বাংলার ভোটে পাকিস্তানের নজর, মমতার প্রশংসায় প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূত আব্দুল বাসিত

বাংলার ভোটে  পাকিস্তানের নজর, মমতার প্রশংসায় প্রাক্তন পাক রাষ্ট্রদূত আব্দুল বাসিত

একটি প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমে কলম ধরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত। মমতার সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণা করে লেখেন, ''পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিদি ভারতের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দলকে এখনও পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখেছেন।'' আপাত দর্শনে এই পাক কূটনীতিক ইসলামাবাদে বসেই বাংলার ভোট নিয়ে একটা সামগ্রিক পর্যালোচনা করেছেন।

সেই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের সুখ স্মৃতি তুলে ধরেছেন আরব নিউজ নামে একটি সংবাদমাধ্যমে।  ইতিমধ্যেই বাংলার মাটিতে ভারতীয় জনতা পার্টিকে রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবের মতো নামজাদা রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। তার মাঝেই মমতার লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সমর্থনে দাবি করেছেন আব্দুল বাসিত।

অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দু'বার সাক্ষাত্‍ হয়েছে এই পাক কূটনীতিকের। তাও কলকাতায়। তখন নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত তিনি। ২০১৫ সালে প্রথম বার কলকাতায় এসেছিলেন বসিত। ১৮ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন তিনি। বসিতের কথায়, সেই প্রথম সাক্ষাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নম্র ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক বুদ্ধিও ও প্রজ্ঞাও তাঁর মনে ছাপ ফেলে।

তা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর জন্য কলকাতার স্পেশাল মটন বিরিয়ানি পাঠিয়েছিলেন হোটেলে।বসিত লিখেছেন, ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে শৈত্য চলছিল সে কথা মমতাকে জানিয়েছিলেন তিনি। কাশ্মীরে গিয়ে বসিত সেখানকার হুরিয়ত নেতাদের সঙ্গে সেবার দেখা করেছিলেন। তাই পাক সফর বাতিল করেছেন ভারতীয় বিদেশ সচিব। তার পর নয়াদিল্লি কঠোর অবস্থান নেয়।

বসিতের কথায়, তাঁরা ভাবতেও পারেননি কাশ্মীরি নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের ব্যাপারে নরেন্দ্র মোদী সরকার এমন কঠোর অবস্থান নেবে। পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত আব্দুল বাসিত আরও জানিয়েছেন, ''মমতা দিদি আমাকে তার রাজ্যে উন্নয়নের পরিকল্পনা ও দরিদ্র মানুষের জীবনের তফাত্‍ গড়ে দেওয়া নিয়ে তাঁর ভাবনা সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। তিনি আমার থেকে কলকাতা এবং করাচির মধ্যে সম্পর্ক ভালো করে পাকিস্তান ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার সম্ভাব্য পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করেন।''

প্রাক্তন পাকিস্তানি হাইকমিশনারের আরও বক্তব্য, ''আমি এখন ইসলামাবাদে বসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারে জিতলে তিনি টানা তিনবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। উনি একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে এখনও তার লড়াইটা জারি রেখেছেন। সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধিতার প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গ একটি কঠিন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। 

 

সেই রাজ্যের মানুষ তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে আগ্রহী। তবে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিছুটা কমেছে। আমি আশা করি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে নয়, বৃহত্তর দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।'' আরব নিউজে ফার্স্ট পার্সনে পাক কূটনীতিক আরও বলেছেন, বেশিরভাগ সেফোলজিস্ট বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার ক্ষমতায় ফিরবেন। তবে আগের থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট কমবে।  বসিতের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেতা উচিত। তিনিই সম্ভবত ভারতের একমাত্র রাজনীতিবিদ যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সত্যিকারের লড়াই লড়ছেন। কংগ্রেস ভারতে তার পায়ের তলার মাটি হারিয়ে ফেলেছে। নেতৃত্বের সংকটের জন্য তাদের ভবিষ্যতও খুব একলা আলকোজ্জ্বল মনে হয় না।