ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফোসকার জ্বালা থেকে মুক্তি পান

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফোসকার জ্বালা থেকে মুক্তি পান

আজবাংলা    আমাদের ত্বক কোথাও ঘষা খেয়ে খুব সহজেই ফোসকা পড়তে পারে। এছাড়া গরম, ঠান্ডা ও কেমিক্যালের সংস্পর্শেও ফোসকা ওঠতে পারে। ফোসকা ওঠার আরেকটি কারণ হলো পোকামাকড়ের কামড়ের প্রতি অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন। কিছু স্বাস্থ্য সমস্যাও ফোসকার প্রকাশ ঘটাতে পারে।

যেমন- কোল্ড সোর, চিকেনপক্স, একজিমা, জেনিটাল হার্পিস, স্ক্যাবিস, স্কুল সোর, হ্যান্ড ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ, ডায়াবেটিস ও অটোইমিউন ব্লিস্টারিং ডিসঅর্ডার। শরীরের যেকোনো স্থানে ফোসকা ওঠতে পারে, তবে হাতে-পায়ে বেশি দেখা যায়।

পায়ের ফোসকা প্রসঙ্গে বোস্টনে অবস্থিত বেথ ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিক্যাল সেন্টারের পিডিয়াট্রিক সার্জনের প্রধান জন গিউরিনি বলেন, ‘সাধারণত জুতা অথবা ভূমিপৃষ্ঠে ঘষা খেয়ে পায়ে ফোসকা ওঠে থাকে। সমস্যাটি এড়ানোর কিছু উপায় রয়েছে, যেমন- খালি পায়ে না হাঁটা, টাইট জুতা না পরা, পায়ে ফিট হয়েছে এমন জুতা পরা এবং দীর্ঘপথ না হাঁটা (বিশেষ করে নতুন জুতা পরলে)।’

আসুন আজকের প্রতিবেদনে দেখে নেব কি করে ফোসকা ওঠলে তা সারাতে ঘরে কি করতে পারি আমরা-

১. অ্যালোভেরা জেল:  অ্যালোভেরাতে প্রদাহ প্রশমনকারী উপাদান রয়েছে। তাই ফোসকাতে অ্যালোভেরা জেল লাগালে লালতা ও ফোলা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথম ও দ্বিতীয় মাত্রার পোড়া সারিয়ে তুলতে অ্যালোভেরা জেল খুবই কার্যকর। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এটা ফোসকার চিকিৎসায়ও কার্যকর হতে পারে।

২. বাতাসের সংস্পর্শে রাখা:  ফোসকাকে পরিষ্কার পরিবেশে বাতাসের সংস্পর্শে রাখলে দ্রুত সেরে ওঠে। ঘরে থাকলে ব্যান্ডেজ খুলে ফেলুন- এতে ফোসকাটিতে বাতাস লেগে শুকানোর সুযোগ পাবে। সংক্রমণ এড়াতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অয়েন্টমেন্টের পাতলা লেয়ার দিতে পারেন, বিশেষ করে ফোসকাটি ফেটে গেলে।

৩. ঢেকে রাখা: ফোসকাতে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলে ঘর্ষণের মাত্রা কমবে ও উক্ত্যক্তকারী সংস্পর্শ থেকে রক্ষা পাবে। একটি ব্যান্ডেজের আঠালো প্রান্তদ্বয়কে পাশাপাশি এমনভাবে লাগিয়ে নিন যেন প্যাডের অংশটি ফোসকার ওপর উঁচু হয়ে থাকে।অর্থাৎ ব্যান্ডেজ দিয়ে ফোসকাকে এমনভাবে ঢেকে দিতে হবে যেন তা তাঁবুর মতো দেখায়। এই ঘরোয়া উপায়টি ফোসকাকে ঘর্ষণ, নোংরা বা জীবাণুযুক্ত কিছু থেকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি বাতাস চলাচলও নিশ্চিত করে।

৪. ফেটে ফেলা:  প্রয়োজনে ফোসকাকে ফেটে ফেলতে হবে। বিশেষ করে ফোসকাটি বড় হলে অথবা অস্বস্তিকর স্থানে ওঠলে। ফোসকাকে ফাটতে একটি সুইকে জীবাণুমুক্ত করুন।তারপর ফোসকাটিকে ফেটে অ্যালকোহল দিয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। বাইরে বের হতে জুতা পরতে হলে ক্ষতস্থানটিকে ঢেকে ফেলুন। ঘরে থাকলে ক্ষতস্থানটি খোলা রাখুন, দ্রুত শুকাবে।

৫. আপেল সিডার ভিনেগার:  মাথায় রাখবেন, আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহারে জ্বালাপোড়া করতে পারে। কিন্তু ফোসকার চিকিৎসা হিসেবে এটা প্রয়োগ করতে পারেন। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি রয়েছে। আপেল সিডার ভিনেগারকে স্বল্পমেয়াদে টপিক্যাল ট্রিটমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়।কিন্তু ইতোমধ্যে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়ে গেলে এটা ব্যবহার করবেন না। তুলাকে আপেল সিডার ভিনেগারে ভিজিয়ে ফোসকাতে প্রয়োগ করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপেল সিডার ভিনেগার নরম টিস্যুকে শক্ত করে ফেলতে পারে।