শীতের অসুখের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে এই পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করুন

শীতের অসুখের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে এই পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করুন

আজবাংলা  শীত এলেই মনটা আনন্দে ভরে উঠে। কারন, অনেকেই নানান জায়গায় ঘুরতে যান। ঘরে বাইরে চলে পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি। অনেক বেশি বেশি পরিশ্রম করা যায়। রোদে বেরোলে কষ্ট হয় না। কিন্তু, শীতে কিছু অন্য অসুবিধাও রয়েছে।

কারন, শীতে বিভিন্ন অসুখের প্রকোপ বাড়ে। তার মধ্যে অ্যাজমা চর্মরোগ ও নাক-কান-গলার অসুখও দেখা দেয়।  এ সময়ে সুস্থ থাকতে শরীরের বাড়তি যত্নের পাশাপাশি সর্তক থাকতে হবে। আসুন দেখে নেওয়া, শীতের নানা অসুখের হাত থেকে কি করে মুক্তি পেতে পারি।

চর্মরোগ-   শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে। শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে শুষে নেয় জল। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে দুর্বল। ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি ও তেলগ্রন্থি ঠিকমতো ঘাম বা তৈলাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে না। এতে ত্বক আস্তে আস্তে আরও শুষ্ক, ফাটল ধরে ও দুর্বল হয়। একসময় ত্বক ফেটে যায়।

শীতের সময় নানা ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। বিশেষ করে ঠোঁট, হাত ও পায়ের ত্বকে দেখা দেয় চুলকানি, একজিমা, স্ক্যাবিস, চর্মরোগ প্রভৃতি। এছাড়া মাথায় প্রচুর খুশকি দেখা যায়।

সুরাহা-  অলিভ অয়েল ত্বকে আলাদা আস্তর তৈরি করে বলে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। শীতের সময় তাই অলিভ অয়েল বা ক্রিম কিছু ব্যবহার করুন। খুশকি দূর করতে অন্য সময়ের চেয়ে শীতে বেশি করে চুল শ্যাম্পু করুন। হাত ও পায়ের তালু এবং ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে দিন। বেশিক্ষণ রোদে থাকবেন না বা কড়া আগুনে তাপ পোহাবেন না। এতে চামড়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অ্যাজমা-   হাঁপানি বা অ্যাজমা জাতীয় শ্বাসকষ্টের রোগ শুধু শীতকালীন রোগ নয়। তবে শীতের প্রকোপ অনেকাংশে বেড়ে যায়। অ্যাজমা একবার হলে এর ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয় সারা জীবনই। তবে অ্যাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে জটিলতা বা ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

সুরাহা-  অ্যাজমার রোগীরা শীতে পর্যাপ্ত গরম জামা-কাপড়ের বন্দোবস্ত করুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। বিশেষ করে শোবারঘরটি উষ্ণ রাখার চেষ্টা করুন। অ্যাজমার ট্রিগারগুলো জেনে সতর্কভাবে চলুন। শীতের আগেই চিকিৎসককে দেখিয়ে ইনহেলার বা অন্যান্য ওষুধের ডোজ সমন্বয় করে নিন।

অন্যান্য অসুখ-   পাশাপাশি, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় নবজাতক, শিশু, বৃদ্ধ ও ধূমপায়ীর। শীতকালে নাকের দুই পাশের সাইনাসে ইনফেকশন দেখা দেয়, একে বলে সাইনোসাইটিস। কারও সাইনোসাইটিস দেখা দিলে নাকের দুই পাশে ব্যথা ও মাথাব্যথা হতে পারে। অ্যালার্জি, ঠাণ্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যাগুলো থেকে এই রোগের প্রকোপ দেখা দেয়।

 

কারও যদি অ্যালার্জি থাকে, সে ক্ষেত্রে জেনে নিতে হবে অ্যালার্জির কারণ। যাতে সতর্ক হয়ে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। পাশাপাশি ধূমায়িত এবং দূষিত পরিবেশ পরিত্যাগ করে চলা, ধূমপান পরিত্যাগ করা, ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখা (যাতে সাইনাস নিজে থেকেই পরিষ্কার হতে পারে), নাকে খুব জোরে আঘাত লাগতে না দেয়া ইত্যাদি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

যাদের গলা ব্যথা, স্বরভঙ্গ, কণ্ঠনালির নানা সমস্যাসহ টনসিলের প্রদাহ বা টনসিলাইটিস রয়েছে, তারা নুন মেশানো হালকা গরম জল দিয়ে গরগর করলে আরাম পাবেন। ঠাণ্ডা জল বাদ দিয়ে উষ্ণ গরম জল ব্যবহার করুন এবং গলায় গরম কাপড় বা মাফলার জড়িয়ে রাখুন।