কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করুন চিরকালের জন্য, রইল সমাধান

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করুন চিরকালের জন্য, রইল সমাধান

আজবাংলা   আপনি কি নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন? অনেকেই প্রায় নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষেরা। গর্ভবতী নারীদেরও এটা একটা সমস্যা। কোষ্ঠকাঠিন্যের ভয়ে তারা অনেক কিছুই খেতে ভয় পান। 

কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা যেখানে আপনার মলত্যাগ করতে সমস্যা হয় এবং খুব ঘন ঘন এই সমস্যা দেখা দেয়। আসুন এবারে দেখে নেওয়া যাক, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তির রাস্তা।

১. পপকর্ন-  পপকর্ন যে কতটা স্বাস্থ্যকর খাবার তা আমাদের জানা প্রয়োজন। আর পপকর্নে যে ফাইবার থাকে তার কারনে খাদ্য তালিকায় পপকর্ন রাখা উচিত। সাবধান, মাখনে ভরা ফ্যাটি পপকর্ন খাবেন না। পপকর্নে থাকা ফাইবার উপাদান কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক উপকারি।

২. বেলের সরবত-  বেলের সরবতও অনেক উপকারী। ৩০-৩৫ গ্রাম পাকা বেলের শাঁস প্রতিবারে ১ গ্লাস জলে শরবত তৈরী করে দিনে ২ বার সেবন করতে হবে। এভাবে কমপক্ষে ৫-১০ দিন বেলের সরবত পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যাবে।

৩. পালং শাক-  এক কাপ সেদ্ধ পালং শাকেই থাকে চার গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও থাকে ১৫০ মিলিগ্রামের বেশি ম্যাগনেসিয়াম, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পালং শাকের ভূমিকা অপরিসীম।

৪. আপেল- আপেলের খোসার মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার যা খাবার হজমের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়াও আপেলের প্যাক্টিন নিশ্চিত করে পরিপাকতন্ত্রের সঠিক কর্মক্ষমতা। সবচাইতে ভালো ফলাফল পেতে প্রতিদিন খালি পেটে অন্তত ১ টি আপেল খেতে হবে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আপেলের উপকারিতা অনেক।

৫. কলা কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে অনেক সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া কলা পটাশিয়াম বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে কলার অবদান অপরিসিম।

৬. ত্রিফলা- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ত্রিফলা কার্যকরী। ত্রিফলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এছাড়া এটি হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ও বদহজম জনিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ১চা চামচ ত্রিফলা পাউডার ১গ্লাস গরম জলে বা গরম দুধে ভালভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে তা নিয়মিত পান করতে হবে। এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

৭. গাজর-  এই অত্যন্ত সুস্বাদু সবজিটি প্রক্রিতিক ডায়াটেরি ফাইবারের বেশ ভালো উৎস। মাত্র আধা ইঞ্চির ৭ খণ্ড গাজরে রয়েছে প্রায় ১.২ গ্রাম ফাইবার। প্রতিদিন গাজর খাওয়ার অভ্যাস কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকে দূরে রাখবে চিরকাল।

৮. টকদই-  কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে টকদইয়ের তো তুলনায় নেই। টকদইয়ের প্রোবায়োটিক গুণাগুণ আপনার হজমের সমস্যাকে দূর করতে অনেকাংশে সাহায্য করে। এমনকি নিয়মিত টকদই খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য হবার সম্ভাবনা থাকবেই না।

৯. ইসুপগুলের ভুষি-  ইসুপগুলের ভুষি জলের সাথে মিশিয়ে খেলে যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমাধান হয় এটা প্রায় সবাই জানেন। তবে খেতে হবে নিয়ম মতো। অনেকেই ইসুপগুলের ভুষি জলে ভিজিয়ে রাখেন এবং পরে খান। এতে আসলে উপকার হয় না। জলে দিয়ে সাথে সাথেই খেয়ে ফেলতে হবে।

১০. শসা-  শসার বেশীরভাগ অংশই জল দিয়ে তৈরি, আর শসার ডায়াটেরি ফাইবার শসাকে করে তোলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার মহৌষধ। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করতে সক্ষম নিয়মিত শসা খাওয়ার অভ্যাস থেকে।