ফেনী জেলা | বাংলাদেশের অন্যতম জেলা Feni

ফেনী জেলা |  বাংলাদেশের অন্যতম জেলা Feni

বাংলাদেশর Bangladesh বেশিরভাগ জেলাই স্বাধীনতার আগে থেকে ছিল, কিছু জেলা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে গঠিত, আবার কিছু জেলা একটি মূল জেলাকে দুভাগে ভাগ করে তৈরি হয়েছে মূলত প্রশাসনিক সুবিধের কারণে। প্রতিটি জেলাই একে অন্যের থেকে যেমন ভূমিরূপে আলাদা, তেমনি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকেও স্বতন্ত্র। প্রতিটি জেলার এই নিজস্বতাই আজ Bangladesh বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে। সেরকমই একটি জেলা হল Feni ফেনী জেলা। Bangladesh বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত Chattogram চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল এই Feni ফেনী জেলা মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের সাক্ষী হয়ে আছে।

১৯৮৪ সালের প্রশাসনিক পুনর্গঠনের  সময় মহকুমা থেকে ফেনী জেলা রূপে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল এই জনপদ৷ বাংলাদেশের জেলাগুলির মধ্যে সর্বশেষ প্রতিষ্ঠিত জেলা এটি। বিখ্যাত কবি নবীনচন্দ্র সেন একসময় এই জেলার মহকুমা প্রশাসক ছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার শহীদ জহির রায়হান কিংবা নাট্যজগতের ধ্রুবতারা ড. সেলিম আল দীনের জন্মস্থান হিসেবে এই ফেনী জেলা আজও বিখ্যাত হয়ে আছে।   বাংলাদেশের একটি অন্যতম জেলা হল ফেনী জেলা।

উত্তরে কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলা, পশ্চিমে নোয়াখালীর সেনবাগ, দক্ষিণ-পশ্চিমে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশ, দক্ষিণ-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরেরসরাই উপজেলা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের মোহনা ঘিরে রয়েছে সমগ্র জেলাটিকে।ফেনী জেলায় বেশ কিছু নদ-নদীর উপস্থিতি দেখা যায় তারমধ্যে প্রধান প্রধান নদীগুলি হল ফেনী নদী, মুহুরী নদী, ছোট ফেনী নদী, কহুয়া নদী এবং সিলোনিয়া নদী। এই নদীগুলির মধ্যে মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া ও কালিদাস-পাহালিয়া নদী এক স্থানে মিলিত হয়ে ফেনী নদীতে এসে মিশেছে৷ ফেনী জেলার ভূপ্রকৃতির ইতিহাস একটু অন্যরকম। এই জেলার নিত্যকার সঙ্গী ছিল দীঘি।

দীঘির উপর এই জেলার মানুষেরা অনেক বেশি নির্ভর করতো। দীঘির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সেই সময়কার শাসকেরা নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে অসংখ্য সুবিশাল দীঘি নির্মাণ করেন। রাজাঝির দীঘি, বিজয় সিং দীঘি, শমসের গাজী দীঘি, কৈয়ারা দীঘি যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। সাগরবিধৌত এই অঞ্চলের পানীয় জলের একমাত্র উৎস হিসেবে সুউচ্চ পাড়ঘেরা বিশাল আকারের দীঘিসমূহ খনন করা হতো। সময়ের চাকা যত ঘুরেছে বর্তমানে অধিকাংশ দীঘির পাড় কেটে সমান করে মানুষ বসতি স্থাপন করেছে। তবুও বিজয়সিংহ কিংবা শমসের গাজীর দীঘিতে প্রাচীনকালের চিহ্নবিশেষ আজও অক্ষত আছে।

আয়তনের বিচারে ফেনী বাংলাদেশের ৬১তম জেলা। এই জেলার আয়তন ৯২৮.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় অন্যান্য উপকূলীয় জেলাগুলির মধ্যে আয়তনের বিচারে ফেনী জেলা ১৮তম স্থানে আছে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার বিচারে ফেনী জেলা সমগ্র বাংলাদেশে তেতাল্লিশতম জনবহুল জেলা। এই জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১৪,৯৬,১৩৮ জন৷ পরিসংখ্যান অনুসারে এখানে পুরুষ অপেক্ষা নারীর সংখ্যা তুলনায় বেশি। ধর্মবিশ্বাস অনুসারে এ জেলার মোট জনসংখ্যার ৭৭.৯৪% মুসলিম, ২১.২৪% হিন্দু,০.২% খ্রীষ্টান এবং ০.৪% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ০.০২% ধর্মাবলম্বী।এই জেলার অন্যতম প্রধান নদী ফেনী নদীর নাম অনুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। 

ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুর ফেনী জেলা সম্পর্কীত বর্ণনায় লিখছেন, “ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার,পূর্বে মহাগিরি পার নাই তার।” তবে জেলার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে আরো অনেক মত প্রচলিত আছে। কারো কারো মতে, পুণ্ড্রবর্ধনের বিরাট রাজের অধীনস্থ জমিদার ফণীর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ হয়েছে। আবার অনেকে মনে করেন যে উপকূলবর্তী এলাকা হওয়ায় একসময় এখানে প্রচুর কচুরিপানা দেখা যেত যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পেনা’ বলা হয়।

এই ‘পেনা’ থেকেই হয়তো ফেনী জেলার নামকরণ হয়েছে। জনশ্রুতিতে আছে যে, এলাকায় প্রচুর সাপের উপদ্রব ছিল বলে মানুষজন ফণীমনসা গাছ লাগাতো আর সেই থেকেই হয়তো এই জনপদ ফেনী জেলা বলে নামাঙ্কিত হয়। আয়তনের বিচারে ফেনী বাংলাদেশের ৬১তম জেলা। এই জেলার আয়তন ৯২৮.৩৪ বর্গ কিলোমিটার। সীমান্তবর্তী অঞ্চল হওয়ায় অন্যান্য উপকূলীয় জেলাগুলির মধ্যে আয়তনের বিচারে ফেনী জেলা ১৮তম স্থানে আছে। ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জনসংখ্যার বিচারে ফেনী জেলা সমগ্র বাংলাদেশে তেতাল্লিশতম জনবহুল জেলা।

এই জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১৪,৯৬,১৩৮ জন৷ পরিসংখ্যান অনুসারে এখানে পুরুষ অপেক্ষা নারীর সংখ্যা তুলনায় বেশি। এই জেলার অন্যতম প্রধান নদী ফেনী নদীর নাম অনুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। ষোড়শ শতাব্দীতে কবি কবীন্দ্র পরমেশ্বর পরাগলপুর ফেনী জেলা সম্পর্কীত বর্ণনায় লিখছেন, “ফনী নদীতে বেষ্টিত চারিধার,পূর্বে মহাগিরি পার নাই তার।” তবে জেলার নামকরণের ইতিহাস নিয়ে আরো অনেক মত প্রচলিত আছে। কারো কারো মতে, পুণ্ড্রবর্ধনের বিরাট রাজের অধীনস্থ জমিদার ফণীর নামানুসারে এই জেলার নামকরণ হয়েছে।

আবার অনেকে মনে করেন যে উপকূলবর্তী এলাকা হওয়ায় একসময় এখানে প্রচুর কচুরিপানা দেখা যেত যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পেনা’ বলা হয়। এই ‘পেনা’ থেকেই হয়তো ফেনী জেলার নামকরণ হয়েছে। জনশ্রুতিতে আছে যে, এলাকায় প্রচুর সাপের উপদ্রব ছিল বলে মানুষজন ফণীমনসা গাছ লাগাতো আর সেই থেকেই হয়তো এই জনপদ ফেনী জেলা বলে নামাঙ্কিত হয়। ১৮৭২ থেকে ১৮৭৪ সালের মধ্যে মোগল আমলের আমীরগাও থানায় নদী ভাঙনের ফলে তা ফেনী নদীর ঘাটের কাছেই সেই থানা খাইয়্যারাতে স্থানান্তরিত হয়েছিল যা ব্রিটিশ আমলে ফেনী থানা বলেই পরিচিতি লাভ করে। ১৯৮৪ সালের আগে নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি মহকুমা ছিল এই ফেনী জেলা যা মীরসরাই, ছাগলনাইয়া ও আমীরগাঁওকে একত্রিত করে গড়ে উঠেছিল।

পরে ১৯৮৪ সালে এই মহকুমা একটি স্বতন্ত্র জেলার রূপ পায়। এই জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ঐতিহাসিক ঘটনার চিহ্ন পাওয়া যায়৷  ১৯৬৩ সালে একটা পুকুর খনন করার সময়ে ছাগলনাইয়া গ্রামে নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের ব্যবহৃত প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরনো একটা হাতকুড়াল পাওয়া যায় যাক থেকে অনুমিত হয় যে প্রাচীনকালে শিকারী মানুষের প্রথম পদচিহ্ন পড়েছিল এখানে। আবার ছাগলনাইয়া উপজেলার শিলুয়া গ্রামে এক প্রাচীন ঐতিহাসিক শিলামূর্তির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে পুতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে যা থেকে অনুমান করা হয় প্রাচীনকালে এখানে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ ঘটেছিল।

ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায় যে, অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ ফেনী নদীর তীরে অবস্থিত রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে শমসের গাজী রাজধানী স্থাপন করেছিলেন এবং তিনি এখান থেকেই যুদ্ধ করে রৌশনাবাদ ও ত্রিপুরা রাজ্য জয় করেন। এই শমসের গাজী বাংলাদেশের এক বীর বাঙালির পরিচয়ে আজও বিখ্যাত হয়ে আছেন।   ফেনী জেলার ভাষা বাংলা হলেও আঞ্চলিকভাবে মৌখিক ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়৷ বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলের মানুষ ফেনীর আঞ্চলিক ভাষাকে সহজভাবে বুঝতে পারেন এবং সহজেই এই ভাষায় কথা বলতে পারেন।

