অতিরিক্ত চিনি খেলে যে যে ক্ষতি হয়

অতিরিক্ত চিনি খেলে যে যে ক্ষতি হয়

বেশিরভাগ মানুষ সকালে চা বা কফির সঙ্গে এক থেকে দুই চামচ চিনি মিশিয়ে খেয়ে থাকেন, কিন্তু তারা জানেন না যে এ অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহের জন্য কতখানি ক্ষতিকর। কারণ চিনির ক্ষতিকর প্রভাবগুলো খুব অল্প সময়ে চোখে পড়ে না তাই আমরা সহজে বিশ্বাস করি না যে, চিনি আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর।বিজ্ঞানীরা জানালেন অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে নানা রোগে প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা যান। সংক্রামক রোগে যত মানুষ আক্রান্ত হন, তার চেয়ে ঢের বেশি মানুষ অসুস্থ হন চিনির বিষক্রিয়ায়। অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি খাওয়ার কারণে শরীরের মারাত্বক ক্ষতি হয়ে থাকে। আসুন কী সেই ক্ষতিগুলো তা জেনে নেওয়া যাক।

  শরীরের প্রতিটি অঙ্গের কর্মক্ষমতা কমে যায় বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে চিনি শরীরে প্রবেশ করে ফ্রুকটোজে রূপান্তরিত হয়ে যায়, যা লিভারে মেদ জমাতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রক্তেও ফ্যাটের পরিমাণ বাড়ে। ফলে একটা সময়ে গিয়ে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে লিভারের কর্মক্ষমতাও কমতে শুরু করে। তাই অতি মাত্রায় চিনি মেশানো পানীয় খাওয়া চলবে না। সেই সঙ্গে রান্নাতেও চিনির পরিমাণ কমাতে হবে। 

  হরমোন চিকিত্‍সকদের মতে ওজন বাড়লে, ডায়াবেটিস-রক্তচাপ মাত্রা ছাড়ালে, হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়লে বাড়ে কোভিডের আশঙ্কা ও জটিলতা। এমনিতেও বেশি মিষ্টি খেলে শরীরের প্রদাহের প্রবণতা বেড়ে কোভিডের আশঙ্কা ও প্রকোপ বাড়তে পারে। কাজেই কোভিডের এই সময়ে চিনি খাওয়া যথাসম্ভব কমানো উচিত।

  গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত চিনি খেলে প্যাংক্রিয়েটিক ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার, ক্ষুদ্রান্তের ক্যানসার, গলা, ফুসফুস, রেকটাম ও স্তন ক্যানসারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

 গবেষকরা বলছেন, বেশি চিনি বাচ্চাদের কাজ করার আগ্রহ নষ্ট করে দিতে পারে। শিশুদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, মনোযগের অভাব, উত্তেজনা বেড়ে যায়।বাচ্চাদের শরীরে অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। শিশুদের এগজিমা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

  বেশি চিনি খেলে নারী ও পুরুষ, উভয়েরই যৌন জীবনে ক্ষতি হতে পারে।রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।এই সমস্ত কারনে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনিকে না চেনাই ভাল। এর উপকারিতা যত, ক্ষতি তার চেয়ে অনেক বেশি। যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে ৩-৫ চামচ চিনি খেতে পারেন! তার বেশি কখনওই নয়।

  • তাহলে নিচের তালিকাটি লক্ষ্য করুন এবং জানুন দেহে চিনির ক্ষতিকর প্রভাব সম্বন্ধে :
  •  দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়,
  •  দেহে খনিজ লবণের ভারসাম্য নষ্ট করে,
  •  শিশুদের হাইপার অ্যাক্টিভিটি, বদমেজাজি, অমনোযোগী এবং একরোখা আচরণের জন্য দায়ী চিনি,
  • দেহের ট্রাইগি্লসারাইডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়,

  •  ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের (সংক্রামক রোগ) বিরুদ্ধে শরীরে যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকে তা দুর্বল করে দেয় বা কমিয়ে দেয়
  •  টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা এবং কার্যক্রম কমিয়ে দেয়
  •  উপকারী হাই ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন কমিয়ে দেয়
  •  শরীরে ক্রোমিয়ামের অভাব দেখা দেয়
  •  ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বিশেষ করে স্তন, ওভারি, প্রোস্টেট ও রেকটাম

  •  অনাহার বা অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজ লেভেল বাড়িয়ে দেয়
  • কাপারের অভাব দেখা দেয়,
  • ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম শোষণে বাধা দেয় 
  •  দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয়
  •  নিউরোট্রান্সমিটারের লেভেল বাড়িয়ে দেয়, যেমন-ডোপামিন, সেরোটনিন এবং নরএপিনেফ্রিন
  •  হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জন্য চিনি দায়ী

  •  এসিডিটি তৈরি করে,
  •  শিশুদের এড্রিনালিন লেভেল দ্রুত বৃদ্ধি করে,
  •  অকালে বার্ধক্য আনে,
  • অ্যালকোহলিজমের ঝুঁকি বাড়ায়,
  •  দাঁতের ক্ষয় করে,
  • স্থূল হতে সাহায্য করে,
  •  অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ অন্ত্রনালির প্রদাহ এবং আলসারেটিভ কলিটিসের ঝুঁকি বাড়ায়,
  •  গ্যাস্ট্রিক বা ডিওডেনাল আলসারের কারণ হতে পারে, 
  • আর্থ্রাইটিসের অন্যতম কারণ,

  •  অ্যাজমা হতে পারে
  • এক প্রকার ছত্রাক ইস্টের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়
  •  পিত্তথলির পাথর হওয়ার কারণ
  •  হৃদরোগের কারণ
  •  অ্যাপেনডিসাইটিসের কারণ
  •  অশ্বের কারণ চিনি
  •  মাল্টিপল স্কেলরোসিস হয়

  •  ভেরিকোসভেইন (রক্তনালির স্ফীতি) হতে পারে
  •  যারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল গ্রহণ করেন চিনি তাদের গ্লুকোজ এবং ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়
  •  দন্ত রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, ৩৫. অস্ট্রিওপরোসিস (হাড়ক্ষয়) হতে পারে, ৩৬. স্যালাইভা অ্যাসিডিটি হতে পারে
  •  ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা কমায়
  •  রক্তে ভিটামিন ই-এর পরিমাণ কমায়
  •  গ্রোথ হরমোন (বৃদ্ধি হরমোন) কমায়
  •  কোলেস্টেরল বাড়ায়।