পিরিয়ডস মিস হয়ে গেছে? 'পলিসিস্ট' হয়নি তো? জেনে নিন প্রতিকার

পিরিয়ডস মিস হয়ে গেছে? 'পলিসিস্ট' হয়নি তো? জেনে নিন প্রতিকার

আজবাংলা   বর্তমান জীবনযাপনের আমুল পরিবর্তনে প্রভাবিত হচ্ছে আট থেকে আশি। ধূমপান, মদ্যপানের মতোই ক্ষতিকারক সেই পরিবর্তন। বিশ্বায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গিয়ে ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে একাধিক রোগ। একদিকে ধূমপানে যেমন বাড়ছে ক্যান্সারের প্রবণতা, অন্যদিকে বাড়ছে মহিলাদের একাধিক শারীরিক রোগ, যার মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিসিজ অন্যতম।

এই পলি কথাটির অর্থ হল একাধিক। মহিলাদের ডিম্বাশয়ে যখন একাধিক সিস্ট (তরলে ভরা থলি) গড়ে ওঠে তখনই পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS)দেখা দেয়। পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে যে, প্রত্যেক ৫জন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে একজন মহিলা এই ব্যাধির শিকার হন।

ঠিক কোন কারণে এই সমস্যা শুরু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে কারণ হিসাবে তিনটে দিক উল্লেখ করা যেতে পারে। এক, জিনগত কারণ, অর্থাৎ যাঁদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিসিজের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে। দুই, পরিবেশগত কারণ।

তিন, আচরণগত কারণ, অর্থাৎ শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া, অনিয়মিত খাদ্যাভাস, ফাস্টফুডের প্রতি ঝোঁক, অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার খাওয়া, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ইত্যাদি। পাশাপাশি মানসিক চাপও এই অসুখের বড়ো কারণ। পিসিওএস-এ আক্রান্ত মহিলাদের ডিম্বানুগুলি সঠিক ভাবে বেড়ে ওঠে না অথবা নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন চক্রের সময় ডিম্বানু ছাড়ার সমস্যা হয়। এর ফলে নিয়মিত ঋতুচক্র আক্রান্ত হয়।

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিসিজের প্রথম উপসর্গ অনিয়মিত পিরিয়ড বা পিরিয়ড একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়া। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও ঘটতে পারে। এ ছাড়াও যে উপসর্গগুলি লক্ষ করা যায় তা হল ওবেসিটি, ব্রণর সমস্যা, মুখে অবাঞ্ছিত লোম, রিসিডিং হেয়ারলাইন অর্থাৎ চুল পড়ে যাওয়া, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, গ্যালাকটোরিয়া অর্থাৎ স্তন বৃন্ত থেকে সাদা তরল বেরনো ইত্যাদি।

কী ভাবে করা যায় চিকিৎসা? পিসিওএস একবার ধরা পড়লে, একে রোধ করার অনেকগুলি চিকিৎসা আছে। ১২ -১৩ বছরের রোগী এলেও প্রথমেই প্রেগনেন্সির দিক থেকেই ভাবা হয়। এক্ষেত্রে প্রথম কাজ হয়, ক্লিটোরাল এনলার্জমেন্ট রোধ করা। পাশাপাশি ওষুধের থেকেও রোগীর ওজন কমানোর বিষয়ে জোর দেন চিকিৎসকরা।

এরপর আল্ট্রা সাউন্ড (ওভারিতে চেঞ্জ), হরমোনাল মাত্রা পরীক্ষা, এন্ড্রোজেনিক ওভার অ্যাকটিভিটি টেস্ট, ওজন ও উচ্চতা পরীক্ষা, লিপিড প্রোফাইল দেখা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে শুধু মহিলাদেরই নয়, ইনফার্টিলিটির কারণ পরীক্ষার জন্য ছেলেদেরও সিমেন অ্যানালিসিস করা হয়ে থাকে। প্রসঙ্গত, ৪০-র ওপরে কোনও মহিলা এই সমস্যায় ভুগলে তাঁর এন্ড্রোমেট্রিয়াল বায়োপ্সি করানো হয়।

এই রোগ কমানোর প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র লাইফস্টাইল অর্থাৎ জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো যায়। নিয়মিত শরীরচর্চা, হাঁটাচলা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ছোটোদের দৌড়ানো, খেলাধূলার পাশাপাশি সঠিক সময়ে ওষুধের মধ্যে দিয়ে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় সহজেই।