ওমানে হিন্দু ধর্ম | Hinduism in Oman

ওমানে হিন্দু ধর্ম  | Hinduism in Oman

ওমানের পশ্চিমে ইয়েমেন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, পূর্বে আরব সাগর, উত্তরে ওমান উপসাগর। ওমানের সবচেয়ে উত্তরের অংশ মুসান্দাম উপদ্বীপ হর্মুজ প্রণালীর দক্ষিণ তীর গঠন করেছে। পারস্য উপসাগরে ওমানের কয়েক কিলোমিটার তটরেখা আছে। মাসকাত ওমানের রাজধানী এবং বৃহত্তম নগর। ওমান হল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যেখানে বহু শতাব্দী ধরে আদিবাসী হিন্দু ধর্মের বসবাস করছে।

বর্তমান ওমানি জনসংখ্যার আনুমানিক ৫.৫ শতাংশ হিন্দু ধর্মের অনুসারী এবং আনুমানিক ১,০০০ হিন্দুর ওমানির নাগরিকত্ব রয়েছে। হিন্দু ধর্মের মোট অভিবাসীর সংখ্যা ২৫০,০০০-এর বেশি বলে মনে করা হয়। হিন্দুধর্ম প্রথম ১৫০৭ সালে ওমানে এসেছিল যখন ভারতের কচ্ছ থেকে আসা কাছি ভাষাভাষী হিন্দু ধর্মের মানুষ মাস্কটে প্রবেশ করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ওমানে অপেক্ষাকৃত ৪,০০০ হিন্দু ছিলেন।

১৮৯৫ সালে, মাস্কটের হিন্দু কলোনিতে ইবাদিরা হামলা চালায় । ওমানের অফিসিয়াল ধর্ম ইবাদি ইসলাম, যা হ'ল সুন্নি ও শিয়া বিশ্বাস উভয় থেকে আলাদা একটি শাখা আছে।  ১৯০০ সালের মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যা ৩০০ তে কমে আসে। ওমানের স্বাধীনতাকালে অল্পসংখ্যক হিন্দুই ছিলেন। আল-ওয়ালজাত ও আল-বানিয়ানের মতো ঐতিহাসিক হিন্দু কোয়ার্টার যেখানে একসময় হিন্দুরা বসবাস করতেন সেখানে আর হিন্দুদের অধিকার নেই। ওমান মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যেখানে স্বদেশীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন।  ওমানের সরকারিভাবে ঘোষিত দুটি হিন্দু মন্দির রয়েছে। মাস্কটের শিব মন্দির মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির কৃষ্ণ মন্দির, মাস্কট। 

শিব মন্দির, বা মতিশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও সুপরিচিত, ওমানের পুরোনো মাস্কটের মুটরাহ অঞ্চলের আল আলম প্রাসাদের নিকটে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির। মন্দিরটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির। মন্দিরটি বহু হিন্দু উৎসব পালিত করে যেমন বসন্ত পঞ্চমী, রামনবমী, হনুমান জয়ন্তী, শ্রাবণ ও গণেশ চতুর্থী। মহাশিবরাত্রির সময় ২০,০০০ হিন্দু পুণ্যার্থী মন্দির দর্শন করেন।   বিশ্বাস করা হয় যে ওমানের গুজরাটি ব্যবসায়ীদের দ্বারা ১০৯-১২৫ বছর পূর্বে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল।

১৫০৭ সালে কচ্ছের ভাটিয়া ব্যবসায়ী সম্প্রদায় মাস্কটে প্রথম বসবাস শুরু করেন।  মন্দির চত্বরে মোট তিনটি মন্দির রয়েছে - শ্রী আদি মতিশ্বর মহাদেব মন্দির, শ্রী মতিশ্বর মহাদেব মন্দির এবং শ্রী হনুমানজী মন্দির। যদিও মাস্কট একটি মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত, তবুও মন্দিরটির কুয়াতে সারাবছর জল থাকে।মন্দিরে তিনজন পুরোহিতসহ তিনজন সাপোর্ট স্টাফ ও চারজন প্রশাসক কর্মচারী রয়েছেন। এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের একটি সম্পূর্ণ দল মন্দিরের সমস্ত কাজ পরিচালনা করে।২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি,ওমান সফরে এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্দিরটি দর্শন করে অভিষেকম পালন করেন ও মন্দিরের ব্যবস্থাপক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।  

রাজধানী মাস্কাটে অবস্থিত শিব মন্দির এবং শ্রী কৃষ্ণ মন্দিরকে তাদের অনন্য স্থাপত্যশৈলীতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীনতম মন্দির হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিব মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সারা বছরই এর কূপে জলের উপস্থিতি। একইভাবে, শ্রী কৃষ্ণ কম্পাউন্ড, সুন্দর উপত্যকা এবং মরুভূমি এলাকা দ্বারা বেষ্টিত, শ্রী কৃষ্ণ মন্দির, শ্রী গণেশজি মন্দির এবং মাতাজি মন্দির সহ তিনটি মন্দির নিয়ে গঠিত। হোলি, দিওয়ালি, হনুমান জয়ন্তী এবং নবরাত্রি সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উত্সব নিয়মিতভাবে সেখানে উদযাপিত হয়। 

মাত্র পাঁচ দশক আগে ওমান ছিল এই অঞ্চলের অন্যতম পিছিয়ে পড়া দেশ। সেই যুগকে বলা হয় জাতীয় ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। উপজাতীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে থাকে এবং সরকার বিদ্রোহ দমন করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও চরম অবনতি হয়েছে। তার দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, সুলতান কাবুস দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি সংঘাতে জর্জরিত ছিল, তবে সুলতান কাবুস নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সাথে সাথেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে তার শাসনাধীন ওমানে চরমপন্থা ও সহিংসতার কোনও জায়গা নেই। উগ্রবাদ, যে কোনো ছদ্মবেশে, যে কোনো ধরনের ধর্মান্ধতা, যে কোনো প্ররোচনার দলাদলি আমাদের দেশের মাটিতে বিদ্বেষপূর্ণ বিষাক্ত উদ্ভিদ হবে, যাকে ফুটতে দেওয়া হবে না। শান্তি এবং সহাবস্থানের জন্য তার দৃঢ় সংকল্প অনুসরণ করে, তিনি প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে সকল বাহ্যিক সীমান্ত বিরোধ সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সমাধান করেছিলেন।