রাজ্যে ব্যতিক্রমী নদীয়ার গিরি বাবুর চায়ের দোকান

রাজ্যে ব্যতিক্রমী নদীয়ার গিরি বাবুর চায়ের দোকান

মলয় দে   মাজদিয়া:-   মান্নাদের কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই! তবে মইদুল ডিসুজা না থাকলেও পরিবেশ খানিকটা একই আছে কফি হাউজে। কিন্তু বাংলার চায়ের দোকান গুলি? তার পরিবেশ নিশ্চয়ই আপনাদের বোঝাতে হবেনা। চায়ের দোকান মানেই অপ্রাসঙ্গিক বিষয়, কটুক্তি কুকথা পরনিন্দা পরচর্চা জায়গা! কিন্তু আজ এমন একটি চায়ের দোকানে আপনাদের নিয়ে যাবো, যেখানে আপনি ভারতবর্ষের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অনেকটাই জানতে পারবেন!

ছোটোদেরও নিয়ে আসুন! না..... না...... কথা দিচ্ছি বখাটে তৈরি হবে না, অশ্রাব্য গালিগালাজ শিখবে না, বরং দেশবরেণ্য দের সম্পর্কে জ্ঞানের পরিধি বাড়বে। ভাবছেন ! এও আবার সম্ভব নাকি? তাহলে চলুন ঘুরে আসি নদীয়ার  কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়া স্টেশনে গিরিধর বিশ্বাসের ব্যতিক্রমী চায়ের দোকানে। এই চায়ের দোকানে চা খেতে আসলে অনেক অজানা তথ্য জানা যাবে ।যেমন স্বাধীন ভারত বর্ষে 1947 সাল থেকে 2021 পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধান মন্ত্রী ও রেল মন্ত্রীদের কার্য কালের সময় ও নাম পাওয়া যাবে ।

তেমনি পাওয়া যায় কুইজ প্রতিযোগিতা । অনেকেরই বাঁধানো ছবি এই দোকানে যথাযোগ্য সম্মানের স্থান পেয়েছে । আর গোটা চায়ের দোকানটা যেনো রাজনৈতিক অভিধান । সেখানে আধুনিক সিরিয়ালের কুটকাচালি পারিবারিক কোন্দল দেখানোর টিভি নেই ঠিকই। কিন্তু গিরিবাবু ব্যতিক্রমী নানান রকম পত্রপত্রিকা দৈনিক সংবাদপত্র খরিদ্দারের সুস্থ স্বাভাবিক মানসিকতা গড়ে তোলার  জন্য তার আয়োজনের সমাহারে ভাটা পড়েনি কখনো। শুধু তাই নয় প্রত্যেক  মনীষীর জন্ম মৃত্যু দিন তিনি পালন করে থাকেন 5 টাকায় বিক্রি করা চায়ের লভ্যাংশ থেকে।

ব্যবসায়িক স্বার্থে কঠোরভাবে ধূমপান নিষিদ্ধ লেখা না থাকলেও, দোকানের মধ্যে কখনোই নয়। তিনি বলেন অনেক ছাত্র ছাত্রী , চাকরিজীবী , শিক্ষক ছাড়া সব ধরণের মানুষ আসেন আমার চায়ের দোকানে যারা আসেন  তারা ছোট্ট দোকান থেকে কিছুনা কিছু শিক্ষা নিয়ে যান ।সবাই এই কাজের ভুয়সী প্রশংসা করেন ।এখন প্রশ্ন কে এই গিরিবাবু? গ্রামের বাড়িতে বাস করতেন, মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবারে বাস ।

হঠাৎ একদিন ডাকাতি হয়ে গেল বাড়িতে । প্রচন্ড মারধোর করে  সর্বোস্ব নিয়ে যায় ডাকাতরা ।ফলে মারাত্মক যখম অবস্থায় ভর্তি হন কলকাতার নীলরতন মেডিকেল হসপিটালে । ডাকাতির ফলে পরিবার হয়ে যায় নিঃস্ব । আর ছোট বেলা থেকেই গিরি বাবুর চায়ের নেশা ছিলো এইঅসুস্থ অবস্থায় কলকাতায় পয়সার অভাবে এক দিন কোন দোকানদার চা দেয়নি তাকে খেতে । সেই দিনের সেই ঘটনার পর তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন  আমি সুস্থ হয়ে একটা আদর্শ চায়ের দোকান গড়ে তোলার ।আজ  চায়ের দোকানে  23 বছরে পড়লো ।

যেসমস্ত ভিখারী ,গরিব  ও অসহায় মানুষ পয়সার অভাবে চা কিনতে পারে না তাদের কে আমি বিনাপয়সায় চা খাওয়াই ।আজ মাজদিয়া স্টেশন আলোকিত করে রয়েছে গিরি বাবুর চায়ের দোকান । এমনকি করোনা আবহে তখন চায়ের দোকান বন্ধ ছিল তখনও গিরি বাবু বাড়ি থেকে চানিয়ে এসে অসহায় মানুষ দের খায়িযেছেন নীজের  জীবনের সেই কথা ভেবে ।

আর কথা বলতে গিয়ে চোখ বেয়ে পরে জল ।আজ সেদিনের চাখেতে না পাওয়া গিরি বাবু তার দোকানে সারা ভারতকে হাজির করেছেন। তাইতো ছাত্র ছাত্রীরা এই চায়ের দোকান দেখতে উৎসুক হয়ে খাতায় নোট করে নিয়ে যায় সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য ,যা ওদের কাজে লাগে ।গিরিবাবু বলেন অনেক কষ্ট করে মনীষীদের ও মন্ত্রীদের ছবি আমার চায়ের দোকানে লাগাতে পেরে আমি মানসিক ভাবে খুশি ।গিরি বাবুর এই উদ্যোগ কে সকলেই স্বাগত জানান । আমাদের সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে গিরি বাবুর এই উদ্যোগ কে কুর্নিশ জানাই।