জগন্নাথদেবকে এই ভাবে তুষ্ট করলে পাওয়া যায় সুখ, শান্তি

জগন্নাথদেবকে এই  ভাবে তুষ্ট করলে পাওয়া যায় সুখ, শান্তি

 রথযাত্রার নির্মল প্রবাহে মন্ত্র বা স্তব সহযোগে জগন্নাথকে বন্দনা করা যায়। জীবন ও জগতের ধারাপাতে জগন্নাথদেব অর্থ, সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক হয়ে যুগযুগ ধরে বিরাজিত। মানুষের জীবনপ্রবাহে জগন্নাথদেব যেন লক্ষীশ্রীর আধার। রথযাত্রার দিন শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদ শিরে ধারণ করে তাঁর উপাসনা করলে জীবনরথটিকেও সুন্দর ছন্দময় করে তোলা সম্ভব। পুরীর রাজা সেখানে উপস্থিত থাকেন। সাত দিন পরে শ্রীমূর্তি ফের মন্দিরে প্রবেশ করে। এ দিনকে বলা হয় পুনর্যাত্রা। পুরীতে রথের উৎসব উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ লোকের সমাগম হয় এবং ১৫ দিন ধরে চলে রথের মেলা। মানুষের জীবনে সব উৎসবেরই মূল ভিত্তি হল মানুষের সুখে থাকা, সমৃদ্ধিতে থাকা ও শান্তিতে থাকা।

অর্থ বৃদ্ধির জন্য রথের দিন ঠাকুরের আসনে একটি সুন্দর হলুদ কাপড় রাখতে হবে। ওই কাপড়ের ওপর এগারোটি কড়ি রাখতে হবে, কড়িগুলোর ওপর কেশরের টিপ দিতে হবে। এরপর অর্থ বৃদ্ধির জন্য সারা রাত ওগুলো ঠাকুরের আসনে রেখে দিতে হবে। পরের দিন কড়িগুলো ওই হলুদ কাপড়ে বেঁধে ক্যাশ বাক্স অথবা টাকা-পয়সার জায়গায় রেখে দিতে হবে। তা হলেই ক্রমাম্বয়ে আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটবে। আপনার কোনও বিশেষ মনস্কামনা পূরনের জন্য রথের দিন এটা অবশ্যই করুন। এগারো রকমের ফল একটি করে, এগারোটি মিষ্টি, এগারোটি এক টাকার কয়েন একটি হলুদ কাপড়ে মুড়ে নিন। সকাল আটটার আগে এই ক্রিয়া করুন।

এই হলুদ কাপড়ের মোড়কটি নিয়ে কোনও জগন্নাথ মন্দিরে অথবা রথযাত্রা হয় এমন কোনও মন্দিরে কিংবা তাও যদি না পাওয়া যায় তবে কোনও রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে বা কৃষ্ণ মন্দিরে মূর্তির সামনে বসিয়ে রেখে নিন। বাবা জগন্নাথের উদ্দেশে প্রার্থনা করুন ও নিজের মনের কথা বলুন। আপনার মনস্কামনা কিছু দিনের মধ্যেই শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। শ্রীবলভদ্রকে ছাড়া জগন্নাথদেবের রথযাত্রা ও উৎসব পূর্ণতা পায় না। বলভদ্র যেন জগন্নাথের সঙ্গী এবং মৌলিকতার অধিষ্ঠানে প্রাণময় সোপান, সেখানে জীবন আঙিনার দ্যোতনা পরিপূর্ণ। পরমপবিত্র ক্ষেত্র শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধাম। নিজের পাপে ও তাপে জর্জরিত হলে সেই অনুতাপ ও অনুশোচনা থেকে মুক্তির জন্য শ্রী শ্রী জগন্নাথ ধামে এলে পরম প্রশান্তি এবং পাপ মোচন হয়। এ সব গল্প কথা নয় বরং বাস্তবের বিমূর্ত অধ্যায়। জগন্নাথদেবের তীর্থক্ষেত্রে সব মানুষ আসে প্রিয়ময় উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা সঙ্গে করে। এবং সমুদ্রস্থান, প্রকৃতি দর্শন, জগন্নাথ দর্শন ও অপরাপর মন্দির দর্শন করে মনোমন্দির অপূর্ব তৃপ্তিতে ভরিয়ে নেয় যা প্রকৃতই প্রাপ্য।

 সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য জগন্নাথের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রার্থনা করে চলা। ঘরে জগন্নাথের মূর্তি থাকলে তার সামনে বা নারায়ণের সামনে এই ব্রত করা চলে। একটি পেতলের বাটিতে কিছু আতপ চাল নিয়ে, তার ওপর দুটো গোটা হলুদ ও এক টাকার কয়েন দিয়ে আত্মসুখ ও সমৃদ্ধির জন্য ভক্তিভরে ধ্যান করতে হয়। বাটিটা জগন্নাথের সামনে রথযাত্রার দিন রেখে দিতে হবে এবং উল্টোরথের দিন বা তার পরের দিন চাল, হলুদ ও পয়সা কোনও ব্রাক্ষ্মণ বা সৎ ভিক্ষুক বা কোনও মন্দিরে দিয়ে আসতে হবে। মানুষ শান্তির জন্য সর্বত্র ছুটে বেড়ায়। অশান্তি দূর করতেও জগন্নাথদেব অনন্য। হতাশা, দুঃখ, মানসিক ব্যথা দূর করতে এবং আনন্দ ও মানসিক শান্তি পেতে জগন্নাথদেবের ওপর নির্ভরতা অপরিমেয়। শান্তি পাওয়ার পদ্ধতিটি হল- তুলসী নারায়ণের খুব প্রিয়। তাই জগন্নাথদেবকে রথযাত্রার সময় এটা দিন। একশো আটটি তুলসী পাতার মালা তৈরি করে জগন্নাথদবের গলায় পরিয়ে দিন। একশো আটটি তুলসী পাতা দিয়ে তৈরি করতে না পারলে চুয়ান্নটি পাতা দিয়ে মালা তৈরি করলেও হবে। তুলসী পাতা ফুটো করতে নেই, তুলসীপাতার ডাঁটিতে বেঁধে বেঁধে মালা তৈরি করুন।

এ বার এই মালা জগন্নাথদেবের মন্দিরে বা যে মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয় সেই মন্দিরে অথবা বিষ্ণু মন্দিরে বা রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে দিয়ে আসুন। ঘরে যদি জগন্নাথদেবের ছবি বা মূর্তি থাকে তবে তাতেও এই মালা দিতে পারেন। জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার এক সঙ্গে যে ফটো পাওয়া যায় তাতেও দিতে পারেন। তারপর নিজের মনের কষ্ট বলুন, দেখবেন সাফল্য পাবেন। মনে শান্তি ফিরে পাবেন। সুভদ্রা, বলরাম ও জগন্নাথ দর্শনে সবার মন অনন্ত সুখ ও শান্তিতে ভরে ওঠে। রথের দড়ির স্পর্শ মানে মানুষের জীবনে গতি ও জীবন জোয়ারের আনন্দ। জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসবের মধ্যে প্রাণের স্পন্দন ও আকূলতার পূর্ণ নিদর্শন বর্তমান।

রথের দড়ি টানা, নানা আচার ও অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে তারই প্রবাহধারার প্রমাণ পাওয়া। সুভদ্রার অনুধ্যান ব্যতীত রথযাত্রার পূর্ণতা ঘটে না। মূলত পুরীর রথযাত্রা ত্রৈয়ী আধারের বিমূর্ত প্রকাশ। জগন্নাথদেবের পূজারী হলেন শবরশ্রেণির মানুষ। তারা জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সম ভাবে আরাধনা করেন পূর্ণ ভক্তির মাধ্যমে। ভগবানকে শুদ্ধ চিত্তে, নিষ্ঠাভরে ভজন করলে অতি সহজেই তাঁর কৃপা লাভ করা যাবে এবং মনে শান্তি বিরাজ করবে। প্রবাহমানতা, নির্মলতা, গতিময়তা, সুস্বাস্থ্য এবং অনন্য অনাবিল সুন্দরের প্রতীক রথযাত্রা। যেখানে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মঙ্গল স্পর্শে মানবকূলের পূর্ণতা প্রাপ্তি হয়। মূলত উন্নতি, গতি ও রূপান্তরের আলেখ্যে সুষম সন্নিধান ঘটে মানুষের প্রদীপ্তময় উজ্জ্বলতার তীর্থে। যেখানে রথযাত্রা জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং সুভদ্রার সংসর্গে অর্থ, সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির প্রতীক হয়ে প্রতীয়মান রয়।