অসাধারণ মমতার শিক্ষামন্ত্রী| আন্দোলনকারীরা নাকি বিজেপি-র ক্যাডার, তাই সমবেদনা নয়

অসাধারণ মমতার শিক্ষামন্ত্রী| আন্দোলনকারীরা নাকি বিজেপি-র ক্যাডার, তাই সমবেদনা নয়

শিক্ষিকাদের বিক্ষোভে মঙ্গলবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল বিকাশ ভবন (Bikash Bhavan) চত্বর। প্রকাশ্যে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ৫ শিক্ষিকা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অনৈতিকভাবে দূরে বদলি করা হচ্ছে শিক্ষিকাদের। এছাড়া একাধিক দাবিও ছিল তাঁদের। শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সদস্যরা গত সপ্তাহে বিকাশ ভবনের সামনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নামে নিখোঁজ পোস্টার লাগিয়েছিলেন।

তারপর প্রশাসনিক বৈঠকের দিন নবান্নের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছিলেন তাঁরা। এসবের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সেই বিকাশ ভবনের সামনেই পাঁচ শিক্ষিকা বিষ খেয়েছেন। হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিত্‍সাধীন। বুধবার তা নিয়ে ফেসবুকে লম্বা পোস্ট করলেন শিক্ষামন্ত্রী। যাতে ব্রাত্য তুলে ধরেছেন, বাম আমলে এমএসকে, এসএসকে শিক্ষিকাদের বাম আমলে কী কী সুবিধা দেওয়া হতো আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানায় কী দেওয়া হয় তার একতা তুলনামূলক পরিসংখ্যান। এসবের পরেই নাট্যকার শিক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, 'তারপরেও যারা আন্দোলন করছেন, তারা শিক্ষক শিক্ষিকা নন, বিজেপি ক্যাডার।

প্রসঙ্গত, ওই পাঁচ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পুলিশ জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। তাঁরা সকলেই আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পোস্টের শেষ লাইনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিজেপির ক্যাডার বলা নিয়েই সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকের মতে, যাঁরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন তাঁদের প্রতি ন্যূনতম সমবেদনা না দেখিয়ে বিজেপির ক্যাডার বলে দেওয়াকে অনেকেই শিক্ষামন্ত্রীর ঔদ্ধত্য হিসাবে দেখছেন। যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষও বাম আমলের সঙ্গে মমতা আমলের তুলনামূলক পরিসখ্যান দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রার্থনা করেছেন এই শিক্ষিকারা যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কারও রাজনৈতিক প্ররোচনায় যেন শিক্ষিকারা যেন পা না দেন সে ব্যাপারেও আবেদন জানিয়েছেন কুণাল। অনেকের মতে, ব্রাত্যর মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হতে কিছুটা মলম দিতে চেয়েছেন কুণাল। এদিন শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "তৃণমূল দাবি করে, ভূভারতে তাদের মতো সরকার আর নেই। আন্দোলনরত শিক্ষিকারা বিষপান করে প্রতিবাদ করলেন, এতেই বোঝা যাচ্ছে হতাশা ক্ষোভ কোথায় গেছে! ৫ লক্ষের বেশি সরকারি শূন্যপদ ধ্বংস করা হয়েছে। এই রাজ্যে একজন পূর্ণ সময়ের শিক্ষামন্ত্রী চাই। এই পরিস্থিতি মর্মান্তিক এবং হৃদয়বিদারক। সরকার অবিলম্বে ব্যবস্থা নিক। এই ঘটনার পুণরাবৃত্তি যেন না হয়, সরকারের কাছে আবেদন করছি"।

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, "শিক্ষকদের বিষ খাওয়ার ঘটনাকে আমরা সমর্থন করি না। কিন্তু তাঁরা কেন এটা করলেন সেই বিষয়ে সরকারের উত্তর কী ? চাকরিপ্রার্থীদের কথা শোনার মতো কেউ নেই। তাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই পুলিশ দিয়ে তাঁদের জেলে ঢোকাচ্ছে সরকার। যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের যেখানে খুশি বদলি করে দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন থেকে একেবারে সব গুটিয়ে দিনহাটা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের সমস্যার কথা সরকার শুনছে না। তাহলে তো প্রতিবাদ হবেই"।