির ব্যাপারে দেশবাসীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু পিছিয়ে নেই তুলনায় তথাকথিত ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিরাও। উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরের সুমেরপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়াতে অবস্থিত রিমঝিম ইস্পাত ফ্যাক্টরির মালিক মনোজ গুপ্তা যেমন মাত্র ১ টাকায় একেকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ভরে দিচ্ছেন! গুপ্তা জানিয়েছেন যে তাঁর কারখানা দিন পিছু ১০০০টি করে অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করার ক্ষমতা রাখে।

তাই তিনি সেই মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে দিচ্ছেন সিলিন্ডার প্রতি মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে। তবে এক্ষেত্রে যাতে কেউ তাঁর বদান্যতার সুযোগ না নেয়, সেই দিকেও কড়া নজর রেখেছেন তিনি। একমাত্র করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেখালে তবেই রোগীর জন্য ১ টাকার বিনিময়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে দেওয়া হচ্ছে রিমঝিম ইস্পাত ফ্যাক্টরিতে। তার সঙ্গে যে ডাক্তারের অধীনে চিকিত্‍সা চলছে রোগীর, তার প্রেসক্রিপশন দেখাতে হচ্ছে।

দেখাতে হচ্ছে আধার কার্ডও। এত কিছু কড়াকড়ির অর্থ একটাই- তাঁর মানবিকতার সুযোগ যেন তুলতে না পারে কালোবাজার! যেহেতু তিনি এই সব প্রয়োজনীয় তথ্য জমা রাখছেন, তাই কেউ দুর্নীতি করতে সাহস পাবেন না বলেই মনে করছেন গুপ্তা। এবং ১ টাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করা নিয়ে এত কিছু তথ্য জমার কড়াকড়ি থাকলেও তাঁর পরিষেবা কিন্তু জনপ্রিয় হয়েছে। নিকটবর্তী ঝাঁসি, বান্দা, ললিতপুর, কানপুর, ওরাই, এমনকি লখনই থেকে পর্যন্ত লোকে এসে রিমঝিম ইস্পাত ফ্যাক্টরি থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার ভরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।