অতিরিক্ত প্রোটিনের রয়েছে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি

অতিরিক্ত প্রোটিনের রয়েছে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি

আজবাংলা  খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে প্রোটিন অন্যতম। শরীরের তাপ উৎপাদন, হজমক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষয়পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রোটিন। এছাড়া দেহের বৃদ্ধি, কোষ গঠন ও ক্ষয়পূরণেও প্রোটিন কাজ করে। তবে এই প্রোটিন আপনাকে খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে।কারণ অতিরিক্ত মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সমস্যায় সম্মুখীন হতে পারেন আপনি। এখনকার সময়ে প্রায় সবাই স্বাস্থ্য সচেতন। শরীরচর্চার পাশাপাশি ডায়েট করেন অনেকেই। এই ডায়েট করতে গিয়ে অনেকেই প্রয়োজনের থেকে বেশি প্রোটিন খেয়ে ফেলেন। কারণ ওজন কমাতে প্রোটিন অবদান রাখে।

তবে বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন শরীরে যতটা পরিমাণ প্রোটিন দরকার তার বেশি না গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন দরকার হয়। অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হবে। আসুন আজকের প্রতিবেদনে দেখে নিই অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে কী কী সমস্যা হতে পারে-

১. কোষ্ঠকাঠিন্য-  ডায়েট চার্টে অনেকেই অতিরিক্ত প্রোটিন রাখেন এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে দেন। এতে করে শরীরে ফাইবারের পরিমাণ কমে যায়। কম ফাইবার গ্রহণের ফলে হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায়। প্রোটিন হিসেবে বেশি দুগ্ধজাতীয় খাবার খেলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।  

২. কিডনি, হার্ট-এর সমস্যা- অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে কিডনির ক্ষতি হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম কার্বোহাইড্ৰেট এবং হাই প্রোটিন ডায়েটে গ্রহণ করার ফলে কিডনিতে প্রভাব পড়ছে। এছাড়া হার্ট-এর সমস্যাও বাড়ে।বিশেষ করে মাংস,দুধ অতিরিক্ত খেলে এই সব সমস্যা দেখা দেয়।

৩. ওজন বেড়ে যাওয়া-  ওজন কমাতে অনেকেই বেশি প্রোটিন খান। কিন্তু অতিরিক্ত প্রোটিন আপনার ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, উচ্চমাত্রার প্রোটিন গ্রহণ করলে সীমিত সময়ের জন্য আপনার ওজন কমাতে পারে।তবে পরবর্তীতে এটা আপনার ওজন বাড়িয়েও দিতে পারে যেটা কমানো অনেকটা অসম্ভব। সাত হাজার পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে , যারা বেশি প্রোটিন গ্রহণ করেন তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশের ওজন বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা কম প্রোটিন গ্রহণ করেছেন তাদের তুলনায়।

৪. ক্যান্সারের ঝুঁকি-  হাই প্রোটিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রসেসড মাংস  অতিরিক্ত খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার, মূত্রথলিতে ক্যান্সার হতে পারে। তাই প্রোটিন হিসাব করে খেতে হবে। 

৬. মাথা ঘোরা-  অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়। কার্বোহাইড্রেট কম গ্রহণের ফলে আপনার মস্তিষ্ক কম সুগার পাবে যাতে মস্তিষ্ক সংকুচিত হয়। আমরা  অস্বস্তি বোধ করি। কার্বোহাইড্রেট হলো মস্তিষ্কের শক্তির প্রধান উৎস। শরীরে এটির ঘাটতি হলে আপনার মেজাজকে প্রভাবিত করতে পারে।

৫. নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ-  কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে যদি প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো হয় তাহলে শরীরে কিটোসিস দেখা দেয় । আর এই কিটোসিসের কারণে মুখে বিশ্রী গন্ধ সৃষ্টি হয়। এই গন্ধ শরীরের ভিতর থেকে আসার কারণে ব্রাশ বা মাউথ ওয়াশের মাধ্যমে এই গন্ধ দূর করা সম্ভব হয় না।