নদীয়ায় ভ্যাকসিন না পেয়েও উপহার স্বরূপ পেলেন করোনা সার্টিফিকেট!

নদীয়ায় ভ্যাকসিন না পেয়েও উপহার স্বরূপ পেলেন করোনা সার্টিফিকেট!

মলয় দে নদীয়া:- টিকার জন্য কুপন থাকা সত্ত্বেও ফিরতে পরপর দু দিন ভ্যাকসিন না নিয়ে ফিরলেন মায়াপুর বামুনপুকুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাজকুমার দে। অথচ   বিকেল বেলাতেই তার মোবাইলে এসে হাজির সরকারি সার্টিফিকেট। যাতে স্পষ্ট লেখা তাকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কবে কখন কার হাতে টিকা নিয়েছেন সেসব স্পষ্ট লেখা আছে ওই প্রভিশনাল সার্টিফিকেটে। টিকাকরণের স্থান মায়াপুর বামুনপুকুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত। তাকে টিকা দিয়েছেন সোমাশ্রী খাতুন।

অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল জানা ওই স্বাস্থ্যকর্মী মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কৃষ্ণনগরের বাড়িতে রয়েছেন। টিকা নিয়ে এমন অদ্ভুতুড়ে কাণ্ডের জেরে শোরগোল পড়েছে নবদ্বীপ ব্লকে। সোমাশ্রী খাতুন জানান, “ আমি চল্লিশ দিন ধরে ছুটিতে আছি। তাছাড়া আমি মায়াপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েতের স্বাস্থ্যকর্মী। এক নম্বর পঞ্চায়েতের সঙ্গে আমার কোন যোগ নেই। ”এই ঘটনার জেরে রাজকুমার দে নবদ্বীপের বিডিওর কাছে গত ২২ সেপ্টেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিষয়টি জানিয়েছেন। যদিও তার কথায় সেই অভিযোগের কোন সদুত্তর এখনও তিনি পাননি। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি শুরু হয়েছে।


জানা গিয়েছে বামুনপুকুরের বাগানে পাড়ার বাসিন্দা রাজকুমার দে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য গত ১৩/৯/২১ তারিখে পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া কুপন পেয়েছিলেন। যার নম্বর ৩৬৯। ওই কুপন নিয়ে বামুনপুকুর হাইস্কুলের টিকাকরণ কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন সেদিনের মতো টিকা শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “সেদিন ৫০০ জনের টিকা দেওয়া হবে। কি হয়েছিল জানিনা আমাকে বা আরো অনেককেই বলা হয় আজ টিকা ফুরিয়ে গিয়েছে। পরের দিন প্রথমেই আমাদের দেওয়া হবে। এবং ওই কুপনেই কাজ হবে।”

পরবর্তী টিকাকরণের দিন ধার্য হয় ২২ সেপ্টেম্বর। রাজকুমার বাবু আগের কথা মতো ১৩ তারিখের কুপনটি নিয়ে সেখানে হাজির হলে তাকে বলা হয় ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, “আমি আগের দিনের কথা বলতেই যারা ক্মপিউটারের সামনে বসে কাজ করছিলেন তাঁরা বলেন এটা পুরানো কুপন এতে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। নতুন করে কুপন চাই। আমি আগের দিনের সব কথা বলাতে তাঁরা আমাকে সুশীল বিশ্বাসের কাছে যেতে বলেন। তিনি আমাদের পঞ্চায়েতের কর্মাধক্ষ্য এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে টিকার কর্মসূচী চলছে।

কিন্তু কোনরকম ভাবেই এব্যাপারে সাহায্য করেন নি।”বিষয়টি নিয়ে তিনি সেদিন বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেও টিকার ব্যবস্থা করতে পারেননি। এরপর বিকেল বেলায় তাঁর ভ্যাকসিন হয়ে বলে সার্তিফিকেট এসে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নবদ্বীপের ব্লক আধিকারিকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর কথায়, “ এরপর আমি কি আদৌ ভ্যাকসিন পাবো? ” বিষয়টি প্রসঙ্গে ওই পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মির সাইনুর হক বলেন “কি ভাবে টিকাকরণ হচ্ছে এবিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।

তবে এরকম যদি কোন ঘটনা ঘটে থাকে কেন ঘটলো সে বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরী।” অন্যদিকে নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তৃণমূলের তাপসকুমার ঘোষ বলেন, “ যেটুকু শুনেছি তাতে ওইব্যক্তি প্রথমদিন কুপন থাকা সত্ত্বেও টিকা নিতে টিকাকরণ কেন্দ্রে যাননি। পরদিন হাজির হয়ে পুরনো কুপন দেখিয়ে বলেন টিকা দিতে হবে। তাকে বলা হয় নতুন কুপনের মাধ্যমে পরের দিন টিকা দেওয়া হবে।”  কিন্তু কি করে তার হাতে ভ্যাকসিনের সার্টিফিকেট এল সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে “তাপসবাবু বলেন আমরাও বুঝতে পারছি না এটা কি করে ঘটল। তাপস বাবু আরও জানান, আমি চাই এই ঘটনার প্রকৃত তদন্ত হওয়া দরকার। প্রকৃত ঘটনা টা সামনে আসুক আমিও তাই চাই।