সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বাতের ব্যথায় অব্যার্থ কাজ করে সুগন্ধি ও চিরসবুজ ফুল নাগকেশর

সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বাতের ব্যথায় অব্যার্থ কাজ করে সুগন্ধি ও চিরসবুজ ফুল নাগকেশর

নাগকেশর এক প্রকার সপুষ্পক বৃক্ষ,অত্যন্ত সুগন্ধযুক্ত এবং চিরসবুজ একটি ফুল নাগকেশর। নাগকেশর গাছ প্রায় ৩০ মিটার লম্বা হয়। এই গাছের ডাল বেশ নরম এবং প্রস্থচ্ছেদ গোলাকার। এর কাঠের রঙও হালকা লাল। এবং এই গাছ  বেশ শক্ত এবং পত্রবহুল। পাতা গাঢ় সবুজ। এই গাছে সুগন্ধযুক্ত ছোটো ফুল হয়। ফুল উভয় লিঙ্গিক। পাপড়ি হলদেটে লাল।পুংকেশর অনেকগুলো এবং সোনালি রঙের।ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাসে ফুল ফোটে । সেপ্টেম্বর মাসে ফল হয়।বিশেষত পূজা পার্বণে এই ফুল ব্যবহৃত হলেও সুস্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী নাগকেশর ফুলের উপাদান। পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে এই ফুল চাষ করা হয়। এই ফুল শুধু তার রুপের জন্যই না বিশেষ স্বাস্থ্যগুন সপন্ন এই ফুল।এই ফুল কাজে লাগে আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করতে। এছাড়াও এই ফুলের অনেক উপকারিতা রয়েছে , জেনে নিন সেগুলো  ……

 

এই ফুলের গুড়ো রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। দেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি খুব উপকারী। রক্তের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এই ফুলের পাউডারের সাথে চিনি মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে ,এবং এই কাজগুলি হয় কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং উপকারী  হলেও  সেবনের আগে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  অনেকেই আছেন যাদের ঘন ঘন হেঁচকি ওঠে , ক্রমাগত হেঁচকি ওঠা থামাতে সাহায্য করে নাগকেশর ফুল।দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য  আঁখের রসের সাথে নাগকেশর ফুলের পাউডার মিশিয়ে খান। 

 

 বাতের ব্যথা, হাঁটুর গাঁটে ব্যথার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। তাই ডাক্তারের দেওয়া ওষুধের সাথে প্রতিদিন এই ফুলের গুঁড়ো জলে মিশিয়ে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে। একই সাথে কৃমি দূর করতে, অম্বল, বমি ভাব দূর করতে সাহায্য করে।

 বর্ষাকালে আমাদের প্রায়শই সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি লেগে থাকে এই শরীর খারাপ থেকে চটজলদি সারিয়ে তোলে এই ফুল। এই ফুলে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড,  সিলোস্টেরল, মেসুয়ানিক অ্যাসিড ইত্যাদি নানান উপকারী উপাদান।