স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু স্ত্রীরা পালন করে করবা চৌথ, জেনে নিন দিনক্ষণ

স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু  স্ত্রীরা পালন করে করবা চৌথ, জেনে নিন দিনক্ষণ

আজবাংলা     হিন্দুদের রীতিগুলির মধ্যে অন্যতম হল করওয়া চৌথ। স্বামীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু বিবাহিত মহিলারা পালন করে থাকেন এই ব্রত। পশ্চিমবঙ্গে করওয়া চৌথ উত্‍সবটি খুব একটা প্রচলিত না হলেও, উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ নিষ্ঠা সহযোগে পালন করে থাকেন বিবাহিত মহিলারা।হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, ও হিমাচল প্রদেশ-এ পালন করা হয় এটি।   যেমন স্বামীর মঙ্গলকামনায় শিবরাত্রির চল রয়েছে, তেমনই করওয়া চৌথ।

করওয়া চৌথের ব্রত বিবাহিত মহিলাদের জন্য বিশেষ এক রীতি। এই দিনে, বিবাহিত মহিলারা স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার জন্য উপবাস করেন। মহিলারা করওয়া চৌথের দিনে হাতে মেহেন্দি পরেন। জ্যোতিষ মতে এই ব্রত কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীতে উদযাপিত হয়। এই দিনে সংক্ষতি চতুর্থীও রয়েছে, যা গণেশকে উত্সর্গ করা হয়। করওয়া চৌথ ব্রত-এ মহিলারা সারা দিন নির্জলা উপবাস থাকেন এবং সন্ধ্যায় চন্দ্র দর্শন শেষে ব্রত ভাঙ্গেন।করওয়া চৌথের উপবাসের বিশেষ তাত্পর্য রয়েছে।

করওয়া চৌথের দিনে চাঁদের বিশেষ উপাসনা করা হয়। এই ব্রতর নিয়মাবলী বিশেষ গুরুত্ব হিসাবে বিবেচিত হয়, তাই করওয়া চৌথের উপবাসে নিয়মগুলি অনুসরণ করা উচিত তবেই এই ব্রতর ফল অর্জিত হয়।করওয়া চৌথের উপবাসে সরগি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই সরগি হল শ্বাশুড়ির থেকে পাওয়া আশীর্বাদ। ঘরের বউয়ের হাতে শ্বাশুরীরা ছেলের মঙ্গল কামনায় ব্রতী ঘরের বউ-এর হাতে এই উপবাসের উপকরণ তুলে দেন। সকালের ব্রত সরগি করওয়া চৌথের জন্য পালন করা হয়।

করওয়া চৌথের উপবাসে সারগি বিশেষ গুরুত্ব হিসাবে বিবেচিত হয়।করওয়া চৌথের ব্রত চাঁদ দেখার পরেই উপবাস ভঙ্গ করা উচিত। চন্দ্র দর্শন শেষে এই ব্রত স্বামীর হাত থেকে জল নিয়ে যাওয়ার পরেই ভঙ্গ করতে হবে। করওয়া চৌথের উপবাসের সময় মাটির ঘটে পূজা করা হয়। এর বাইরে করওয়া চৌথের ব্রতকথা কথা শোনা উচিত।

করওয়া চৌথ ব্রতর নির্দিষ্ট সময়-

এবছর করবা চৌথ পড়েছে - ২৪ অক্টোবর, রবিবার।

করবা চৌথ পূজা মুহূর্ত - ২৪ অক্টোবর, বিকেল ৫টা ০৪ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট।

চন্দ্রোদয়ের সময় - সন্ধ্যা ০৭টা বেজে ৩৫ মিনিট

চতুর্থী তিথি শুরু - ২৪ অক্টোবর, ভোর ৩টা ০১ মিনিটে

চতুর্থী তিথি শেষ - ২৫ অক্টোবর, সকাল ৫টা ৪৩ মিনিটে

 

করবা চৌথ ব্রতের পূজা বিধি  যারা করবা চৌথের ব্রত রাখেন, তারা ভোর হওয়ার আগে ঘুম থেকে উঠে সারগি খান। ভোরে স্নান করার পর ব্রত করার সংকল্প নেওয়া হয়। এই দিনে করবা চৌথের গল্প শোনার বা পড়ার বিশেষ গুরুত্ব আছে। একটি পাত্রে জল এবং হাতে চাল রেখে ব্রত কথা শোনা উচিত। এর পর তুলসী গাছে জল দিন। সারাদিন নির্জলা উপবাস রাখুন। রাতে চাঁদ দর্শনের পর, পূজা প্লেট সুন্দ করে সাজিয়ে পূজা শুরু করুন। সমস্ত দেবতাদের স্মরণ করে আশীর্বাদ নিন এবং তাদের তিলক লাগান। এরপর চন্দ্রের পূজা করুন। প্রথমে অর্ঘ্য অর্পণ করুন এবং চালুনি দিয়ে চাঁদ দর্শন করে, তারপরে সেই চালুনির মাধ্যমেই স্বামীর দিকে তাকান। তারপর স্বামীর হাত থেকে জল পান করে উপবাস ভঙ্গ করুন। বাড়ির বড়দের আশীর্বাদ অবশ্যই নিন।

করবা চৌথ ব্রত করার উপকারিতা  বিশ্বাস করা হয় যে, করবা চৌথের ব্রত পালন করলে বিবাহিত মহিলারা অটুট সৌভাগ্য লাভ করেন। স্বামীর দীর্ঘায়ু হয়। বিবাহিত জীবনে আসা সমস্ত সমস্যা দূর হয়। পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

[ আরও পড়ুন ]