রথযাত্রার আগে জেনে নিন বলরামের অজানা কাহিনি

রথযাত্রার আগে জেনে নিন বলরামের অজানা কাহিনি

আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরং রথমেব তু। 
বুদ্ধিং তু সারখি বিদ্ধি মনঃ প্রগ্রহমেব চ।।
ইন্দ্রিয়ানি হয়নাহর্বিষয়াংস্তেষু গোচরান্।
আত্মেন্দ্রিয় মনোযুক্তং ভোক্তেত্যাহর্মনীষিণঃ।। 

দেশজুড়ে পালিত হবে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভ্রদার মাসির বাড়ি যাওয়ার অনুষ্ঠান। শ্রীকৃষ্ণের অন্য একটি রূপ জগন্নাথের কথা তো আমরা সবাই জানি। রথযাত্রার আগে বরং একটু কথা বলি কৃষ্ণের বড় ভাই বলরামকে নিয়ে। মহাভারতে বলরামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলদেব, বলভদ্র ও হলায়ুধ নামেও পরিচিত। বৈষ্ণবরা বলরামকে বিষ্ণুর অবতার-জ্ঞানে পুজো করেন।

ভাগবত পুরাণের তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে। বিষ্ণুর শয্যারূপী শেষনাগের একটি রূপ বলেও তাঁকে মনে করেন অনেকে। কৃষ্ণের সত্‍ মা রোহিণীর গর্ভে জন্ম হয় বলরামের। তিনি ছিলেন আসলে কংসের কারাগারে বন্দি বসুদেব ও দেবকীর সপ্তম গর্ভের সন্তান। কংসের হাত থেকে তাঁকে বাঁচানোর জন্য শ্রীহরির নির্দেশে সপ্তম গর্ভের ভ্রুণ রোহণীর গর্ভে প্রতিস্থাপিত করা হয়।

কংসকে জানানো হয় যে দেবকী মৃত সন্তান প্রসব করেছেন। শক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মিলন হয়েছে বলে তাঁর নাম বলরাম। অনেকের মতে বিষ্ণুর এক অবতার রামের ছোট ভাই লক্ষ্মণ দ্বাপর যুগে তাঁর বড় ভাই বলরাম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। কৃষ্ণের থেকে বলরামের চরিত্র ছোটবেলা থেকেই ভিন্ন। শান্ত প্রকৃতির বলরাম রেগে গেলে মারাত্মক রূপ ধারণ করতেন।

কৃষ্ণ যেমন মিষ্টি কথা ও মুখের হাসিতে সবার মন জয় করে নিতেন, বলরামের প্রকৃতি তা নয়। তবে দুই ভাইয়ের সদ্ভাব মহাভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গঠনগত দিক থেকেই দুই ভাই ভিন্ন প্রকৃতির। কৃষ্ণ যেমন কালো, বলরাম ফর্সা। কৃষ্ণের পছন্দ হলুদ বর্ণের কাপড়়, বলরামের পরনে সব সময় নীল বস্ত্র। বলরামের অস্ত্র এক বিশাল লাঙল। তিনি এ কারণে 'হলধারী' নামেও পরিচিত। অস্ত্রবিদ্যায় তিনি অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। ভীম এবং দুর্যোধন তাঁর কাছে গদাচালনা শিখেছিলেন। মহাভারতে কৃষ্ণ পাণ্ডবদের পছন্দ করলেও বলরাম কিন্তু কৌরবদের প্রতি দুর্বল ছিলেন।

ভীমের তুলনায় দুর্যোধন ছিলেন তাঁর প্রিয় ছাত্র। এমনকি নিজের বোন সুভদ্রার সঙ্গে দুর্যোধনের বিয়ে দিতেও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কৃষ্ণ তা বানচাল করে অর্জুনের সঙ্গে সুভদ্রার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বলরাম কোনও পক্ষ অবলম্বন না করলেও ভীম যখন অনৈতিক ভাবে দুর্যোধনের ঊরুভঙ্গ করেন, তখন বলরাম এতটাই রেগে যান যে নিজের লাঙল তুলে ভীমকে আক্রমণ করতে উদ্যত হন তিনি। কিন্তু কৃষ্ণের কথায় তিনি নিজেকের সংবরণ করে নেন।