ইউটিউব থেকে টাকা রোজগার করবেন কীভাবে?

ইউটিউব  থেকে টাকা রোজগার করবেন কীভাবে?

জনপ্রিয় এই ভিডিয়ো প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব (ইংরেজি:Youtube) হলো সান ব্রুনো, ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক একটি মার্কিন অনলাইন ভিডিও-শেয়ারিং সাইট যা ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবরে, গুগল সাইটটিকে ১.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ক্রয় করে নেয়। ইউটিউব বর্তমানে গুগলের অন্যতম অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ইউটিউব ব্যবহারকারীদের ভিত্তিমঞ্চে ওঠানো ভিডিও দেখার সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি মূল্যায়ন, ভাগাভাগি করে নেওয়া, চালনতালিকায় (প্লেলিস্টে) যুক্তকরণ, অভিযোগ প্রেরণ, ভিডিওগুলিতে মন্তব্য করা এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের সম্প্রচারকেন্দ্রের গ্রাহক হবার সুবিধা প্রদান করে।

জনপ্রিয় এই ভিডিয়ো প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব থেকে ভ্লগাররা মাসে কয়েক লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত রোজগার করে থাকেন। তবে আপনিও এই পথে যাত্রা শুরু করতে চাইলে তা কীভাবে শুরু করবেন? YouTube চ্যানেল মনিটাইজ করবেন কীভাবে? মনিটাইজেশনের জন্য অন্তত কত সাবস্ক্রাইবার ও ভিউ প্রয়োজন? বিজ্ঞাপন ছাড়া আর কী কী উপায়ে YouTube থেকে রোজগার করবেন? দেখে নিন। 

YouTube থেকে রোজগার করবেন কীভাবে? বিশ্বব্যাপী 200 কোটির বেশি মানুষ নিয়মিত YouTube এ ভিডিয়ো দেখেন। প্রত্যেক মিনিটে এই প্ল্যাটফর্মে 500 ঘণ্টা ভিডিয়ো স্ট্রিম হয়। এই কারণে YouTube এ ভিডিয়ো আপলোড করলে কড়া প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। রোজগার শুরু করার আগে এই ভিডিয়ো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপনার স্থায়ী দর্শক তৈরি করতে হবে। ভিডিয়ো তৈরির আগে কী কী বিষয়ে ভাববেন? দেখে নিন:

 নির্দিষ্ট বাজার – আপনার ভিডিয়ো কোন দর্শকদের কাছে নিয়ে যেতে চান তা ঠিক করুন। এর পরে সেই দর্শকদের জন্য ভিডিয়ো তৈরি করে দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

উপযুক্ত বিষয় পছন্দ করুন – ভিডিয়ো তৈরির আগে উপযুক্ত বিষয় পছন্দ করুন। শুধুমাত্র সেই বিষয়ের উপরেই ভিডিয়ো তৈরি করুন। এর ফলে দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সুবিধা হবে। সেই নির্দিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করুন।

সঠিক সরঞ্জাম কিনুন– একটি ভালো ক্যামেরা, আলো, মাইক্রোফোন আপনার ভিডিয়োকে আরও প্রফেশনাল লুক দিতে পারে।

দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগে টুল ব্যবহার করুন – নিয়মিত ভিডিয়ো পোস্ট করতে হবে। প্রত্যেক ভিডিয়োর সঙ্গে দিতে হবে কি-ওয়ার্ড। নিজের ভিডিয়ো থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ও নিজের ব্লগিং ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক নিতে হবে।

YouTube থেকে রোজগারের জন্য চ্যানেলে অন্তত 1000 সাবস্ত্রাইবার থাকতে হবে। সাবস্ক্রাইবার প্রতি আপনি কোন রোজগার করতে পারবেন না। তবে যত বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকবে রোজগারের সম্ভাবনা ততই বেশি হবে। যেমন ধরুন আপনি যদি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রমোশনাল কাজ করতে চান তবে আপনার চ্যানেলে যত বেশি সাবস্ক্রাইবার থাকবে তত বেশি রোজগার করতে পারবেন। 

