শিক্ষক বদলি নিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ

শিক্ষক বদলি নিয়ে  হাই কোর্টের নির্দেশ

শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কারণই নয়, এবার থেকে বাড়ি ও স্কুলের মধ্যের দূরত্বও একজন শিক্ষক বা শিক্ষিকার বদলির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একাধিক মামলায় উঠে এসেছে এই দূরত্বের প্রসঙ্গ। এনিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি জানালেন, শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতা বদলির কারণ হতে পারে না।

দূরত্বও বদলির অন্যতম কারণ। একাধিক মামলার একটিতে দূরত্বের কারণে শিক্ষিকার বাড়ির কাছের কোনও স্কুলে ভরতির বিষয়টি এক মাসের মধ্যে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। অন্য একটি ক্ষেত্রে, দূরত্বের কারণ সত্বেও কেন শিক্ষিকার বদলির সুযোগ দেওয়া হয়নি তা জানতে সার্কুলার পরিদর্শকের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)।  

এদিন মামলাকারীর আইনজীবী অঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, বারাসাত নবপল্লীর বাসিন্দা সুস্মিতা মিত্র গত ২৯ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষিকা হিসেবে হিঙ্গলগঞ্জ মাধবকাটি জুনিয়ার স্কুলের শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় দূরত্ব। রোজ ‌একশো থেকে দেড়শো কিলোমিটার যাতায়াতে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ওই শিক্ষিকা।

বার বার আবেদনের পরেও আজ পর্যন্ত ওই শিক্ষিকাকে কেন বদলির জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়া হয়নি, আদালতে হিঙ্গলগঞ্জের স্কুল পরিদর্শককে হাজির হয়ে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ মে।  হাওড়ার উলবেরিয়ার বাসিন্দা শিক্ষিকা অদিতি রায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা ডায়মন্ডহারবারের দক্ষিণ কাশিয়াবাদের একটি স্কুলের শিক্ষিকা।

রোজ একশো কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে তাঁকে স্কুলে যেতে হয়। এক্ষেত্রেও দূরত্বের নিরিখে কাছাকাছি কোনও স্কুলে বদলির বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এছাড়াও বর্ধমানের সংস্কৃতের শিক্ষিকা স্নিগ্ধা দত্তর বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুলে পৌঁছে ক্লাস সেরে ফের রাতে বাড়ি ফিরে আসতে রোজ ২৮৪ কিলোমিটার পথ যাতায়াত করতে হয়। ২০১৮ সাল থেকে এভাবেই স্কুল চালিয়ে যাচ্ছেন চান্ডুলের বাসিন্দা স্নিগ্ধা দত্ত।

হাওড়া উলুবেরিয়ায় জয়পুর সুরঙ্গময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে তিনি চাকুরিরত। কিন্তু হঠাৎ তাঁর শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁর পক্ষে রোজ এতটা রাস্তা যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছিল না। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে এই রিপোর্ট জমা পড়লে বিচারপতি শারীরিক সমস্যার বিষয়টি খতিয়ে দেখে ২৯ এপ্রিলের মধ্যে স্কুলকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যু করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিচারপতির নির্দেশ, ওই শিক্ষিকার আবেদন পাওয়ামাত্র তাঁকে বাড়ির কাছের স্কুলে নিয়োগ দিতে হবে।