দলবদলের জল্পনায় প্রাক্তন ছাত্রনেতা নেতা কানহাইয়া কুমার

দলবদলের জল্পনায় প্রাক্তন ছাত্রনেতা নেতা কানহাইয়া কুমার

ছাত্র রাজনীতির আঙিনা পার করে সিপিআই-এর হয়ে ২০১৯ সালে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন কানহাইয়া। বিহারের বেগুসরাই কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে বিজেপি-র গিরিরাজ সিংহের কাছে হেরে যান। এ বার কি তিনিও গা ভাসাচ্ছেন দলবদলের স্রোতে? দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা তথা সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমার আচমকাই নীতিশ কুমারের ঘনিষ্ঠ নেতার সঙ্গে দেখা করলেন।   

এই নিয়ে রীতিমত জল্পনা শুরু হয়েছে পাটনায়। কারণ কানহাইয়ার সঙ্গে তাঁর দল সিপিআইয়ের বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যা চলছে। সেই পরিপ্রক্ষিতে বিহারের মন্ত্রী অশোক চৌধুরীর সঙ্গে কানহাইয়ার এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নীতিশ কুমারের একেবারে ঘনিষ্ঠ অশোক। বিহারে রীতিমত কানঘেষে সরকারে এসেছে এনডিএ। তারপর শক্তিবৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন ছোটো দল থেকে বিধায়ক ভাঙিয়ে নিয়ে আসার কাজটি নিপুণ ভাবে করছেন অশোক চৌধুরী।

হালে যোগ দিয়েছেন বিএসপি বিধায়ক যামা খান ও নির্দল বিধায়ক সুমিত সিং। দুজনেই মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেয়েছেন। এলজেপি-র যে একজন বিধায়ক আছে, তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন অশোক। এর মধ্যেই কানহাইয়ার সঙ্গে তাঁর বৈঠক। হালে কানহাইয়ার সঙ্গে তাঁর দলের সম্পর্ক ভালো নয়। গত লোকসভা ভোট থেকেই সম্পর্কে অবনতি হয়েছে।

সেটা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে দলের জাতীয় কমিটি তাঁকে সেনসার করার পর। দলের এক নেতার ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কানহাইয়া ও তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।  দলবদলের স্রোতে এ বার কি তিনিও গা ভাসাচ্ছেন? দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা তথা সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমার। 

সূত্রের খবর, গত ১ ডিসেম্বর হায়দরাবাদ সিপিআইয়ের অফিস সচিব ইন্দু ভূষণ পটনা সফরে এলে কানহাইয়া তাঁর সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করেন বলে অভিযোগ। তার জেরে হায়দরাবাদ সিপিআই-এ কানহাইয়ার বিরুদ্ধে ‘কড়া পদক্ষেপ’ করার জন্য প্রস্তাবও পাশ হয়। তার পর থেকেই দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কানহাইয়ার সম্পর্ক ক্রমশ ‘তিক্ত’ হয়েছে।

শুধুমাত্র দলীয় নেতারাই কানহাইয়ার উপর ‘রুষ্ট’ নন, ছাত্র রাজনীতিতে একসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যাঁদের সঙ্গে লড়াই করেছেন, তাঁদের একটা বড় অংশও কানহাইয়ার প্রতি ‘অসন্তুষ্ট’ বলে জানা গিয়েছে। কারণ ছাত্র রাজনীতি থেকে মূলস্রোতের রাজনীতিতে পা রাখার এই দীর্ঘ সময়ে লাগাতার নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনায় সরব হলেও, গত এক বছর যাবৎ তাঁর নীরবতা চোখে পড়ার মতো।

অর্থনৈতিক সঙ্কট, এক সময়ের সতীর্থ উমরের গ্রেফতারি, কৃষি আন্দোলন, একের পর এক সমাজকর্মীর গ্রেফতারি, কোনও কিছু নিয়েই সাম্প্রতিক কালে সে ভাবে মুখ খুলতে দেখা যায়নি তাঁকে। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে টুইট করে গেলেও আগে যেমন একেবারে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যেত তাঁকে, তা চোখে পড়েনি।

এমনকি বাম শিবিরের নেতারা দফায় দফায় দিল্লি সীমানায় আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে দেখা করলেও, এক বারও সেখানে দেখা যায়নি কানহাইয়াকে। জেএনইউয়ের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেও তাঁকে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু কারও ডাকেই সাড়া দেননি তিনি। তাই সব মিলিয়ে কানহাইয়ার দলবদলের জল্পনা আরও বেশি করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।