ফেনীর আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে কুমিল্লা অঞ্চলের চৌদ্দগ্রাম ও লাকসাম উপজেলার আঞ্চলিক ভাষার এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের মিরেশ্বরাই, বারইয়ারহাট অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষার সাদৃশ্য চোখে পড়ে। আবার ফেনীর আঞ্চলিক ভাষার সঙ্গে নোয়াখালি ও লক্ষীপুর এলাকার ভাষার অনেকটাই মিল রয়েছে৷ মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এই জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও কয়েকঘর হিন্দু ও খুব কম সংখ্যক খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন।

প্রশাসনিক বিভাজন অনুসারে ফেনী জেলায় ৬টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা, ৫৬৪টি গ্রাম এবং ৩টি সংসদীয় আসন রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল এবং এরশাদ জাতীয় পার্টি এই তিনটি সংসদীয় আসনের শাসনভার গ্রহণ করেছে। ফেনী জেলার উপজেলাগুলি হল – ছাগলনাইয়া, দাগনভুঁঞা, পরশুরাম, ফুলগাজী, ফেনী সদর এবং সোনাগাজী। ফেনী জেলায় বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন সম্বলিত স্থান এখানকার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, চারিদিকে উচু পাহাড় ঘেরা বিজয় সিংহ দীঘি।

এই দীঘি শত বছরের প্রাচীন রূপকথার ইতিহাসের কথা বলে৷ ছাগলনাইয়া উপজেলায় অবস্থিত জগন্নাথ কালী মন্দির অপর একটি ভ্রমণপ্রসিদ্ধ স্থান। শমসের গাজী তাঁর বাল্যকালে লালন কর্তা জগন্নাথ সেনের স্মৃতিতে এই মন্দির ও কালী মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন৷ আরেকটি ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র হল চাঁদ খাঁ মসজিদ। মোগল আমলের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন চাঁদ গাজী ভুঁইঞা যার নামানুসারে ছাগলনাইয়া উপজেলা সদরের অদূরে চাঁদগাজী বাজারে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে চাঁদ খাঁ মসজিদ৷ এই জেলার আরেকটি দর্শনীয় স্থান হল গান্ধী আশ্রম৷

এছাড়া শমসের গাজীর দীঘি, শমসের গাজীর সুড়ঙ্গপথ, ফেনী শহরের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ঐতিহাসিক রাজাঝির দীঘি, প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি, আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান। ফেনী জেলা অনেক গুণী মানুষের জন্মস্থান। পীর পাগলা মিঞার জন্ম এই জেলায় যাঁর অলৌকিকত্বের কাহিনী দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিস্তৃত বহির্বিশ্বে বিস্তৃত। বীর শমসের গাজীর বীরত্বগাথা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত, তাঁর জন্ম এখানেই। একাত্তর সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার,

প্রখ্যাত সাংবাদিক শহীদ সেলিনা পারভীন এবং সদ্যপ্রয়াত নাট্যাচার্য ড: সেলিম আল দীন এই জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। আঞ্চলিক লোকসংস্কৃতির প্রভাব এই জেলায় দৃশ্যমান৷  মুখে মুখে ছড়াকাটা, ধাঁধাঁ, বচন ইত্যাদির প্রচলন আছে। প্রাচীন ভুলভুলাইয়া নদীর (যা বর্তমানে অস্তিত্বহীন) তীরে বসবাসকারী মানুষগুলোর বাণিজ্যযাত্রা ও বণিকের নিয়তি ও প্রেমকাহিনী নিয়ে রচিত ভুলুয়ার পালা এই অঞ্চলের প্রাচীন সংস্কৃতির অন্যতম নিদর্শন। পালা গান,কবি লড়াই, ঢাকি নৃত্য এর পাশাপাশি পুঁথিসাহিত্যে শমসের গাজীর কিস্‌সা, ভুলুয়ার কিস্‌সা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লোকসংস্কৃতি এ জেলায় ধাঁ-ধাঁ, কবিতা, গল্প, প্রবাদ, খনার বচন, লোককাহিনী, লোকবিশ্বাস, পালাগান, কবিয়ালী গান, যাত্রা, মন্ত্র-তন্ত্র ইত্যাদির প্রচলন রয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় ভাটিয়ালী, রাখালী, মারফতী, মুর্শিদী গানের প্রচলন রয়েছে। এছাড়া এ উপজেলায় নাট্যচর্চাও লক্ষ্য করা যায়।

[ আরও পড়ুন খুলনা জেলা ]