শেষপর্যন্ত ভেঙে পড়ল চিনের রকেটের ধ্বংসাবশেষ

শেষপর্যন্ত ভেঙে পড়ল চিনের রকেটের ধ্বংসাবশেষ

শেষপর্যন্ত বড়সড় ক্ষতি এড়ানো গেল। কোনও স্থলভাগে পড়ল না চিনের বৃহত্তম রকেটের ১১০ ফুট লম্বা লং মার্চ ৫বি ওয়াই ২ রকেটের ধ্বংসাবশেষ। চিনের মহাকাশ কার্যালয়কে উদ্ধৃত করে সেদেশের সরকার-নিয়ন্ত্রিত চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের (সিসিটিভি) দাবি, রবিবার সকালে ভারত মহাসাগরের উপর সেই কৃত্রিম উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মার্কিন সেনার তথ্য ব্যবহারকারী মহাকাশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর নজরদারি চালানো স্পেস-ট্র্যাকও জানিয়েছে, ভেঙে পড়েছে লং মার্চ ৫বি ওয়াই ২ রকেট।

টুইটারে সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ‘যাঁরা পৃথিবীর পরিমণ্ডলে লং মার্চ ৫বি রকেটের ঢোকার উপর লক্ষ্য রাখছিলেন, তাঁরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। রকেট ভেঙে পড়েছে।’ সঙ্গে জানানো হয়, সংস্থার বিশ্বাস যে ভারত মহাসাগরে ভেঙে পড়েছে চিনা রকেট। তবে সরকারি বিবৃতির অপেক্ষা করা হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল, চিনা রকেটের ১৮ টনের অংশটি কোথায় ভেঙে পড়বে।

বিশেষত করোনাভাইরাস মহামারীতে যখন ধুঁকছে বিশ্ব, তখন সেই রকেটের ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ার ফলে কী ক্ষতি হতে পারে, তা ভেবে অনেকেই আশঙ্কায় ভুগছিলেন। যদিও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর ৭০ শতাংশ এলাকায় জল থাকায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ কোনও মহাসাগরের উপরই ভেঙে পড়বে। চিনা সংবাদমাধ্যমের দাবি, পৃথিবীর পরিমণ্ডলে প্রবেশের সময়ই রকেটের বেশিরভাগটা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ পড়েছে ভারত মহাসাগরে।

আগেই অবশ্য চিনের বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, রকেটটি পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। রকেটের উপরের স্তরটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এটি যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকবে তখন সামনের দিকটা পুড়ে যাবে। রকেটের বাকি অংশও পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সময় জ্বলে যাবে, ফলে মাটিতে থাকা লোকজন ও সম্পদের তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এএফপি জানাচ্ছে, হার্ভার্ডের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জনাথন ম্যাকডয়েল একটি টুইট বার্তায় লিখেছেন, ''পরিসংখ্যানগত ভাবে সাগরে পড়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি ছিল।'' ''দেখা যাচ্ছে, চীন এই জুয়ায় জিতে গেছে, (যদি না আমরা মালদ্বীপে টুকরো পড়ার খবর পাই)। তারপরেও এটা একটা দায়িত্বহীন ব্যাপার।''