মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আশায় নিজ দেশ ছেড়েছেন হন্ডুরাসের অভিবাসন-প্রত্যাশীরা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আশায় নিজ দেশ ছেড়েছেন হন্ডুরাসের  অভিবাসন-প্রত্যাশীরা

গুয়েতেমালা সীমান্তে হন্ডুরাসের হাজার হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তারা পায়ে হেঁটে মেক্সিকো হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর আশায় নিজ দেশ ছেড়েছেন। গতকাল রবিবার গুয়েতেমালার ভেতরে সীমান্তবর্তী চিকুইমুলা এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষীদের ব্যারিকেড অতিক্রম করতে গেলে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করা হয়।

তারপরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পথে তারা পদযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। দেশটি সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে। গতকাল রবিবার অন্তত সাত হাজার অভিবাসী গুয়েতেমালার ভাদো হোন্ডো গ্রামের সীমান্তে পৌঁছায়। তারা সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

এসময় অনেক অভিবাসী নিরাপত্তা বলয় টপকে সীমান্ত অতিক্রম করে ঢুকে পড়ে। এর আগে গত শনিবার অন্তত দুই হাজার অভিবাসী নিরাপত্তা বলয় টপকে গুয়েতেমালায় ঢুকে পড়ে। গুয়েতেমালার নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার আগে হন্ডুরাসের অভিবাসন-প্রত্যাশীরা প্রায় ৪৩ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, অভিবাসন-প্রত্যাশীরা আশা করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবেন।

হন্ডুরাসের কার্লোস ফ্লোরেস নামের এক নাগরিক জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তার দেশে কোনো কাজ নেই। সেখানে কিছুই করার নেই। করোনা মহামারি ও সাম্প্রতিক সামুদ্রিক ঝড়ে হন্ডুরাস বিপর্যন্ত হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গুয়েতেমালার অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, প্রথম সারিতে থাকা একটি ছোট দল নিরাপত্তা বাহিনীর বাঁধা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েছে।

পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অবস্থান শক্ত করলে বাঁধার মুখে পড়ে অভিবাসীরা। যারা ভেতরে ঢুকে পড়েছে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংস্থার মুখপাত্র আলেজান্দ্রা মিনা বলেন, অভিবাসীদের অধিকাংশেই সহিংসতা, করোনাভাইরাস মহামারি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। তারা অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়ে ভালো জীবনযাপনের আশায় দলবেঁধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আশায় দেশ ছেড়েছেন।

তারা প্রত্যাশা করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাদের আশ্রয় দেবেন। গুয়াতেমালার সরকার জানায়, গত শুক্রবার থেকে প্রায় ৯ হাজার অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী তাদের দেশে ঢুকে পড়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ৭ হাজার মানুষ পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে ঢুকে পড়ে। শনিবার আরো প্রায় দুই হাজার অভিবাসী ঢুকে পড়ে।

তাদের অধিকাংশই করোনা নেগেটিভ পরীক্ষার সনদ নেই। কিন্তু গুয়াতেমালায় ঢুকতে এ সনদ জরুরি। গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো গিয়ামাতেই হন্ডুরাস কর্তৃপক্ষকে অবৈধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের এই ঢল বন্ধ করতে গুয়াতেমালা, মেক্সিকো ও হন্ডুরাস এর মধ্যে চুক্তিও করেছে। তবে কোনো চুক্তিই অভিবাসীদের ঠেকাতে কাজে আসছে না।