নিয়ম মেনে পালন করুন শ্রীশ্রীসন্তোষী মাতার ব্রত , জেনে নিন ব্রত পালনের নিয়ম

নিয়ম মেনে পালন করুন  শ্রীশ্রীসন্তোষী মাতার ব্রত , জেনে নিন ব্রত পালনের নিয়ম

আজবাংলা  প্রতি শুক্রবারে উপবাস করে স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র, ধূপ-দীপ জ্বালিয়ে সন্তোষী মাতার ব্রত পাঠ করতে হবে। অপর কোন তিথি বা নক্ষত্রজনিত নিষেধ নেই।সন্তোষী মাতাকে সন্তোসের অধীস্টানী দেবী বলে অভীহিত করা হয়।

বিশেষ করে উত্তর ভারত ও নেপালের মহিলারা সন্তোষী মায়ের পুজা করে থাকেন।বার্ষিক ১৬ টা শুক্রবার সন্তোষী মায়ের ব্রত পালন করলে দেবী সন্তুষ্ট হন বলে মান্য করা হয়।

ব্রতের ফল

ভক্তিভরে যে নারী এই ব্রত উদ্‍যাপন করবে- তার সব কামনা সিদ্ধ হবে। গৃহে অর্থাভাব থাকবে না।

পুজোর জন্য লাগবে

সন্তোষী মায়ের ছবি
ব্রতকথার বই
ঘট
পানপাতা
ফুল
কর্পূর
ধূপকাঠি
প্রদীপ, ঘি বা তেলে পূর্ণ
হলুদ
সিঁদুর
ঘটে রাখার জন্য ফল, মূলত নারকোল বা কলা
হলুদ মেশানো আতপ চাল
ছোলা, গুড় আর কলা হল প্রসাদ

পুজো পদ্ধতি

ঘরের এক কোণ পরিষ্কার করে কাঠের আসন পাতুন | প্রতিষ্ঠা করুন দেবী ছবি | নইলে রোজ যেখানে পুজো করেন, সেখানেও করা যায়।

শুক্রবার সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার বসনে দেবীর সামনে ঘট প্রতিষ্ঠা করুন | ঘটে গঙ্গাজল , বা গঙ্গাজল না পেলে এমনি পরিষ্কার জল দিয়ে পূর্ণ করুন | ঘটের উপর ফল রাখুন | প্রসাদ হিসেবে দিন ধান, দুর্বা, ফুল, ছোলা, গুড় বা বাতাসা |

প্রথমে সন্তোষী মায়ের বাবা গণেশ এবং দুই মা ঋদ্ধি ও সিদ্ধির পুজো করুন | তারপর সন্তোষী দেবীর ব্রতকথা পাঠ করুন |

পাঠ শেষে শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিন | প্রণাম করে বলুন, ' জয় সন্তোষী মা !' এরপর আরতি করুন | শান্তির জল ছিটিয়ে দিন বাড়ির সর্বত্র |

প্রসাদ বিতরণ করে ওই প্রসাদ দিয়েই ভঙ্গ করতে পারেন উপবাস | বা সারাদিনও রাখতে পারেন উপবাস | শুক্রবার সন্তোষী মায়ের আবির্ভাবের দিন বলে ওইদিন এই পুজো পালিত হয় | কোনও তিথি নক্ষত্রের বিধিনিষেধ নেই | যেকোনও বয়সী নারীপুরুষ এই ব্রত পালন করতে পারেন |

ব্রতপালনের একটাই মূল শর্ত হল, যিনি পালন করবেন, সেই ব্রতী এদিন টকজাতীয় কিচ্ছু খেতে পারবেন না | প্রসাদেও টক খাবার যেন কিছু না থাকে |

ষোল সপ্তাহ বা চারমাস পরে উদযাপন করতে হয় ব্রত | ওইদিন একইভাবে পুজো করার পরে আটজন বালককে ডেকে ভোজন করাতে হয় | নিজের পরিবারে না থাকলে পরিচিতদের থেকে নিমন্ত্রণ জানানো যায় বালকদের | ভোজনের পরে তাদের বস্ত্র, ফল এবং দক্ষিণা দিতে পারেন |

জয় সন্তোষী মা।