দেবাঞ্জন কাণ্ডের পর নীলবাতি গাড়ি-সহ গ্রেফতার জাল সরকারি অফিসার!

দেবাঞ্জন কাণ্ডের পর নীলবাতি গাড়ি-সহ গ্রেফতার জাল সরকারি অফিসার!

দেবাঞ্জন কাণ্ডের পর এবার গড়িয়াহাটে পাকড়াও আরও এক ভুয়ো সরকারি অফিসার। নীল বাতি লাগানো গাড়ি-সহ গ্রেফতার করা হয়েছে সনাতন চৌধুরী নামের এই ভুয়ো সরকারি অফিসারকে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ব্যক্তি বরানগরের মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা। সূত্রের খবর এ দিন গড়িয়াহাট থানার তরফে চেকিংয়ের সময়ে এই নীলবাতি গাড়িটি সন্দেহ হওয়ায় দাঁড় করানো হয়।

গাড়ির মালিক সনাতন চৌধুরী নিজেকে স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পুলিশ দু-এক কথাতেই বুঝতে পারে পরিচয় ভাড়ানো হচ্ছে। সনাতন চৌধুরীকে তত্‍ক্ষণাত গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, সনাতন রায় চৌধুরী পেশায় আইনজীবী। নিজেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্ট্যান্ডিং কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিত। নীল বাতি গাড়ি নিয়ে ঘুরতো।

এদিকে আবার ডিজিটাল প্লাটফর্মে সিবিআই স্পেশাল কাউন্সিলের পদাধিকারী বলে নিজের পরিচয় দিতেন তিনি। দুই জায়গায় দুই রকম পরিচয় দেওয়াতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। বয়ানে অসঙ্গতি পেতেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজ্যে ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডের পরই নীলবাতি গাড়ি নিয়ে তত্‍পরতা বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন, অ্যালার্ট করা হয়েছে সব ট্রাফিক গার্ডকে।  

একের পর এক নীল বাতিওয়ালা ভুয়ো অফিসার ধরাও পড়েছে পুলিশের জালে। নগরপাল সৌমেন মিত্র নিজে বিষয়টিতে নজর রাখছেন। নীলবাতি গাড়ি দেখলেই তার দাঁড় করিয়ে চেক করছেন ট্রাফিক আধিকারিকরা। সরকারি অফিসার এর আইডেন্টিটি কার্ড দেখতে চাওয়া হচ্ছে। সন্দেহ হলেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ঠিক এভাবেই ফাঁদে পা দিয়েছেন সনাতন চৌধুরী।

তাকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তার ওই নীল বাতি লাগানো গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার পরিচয়পত্রটিও জাল বলেই জানা যাচ্ছে। উল্লেখ্য দিন কয়েক আগে পার্কস্ট্রিট থানা এলাকা থেকে এমনই এক ভুয়ো আধিকারিকে হাতেনাতে ধরা হয়েছিল। ধৃতের নাম ছিল আসিফুল হক। আসিফুলও নিজেকে ভিজিল্যান্স অফিসার বলে পরিচয় দিত। নীল বাতি লাগানো গাড়িও ব্যবহার করত। বুধবার জেরায় অসঙ্গতি ধরা পড়তেই তাকেও গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ।

এদিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে এক কোটি টাকা প্রতারণা নিজেকে সিআইডি পরিচয় দেওয়া এক মহিলার বিরুদ্ধে।নদীয়ার একাধিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীর সাথে এক মঞ্চে দেখা গেছে তাকে। রাধারানী বিশ্বাসের নামে কৃষ্ণনগর কাঁঠালপোতায় ভাড়া থাকা রাধারানী বিশ্বাস নামে এক মহিলা বিগত লকডাউনের শুরু থেকেই বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করতে থাকে! যদিও পাশেই তার একটি জমি কেনা আছে এবং অপর একটি জমিতে তিন তলা বাড়ি তৈরি হচ্ছে! তিনি নিজেকে ভবানী ভবনের সিআইডি দপ্তরের ডিএসপি পদে চাকুরিরতা বলে পরিচয় দেন!

এবং সেই সুবাদে কৃষ্ণনগর এবং আশেপাশের করিমপুর বগুলা অঞ্চল থেকে স্বাস্থ্য দপ্তর, শিক্ষক , সহ নানা সরকারি বিভাগে বিভিন্ন চাকরি নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেন বেকার ছেলে মেয়েরা। ওই এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলরের স্বামী বিশ্বজিত্‍ চক্রবর্তী জানান, কারুর কাছে 10 লক্ষ কারোর কাছে 14 লক্ষ এভাবেই প্রায় 15 -16 জন টাকা দিয়ে প্রতারিত হচ্ছে এ খবর আমার কাছে আসে গত কয়েকদিন আগে, অনেকে প্রকাশ্যে এসে বলতে না পারলেও এরই মধ্যে থেকে দুজন লিখিত অভিযোগ জমা দেয় কোতোয়ালি থানায়। সেই মোতাবেক পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের।