জেনে নিন হেঁচকি হয় কেন ও কীভাবে বন্ধ করবেন

জেনে নিন হেঁচকি হয় কেন ও কীভাবে বন্ধ করবেন

আজবাংলা   অনবরত হেঁচকি হচ্ছে। এটা বেশ বিরক্তিকর নয় কি? আর এই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। অথচ এটা এড়ানোও বেশ কঠিন। অনেকেই জানে না কখন এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে৷ মাঝে মধ্যেই খেতে বসে এই সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়।

বিজ্ঞানীরা শত শত বছর ধরে আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিহীন এই শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন। হেঁচকির সময় শ্বাসনালীতে সামান্য খিঁচুনির মত হয় যার ফলে শ্বাসযন্ত্রে দ্রুত বাতাস প্রবেশ করে। তখন ভোকাল কর্ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে 'হিক' শব্দ তৈরি হয়।

 

ফুসফুসের নীচের পাতলা মাংসপেশীর স্তর, যেটিকে ডায়াফ্রাম বলে, হঠাৎ সংকোচনের ফলেই হেঁচকি তৈরি হয়। হেঁচকি ওঠার একশো'র বেশি মেডিক্যাল কারণ থাকতে পারে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেগুলো খুবই সামান্য কারণেই হয়ে থাকে। কিন্তু, হেঁচকির মতো বিচ্ছিরি সমস্যাটার সমাধান কিন্তু হতে পারে মাত্র দুই মিনিটেই।

১. জল পান বা গার্গল করা-  বড় এক গ্লাস জল পান করুন অথবা গার্গল করার চেষ্টা করুন। হেঁচকি থামাতে চমৎকার কাজে দেবে।

২. কানে আঙ্গুল দিয়ে রাখুন-  দুই কানের ফুটোয় আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে রাখুন এমনভাবে যেন আপনি কিছুই শুনছেন না। তবে অতিরিক্ত জোরে চেপে ধরবেন না যেন। কিছুক্ষণ এভাবেই থাকুন। দেখবেন হেঁচকি গায়েব।

৩. একটি কাগজের ব্যাগে শ্বাস প্রশ্বাস নিন- একটি কাগজের ব্যাগ নিন আর তাতে মুখ রেখে শ্বাস প্রশ্বাস নিন। এতে আপনার রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায় আর সেই সঙ্গে এটি হেঁচকি থামাতেও দারুণভাবে কাজ করে।

৪. নিঃশ্বাস আটকে রাখা : বড় একটি নিঃশ্বাস নিন এবং যতক্ষণ সম্ভব আটকে রাখার চেষ্টা করুন। সেই সঙ্গে নাক চেপে রাখতে ভুলবেন না৷ যাতে বাতাস বেরিয়ে যেতে না পারে।

৫. এক চামচ চিনি : ওজন কমাতে চিনি থেকে আপনি দূরে থাকলেও হেঁচকি উঠলে এক চামচ চিনি খেয়ে নিতে ইতস্তত করবেন না যেন! এক চামচ চিনি আপনাকে অনবরত হেঁচকির যন্ত্রণা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দিতে সক্ষম।

৬. জিহ্বা টেনে ধরে রাখুন : শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটা কিন্তু বেশ কার্যকর। অনবরত হেঁচকি উঠলে জিহ্বা বের করে আঙ্গুল দিয়ে টেনে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ! হেঁচকি থেমে যাবে নির্ঘাত।

৭. অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট : কেননা এতে আছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম, যা আপনার নার্ভগুলোকে শান্ত করে, ফলে হেঁচকি থেমে আসে আপনি আপনিই।

৮. এক চামচ পিনাট বাটার : পিনাট বাটার তো এমনিতেই খেতে বেশ ভালো। তাই হেঁচকি উঠলে দেরি না করে ঝটপট খেয়ে নিতে হবে এক চামচ পিনাট বাটার। হেঁচকি থেমে যাবে।