শুক্রবার জয় সন্তোষী ব্রত পালনেই সংসারে ফিরবে সুখ-শান্তি! হবে সমৃদ্ধিও

শুক্রবার জয় সন্তোষী ব্রত পালনেই সংসারে ফিরবে সুখ-শান্তি! হবে সমৃদ্ধিও

 সন্তোষী দেবী (Santoshi Maa) হলেন অধিষ্ঠাত্রী দেবী। উত্তর ভারত, নেপালের মহিলারা সন্তোষী দেবীর পুজো করে থাকেন। তবে এই ব্রত এখন অনেকেই পালন করেন। বাঙালি ঘরে ঘরেও পূজিতা হন এই দেবী। পৌরাণিক মতে তিনি গণেশের কন্যা। গণেশের দুই ছেলে শুভ আর লাভের ইচ্ছে হল বোনের হাতে রাখী পরবেন।

কিন্তু গণেশের কোনও কন্যা ছিল না। পুত্রদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে এক কন্যার সৃষ্টি করলেন গণেশ। তাঁর হাতে রাখী পরলেন শুভ আর লাভ। দাদাদের মনের ইচ্ছে পূর্ণ করলেন বলে তাঁর নাম হল সন্তোষী। এই দেবী পূজিতা হন দুর্গার অবতার রূপেও । ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ করে সন্তুষ্টি দেন। তাই তিনি সন্তোষী (Santoshi Maa) । দেবীর হাতে তরবারি, চালের সোনালী পাত্র, ত্রিশূল।

দেবীর জন্ম হয়েছিল শুক্রবারের পূর্ণিমা তিথিতে। তাই সন্তোষী মায়ের পুজোর জন্য শুক্রবার দিনটি শ্রেষ্ঠ। ইনি চতুর্ভুজা ও রক্তবস্ত্র পরিহিতা। নিজের চারটি হাতের দুটিতে ত্রিশূল, ও তলোয়ার ধারণ করেন। বাকি দুটি হাতে বরাভয় ও সংহার মুদ্রা ধারণ করেন। এই দেবীর ত্রিশূল পাত, তিনটি গুণ যথা- সত্ত্ব, রজঃ, তম এর প্রতীক, আর তলোয়ারটি জ্ঞানের প্রতীক।

সন্তোষী দেবীর (Santoshi Maa) পুজোতে কোনরকম টক বস্তু বা আমিষ দ্রব্য প্রদান করা যায় না। এই পুজোয় সরষের তেল ব্যবহার করা যায় না, ঘি এর প্রয়োজন হয়। শুক্রবারে স্নান সেরে পরিষ্কার কাপড়ে মায়ের পুজো করতে হয়। ঘট স্থাপন করতে হয় ঘটের উপর বট, কাঁঠাল, পাকুড় পল্লব দিতে হয়।

আম্রপল্লব দিতে নেই। সব রকম ফল চলে। তবে, বেলপাতা আবশ্যক। গোটা ফল হিসাবে কলা দেওয়া যায়। শুক্রবার যিনি ব্রত করবেন, তাকে সারাদিন উপবাস থাকতে হয়। দুধ, ছোলা দিয়ে আলু দিয়ে ভেজে মিষ্টি ফল, জল গ্রহণ করবেন। ১৬ শুক্রবার ব্রত উদযাপন করতে হয়। উদযাপনের দিন ৭ জন বালক কে ভোজন করাতে হয়। ছানা থেকে তৈরি কোনো মিষ্টি মাকে দেওয়া যায়না।

উদযাপনের দিন মায়ের কাছে একটি নারকেল ফাটিয়ে নারকেলের জল মায়ের চরণে দিতে হয়। নারকেল মায়ের সামনে ফাটাবেন, এক আঘাতে। এইভাবে সন্তোষী মায়ের ব্রত পালন করলে তাঁর কৃপায় আপনার জীবনে সুখ শান্তি ফিরে আসবে। পুজোর জন্য যা লাগবে সন্তোষী দেবীর ছবি,

ব্রতকথার বই, ঘট, পানপাতা, ফুল,কর্পূর, ধূপকাঠি, প্রদীপ, ঘি বা তেলে পূর্ণ,হলুদ,সিঁদুর, ঘটে রাখার জন্য ফল, মূলত নারকোল বা কলা, হলুদ মেশানো আতপ চাল ছোলা, গুড় আর কলা হল প্রসাদ পুজো পদ্ধতি শুক্রবার সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার বসনে দেবীর সামনে ঘট প্রতিষ্ঠা করুন। ঘটে গঙ্গাজল, বা গঙ্গাজল না পেলে এমনি পরিষ্কার জল দিয়ে পূর্ণ করুন।

ঘটের উপর ফল রাখুন। প্রসাদ হিসেবে দিন ছোলা, গুড় এবং কলা। প্রথমে গণেশ এবং ঋদ্ধি ও সিদ্ধির পুজো করুন। তারপর সন্তোষী দেবীর ব্রতকথা পাঠ করুন। পাঠ শেষে শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিতে হয়। প্রণাম করে বলুন, 'জয় সন্তোষী মা!' এরপর আরতি করুন। শান্তির জল ছিটিয়ে দিন বাড়ির সর্বত্র।প্রসাদ বিতরণ করে ওই প্রসাদ দিয়েই ভঙ্গ করতে পারেন উপবাস। বা সারাদিনও রাখতে পারেন উপবাস। শুক্রবার সন্তোষী দেবীর আবির্ভাবের দিন বলে ওইদিন এই পুজো পালিত হয়। কোনও তিথি নক্ষত্রের বিধিনিষেধ নেই। যেকোনও বয়সী নারীপুরুষ এই ব্রত পালন করতে পারেন।

ব্রতপালনের একটাই মূল শর্ত হল, যিনি পালন করবেন, সেই ব্রতী এদিন টকজাতীয় কিচ্ছু খেতে পারবেন না। নিজের পরিবারে না থাকলে পরিচিতদের থেকে নিমন্ত্রণ জানানো যায় বালকদের | ভোজনের পরে তাদের বস্ত্র, ফল এবং দক্ষিণা দিতে পারেন।প্রসাদেও টক খাবার যেন কিছু না থাকে। সন্তোষী ব্রত মন্ত্র- "ওঁ শ্রী সন্তোষী মহামায়ে গজানন্দম দায়িনী শুক্রবার প্রিয়ে দেবী নারায়নী নমস্তুতে"