হিন্দু মন্দিরে তাণ্ডব-ভাঙচুর, মৃত ৩, মোদীকে চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর

হিন্দু মন্দিরে তাণ্ডব-ভাঙচুর, মৃত ৩, মোদীকে চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর

দুর্গাপুজোর সময় বাংলাদেশে হিন্দু মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনার জেরে পড়শি দেশের ২২টি জেলায় ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসিনা সরকারকে ২২টি জেলায় আধাসেনা নামাতে হল। হিংসায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, বহু মানুষ জখম হয়েছেন বলে খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে।  বাংলাদেশের (Bangladesh) একাধিক দুর্গাপুজো মণ্ডপ ও বিভিন্ন মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনায় প্রয়োজনীয় এবং জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (PM Narendra Modi) চিঠি লিখলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

তিনি গোটা ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলেছেন। টুইটে শুভেন্দু বলেছেন, বাংলাদেশে সনাতনী সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা পরিকল্পিত। শুভেন্দু ছাড়াও এই ঘটনায় সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। টুইটে তিনি লেখেন, "বাংলাদেশে দুর্গাপুজোর উপর আঘাত ও অশান্তির গুরুতর অভিযোগ আসছে। এটা উদ্বেগের। অভিযোগের তদন্ত হোক। ঘটনাক্রম সত্যি হলে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিক। ভারত সরকার অবিলম্বে কথা বলুন।

আমরা ভারতে যেমন সংখ্যালঘু সুরক্ষার পক্ষে, তেমনই বাংলাদেশেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত চাই।"বিজেপির সভাপতি ড. সুকান্ত মজুমদার টুইটারে এক পোস্টে লিখেছেন, 'বাংলাদেশে মৌলবাদীদের দ্বারা হিন্দুদের উপর হামলা এবং প্রতিমার ভাঙচুর একটি নিন্দনীয় বিষয়, যার আমি তীব্র নিন্দা জানাই।' "সেখানে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দুদের সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উচিত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।"ঢাকা থেকে ১০০ কিমি দূরে এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশ জুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বুধবার ঝড় ওঠে।

বিভিন্ন জায়গায় গোষ্ঠী সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ-প্রশাসন হিংসা বন্ধ করতে হিমশিম খায়। বাধ্য হয়ে সরকার আধাসেনা নামায় পরিস্থিতি শান্ত করতে। চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে, চট্টগ্রামের বাঁশখালি এবং কক্সবাজারের পেকুয়াতে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গিয়েছে। বুধবার রাতের সেই সংঘর্ষে চার জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেই তিনজন নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হবার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। পরবর্তীতে আহতদের একজন হাসপাতালে মারা যান। হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর মন্দির আক্রমণ করার এ ঘটনা ঘটে।

হাজীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোমেনা আক্তার জানিয়েছেন, নিহতরা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে তারা পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন কিনা সেটি তিনি নিশ্চিত করেননি। ঘটনার পর বুধবার রাত থেকে হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া বুধবার রাতেই নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মিছিল নিয়ে মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে।

এর আগে বুধবার দিনের বেলা কুমিল্লার বেশ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে হামলা হয়। ওই হামলার বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার তথ্য তারা পেয়েছিলেন জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ এর মাধ্যমে এবং এ ঘটনার জের ধরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে শহরে। মিস্টার হাসান বলেন, ঘটনার পর আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে উস্কানি দেয়া হচ্ছে।

পূজা উদযাপন পরিষদের কুমিল্লা জেলা ইউনিটের সম্পাদক নির্মল পাল বলছেন খুব ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে। "পূজা বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে কোরআন রেখে এ ঘটনা ঘটিয়ে তারাই এখন শহরজুড়ে পূজাবিরোধী বিক্ষোভ করছে। কয়েকটি মণ্ডপে হামলার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু পুলিশের বাধায় ভেতরে ঢুকতে না পারলেও গেইট বা সামনের স্থাপনা ভাংচুর করেছে," বলছিলেন তিনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানিয়েছেন শারদীয় দুর্গোত্‍সব উপলক্ষে কুমিল্লায় অনেকগুলো পূজামণ্ডপে উত্‍সব চলছিলো।