 রোজগারের জন্য কত ভিউ প্রয়োজন? 1,000 সাবস্ক্রাইবারের সঙ্গেই রোজগার শুরুর জন্য বিগত 12 মাসে প্রয়োজন হবে 4,000 ঘণ্টা ভিউ। যত বেশি ভিউ পাবেন রোজগারের সম্ভাবনা ততই বাড়তে থাকবে। তবে আপনার ভিডিয়োর উপরে দেখানো লিঙ্কে ক্লিক করে কেউ সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন দেখলে তবেই রোজগার হবে YouTube থেকে। তবে শুধুমাত্র YouTube এ দেখানো বিজ্ঞাপন থেকে রোজগার করে জীবন চালানো প্রথমে কঠিন হতে পারে। এই কারণে সঙ্গে অন্য কাজ রাখা প্রয়োজন। 

 YouTube Partner Program কী? একবার আপনার চ্যানেলে 1000 সাবস্ক্রাইবার ও 4,000 ঘণ্টা ভিউ এসে গেলে নিজের চ্যানেলের ভিডিয়োতে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য YouTube Partner Program এ যোগ দিতে পারেন। প্রত্যেক ভিডিয়ো থেকে রোজগারে একটি অংশ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে ভাগ করে নেয় এই ভিডিয়ো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। YouTube Studio থেকে Monitization বিভাগে গিয়ে চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো সিলেক্ট করতে পারবেন। এখানেই ড্যাশবোর্ডে মাসে কত রোজগার হয়েছে দেখে নিতে পারবেন।

 AdSense কী? একবার YouTube Partner Program এর সঙ্গে যুক্ত হলে AdSense অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। এই অ্যাকাউন্ট থেকে বিজ্ঞাপন থেকে রোজগারের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা যাবে। 

 YouTube Premium কী? একবার প্ল্যাটফর্ম থেকে রোজগার শুরু করলে আপনি YouTube Premium -এ সাইন আপ করতে পারবেন। এই ফিচারে আপনার সাবস্ক্রাইবাররা চাইলে অতিরিক্ত খরচ করে বিজ্ঞাপন ছাড়াই আপনার চ্যানেলের ভিডিয়ো দেখতে পাবেন। সাবস্ক্রাইবারদের থেকে রোজগারের দ্বিতীয় পথ হিসাবে কাজ করবে YouTube Premium। বিজ্ঞাপন ছাড়া YouTube থেকে আর কী কী উপায়ে রোজগার করতে পারবেন? প্রায় সকলেই রোজগারের উদ্দেশ্যেই YouTube -এ ভিডিয়ো আপলোড করেন। বিজ্ঞাপন ছাড়া এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আর কী কী উপারে রোজগার করা যাবে? জানুন:

মার্চেনইডাইস – টি-শার্ট, কফি মগ, ব্যাগ সহ নিজস্ব মার্চেনডাইস বিক্রি করে YouTube থেকে রোজগার করতে পারবেন। প্রত্যেক ভিডিয়ো নীচে রাখতে পারবেন মার্চেনডাইস সেলফ।

ফ্যান ফান্ডিং - একবার আপনার চ্যানেলে কিছু দর্শক এসে গেলে Patreon, Tipee অথবা Buy Me A Coffee এর মতো ওয়েবসাইট থেকে দর্শকদের কাছ থেকে রোজগার করতে পারবেন।

ইনফ্লুয়েন্সার – অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনার রোজগার আরও বাড়তে পারে। তবে আপনার সঙ্গে কোন ব্র্যান্ডের গাঁটছড়া থাকলে তা ভিডিয়োতে জানিয়ে দিন।

ভিডিয়ো লাইসেন্সিং - আপনার কোন ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে গেলে বিভিন্ন মিডিয়া সেই ভিডিয়ো স্ট্রিম করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত টাকা দেবে।

চ্যানেল মেম্বারশিপ – চ্যানেলের মেম্বার হলে দর্শকরা অতিরিক্ত কনটেন্ট পেয়ে যাবেন। এইভাবে বাড়বে আপনার রোজগার।

চ্যাট পেমেন্ট – লাইভ স্ট্রিমে সুপার চ্যাটের মাধ্যমে দর্শকদের কাছ থেকে রোজগার করতে পারবেন।