তথ্য না দিয়েও ব্যাঙ্ক জালিয়াতির শিকার ব্যবসায়ী| এক ফোনে উধাও ৮৪ লক্ষ টাকা!

তথ্য না দিয়েও ব্যাঙ্ক জালিয়াতির শিকার ব্যবসায়ী| এক ফোনে উধাও ৮৪ লক্ষ টাকা!

ব্যাঙ্ক জালিয়াতি নিয়ে সচেতনতা যত বাড়ছে, যত বেশি করে মানুষ সতর্ক হচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে জালিয়াতির নতুন নতুন কায়দাও। এবা খাস কলকাতায় সল্টলেকের এক ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল ৮৪ লক্ষ টাকা। তবে কোনও পিন বা ওটিপি মারফত নয়, একটা ফোনকল রিসিভ করতেই ঘটে গেল বিপর্যয়। জানা গিয়েছে, সল্টলেকের বাসিন্দা ওই ব্যবসায়ী শিবম অরোরাকে বারবার ই-সিম ব্বহারের প্রস্তাব পাঠায় প্রতারকরা।

তার পরে সেই সিমে তিনি একবার ফোন রিসিভ করার পরেই নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় তাঁর মোবাইল ফোন। অভিযোগ, ঠিক এর পরেই ব্যবসায়ীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় টাকা! অভিযোগ পাওয়ার পরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যে তথ্য মিলেছে, তাতে প্রতারকদের জালিয়াতির ছক অনেক উচ্চ পর্যায়ের বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। প্রথমে গ্রাহকের একটি ই-সিম তৈরি করে নিষ্ক্রিয় করা হয় আসল সিম।

এরপর গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কানেক্ট করা হয় ওই ই-সিম। এর পরে তথ্য হাতিয়ে ফের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয় ই-সিমটিও। শিবম অরোরা জানিয়েছেন, গত ৩১ জুলাই থেকে ২ অগাস্টের মধ্যে তাঁর মোবাইল ফোনে প্রায় ৫০০টি মেসেজ আসে। প্রতিটি মেসেজেই তাঁকে ই-সিমকার্ড ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই অনুরোধ করে ফোনও আসতে থাকে ক্রমাগত। তার পর হঠাত্‍ করেই তাঁর ফোনের টাওয়ার চলে যায়।

তখনও কিছু বুঝতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী। এর পরে মঙ্গলবার তিনি ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেছে প্রায় ৮৪ লক্ষ টাকা! তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জালিয়াতদের ফোন একবারই রিসিভ করেছিলেন ব্যবসায়ী। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সিম ক্লোন করে নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করা হয় আসল সিম।

এদিকে ক্লোন করা সিমটির সঙ্গে ব্যবসায়ীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করা ছিল, তাই অ্যাকাউন্টের তথ্য সহজেই পেয়ে যায় তারা। তারপরেই ওই ক্লোনড সিম মারফত অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেওয়া হয় টাকা। কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশের ব্যাঙ্ক জালিয়াতি দমন শাখা খতিয়ে তদন্ত করছে গোটা ঘটনার। এখনও কেউ ধরা পড়েনি।