তারকেশ্বর | হিন্দু  তীর্থক্ষেত্র Tarkeshwar

তারকেশ্বর |  হিন্দু  তীর্থক্ষেত্র Tarkeshwar

হুগলি জেলার একটি দর্শনীয় স্থান ও পৌরশহর হল তারকেশ্বর। তারকেশ্বর একটি প্রসিদ্ধ হিন্দু তীর্থক্ষেত্র। সমুদ্র সমতল  থেকে এই শহরের গড় উচ্চতা হল ১৮ মিটার । ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে তারকেশ্বর শহরের জনসংখ্যা হল ৩০,৯৪৭ জন।  জনঘনত্ব ৮,০০০/বর্গকিমি।এই শহরের মোট জনসংখ্যার পুরুষ ৫৩% এবং নারী ৪৭%। এখানে সাক্ষরতার হার ৭২%। পুরুষদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৮% এবং নারীদের মধ্যে এই হার ৬৬%।  এই শহরের জনসংখ্যার ১০% হল ৬ বছর বা তার কম বয়সী।  শহরের প্রধান পেশা কৃষি। তারকেশ্বর কৃষিতে বেশ উন্নত।  

এই শহরে একাধিক হিমঘর রয়েছে। আলু এখানকার প্রধান ফসল। ব্যবসা -বাণিজ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই শহর ও তার সংলগ্ন এলাকা থেকে আনুমানিক ৩২ লক্ষ মানুষ কাজের জন্য প্রতিদিন কলকাতায় যাতায়াত করে। শিক্ষাগত ক্ষেত্রেও বেশ এগিয়ে এই শহর। এই  শহরে রয়েছে  ৩ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,  ১ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ও  বেশ কয়েকটি  সরকারি ও বেসরকারি   প্রাথমিক বিদ্যালয় । এছাড়াও রয়েছে একটি কলেজ, ৩ টি শিশু শিখা কেন্দ্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও মুক্ত বিদ্যালয়ের ২ টি শাখা কেন্দ্র এবং একটি বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।   

গিরীন্দ্রপ্রথমিক বিদ্যালয়, হিন্দি স্কুল, আনন্দমার্গ প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামকৃষ্ণ বিদ্যামন্দির সহ একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উচ্চ বিদ্যালয় হল তারকেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক), তারকেশ্বর বালিকা বিদ্যালয়, বিকাশ ভারতী ব্লুমস ডে স্কুল, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সহ অনেক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে এই শহরে। ১৯৮৬  সালে তারকেশ্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজ । এই কলেজে  আর্টস , কমার্স , সায়েন্স বিভাগে স্নাতক কোর্স রয়েছে। এই শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ উন্নত।

পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা যেমন  বর্ধমান, দুর্গাপুর, বোলপুর,  বাঁকুড়া, মেমারি, কাটোয়া, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ,  হলদিয়া, পাঁশকুড়া, ঝাড়গ্রাম, খাতড়া, খড়গপুর, দিঘা, মেদিনীপুর, মেচেদা, কালনার সঙ্গে তারকেশ্বরের বাস যোগাযোগ রয়েছে।এছাড়াও  তারকেশ্বর থেকে ১২, ১৩, ১৬, ১৭, ২০, ২২, ২৩ এর মতো অনেক লোকাল বাস রুট রয়েছে যা হুগলি এবং কিছু অন্যান্য জেলা জুড়ে আছে।রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও বেশ উন্নত এই শহরে।  হাওড়া এবং তারকেশ্বরের মধ্যে দূরত্ব ৫৮ কিমি।১৮৮৫ সালে চালু হয়েছিল হাওড়া-তারকেশ্বর লাইন । 

তারকেশ্বর রেল স্টেশনও বেঙ্গল প্রাদেশিক রেলওয়ের জন্য একটি টার্মিনাল ছিল। তারকেশ্বর  স্টেশনকে বহুমুখী স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।  শেওরাফুলি রেলস্টেশন এবং তারকেশ্বরের মধ্যে বর্তমান রেললাইন আরামবাগ হয়ে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তারকেশ্বর রেলওয়ে স্টেশন পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। তারকেশ্বর শিবের মন্দির এই শহরের প্রধান  আকর্ষণ , সারা বাংলার অন্যতম শিব মন্দির এটি । মন্দিরটি আটচালা  মন্দির। মন্দিরের সামনে একটি নাটমন্দির রয়েছে ।

মন্দিরের উত্তরে অবস্থিত পুকুরটির নাম দুধপুকুর। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুকুরে স্নান করলে নাকি মনস্কামনা পূর্ণ হয়। সারাবছরই তারকেশ্বর মন্দিরে পূণ্যার্থীদের ভিড় লেগে থাকে। প্রতি সোমবার ও শ্রাবণ মাসে শ্রাবনী মেলাতে , ফাল্গুন মাসে শিবরাত্রি ও চৈত্র-সংক্রান্তিতে গাজনে  প্রচুর জনসমাগম হয়।  এই মন্দিরের অদূরেই কালী ও লক্ষ্মী-নারায়ণের দুটি মন্দির রয়েছে। তারকেশ্বর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে দেউলপাড়া রয়েছে হুগলি জেলার একমাত্র বৌদ্ধ মন্দির।