নতুন শ্রমবিধিতে মুখে কতটা চওড়া হাসি চাকরিজীবীদের?

নতুন শ্রমবিধিতে মুখে কতটা চওড়া হাসি চাকরিজীবীদের?

বেশ কয়েক মাস ধরে আলোচনার পর চারটি নতুন শ্রমবিধি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে এই নতুন শ্রমবিধি। এই শ্রমবিধি কার্যকর হওয়ায় কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নতুন শ্রমবিধি অনুযায়ী বড় পরিবর্তন হতে পারে কর্মীদের বেতন, তাঁদের পিএফ ও কাজের সময়সীমাতে।

এছাড়াও একাধিক বিষয়ে পরিবর্তন আসতে পারে এই শ্রমবিধির ফলে।

এই চারটি শ্রমবিধির ফলে কাজের ক্ষেত্রে পরিবর্তনগুলি নিম্নলিখিত :

কাজের সময়সীমা ও ছুটির দিন

নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে সপ্তাহে তিনদিন ছুটি থাকবে। অর্থাত্‍ সপ্তাহে ৪ দিন অফিসে কাজ করার নিয়ম চালু হবে। তবে এক্ষেত্রে কর্মীদের দৈনিক কাজের সময়ে এই ছুটি পুষিয়ে দিতে হবে। অর্থাত্‍, কাজের সময়সীমা বেড়ে হয়ে যাব ১২ ঘণ্টা। যেখানে আগে দিনে ৮ ঘণ্টা করে কাজ করতে হত। এই নিয়ম প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে বিভিন্ন রাজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হতে পারে এই নিয়ম।

পিএফ এবং বেতন

এই নয়া শ্রম আইন অনুযায়ী আর যে বড় পরিবর্তন হচ্ছে তা হল হাতে পাওয়া বেতন, পিএফ-এ কর্মীর ও নিয়োগকরাী সংস্থার ভাগ। নতুন শ্রম কোড অনুযায়ী, কর্মীর বেসিক বেতন (Basic Salary)তাঁর মোট বেতনের (Gross Salary) ৫০ শতাংশ হতে হবে। এর ফলে পিএফ এ কর্মী ও নিয়োগকারী সংস্থার কন্ট্রিবিউশন বাড়বে। তবে কোনও কোনও কর্মীর ক্ষেত্রে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ কমতে পারে। বিশেষত বেসরকারি ক্ষেত্রে যাঁরা কর্মরত তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন হতে পারে। তবে অবসরের পর যে টাকা মেলে বা গ্র্যাচুইটির পরিমাণ বাড়বে এই শ্রম আইন কার্যকর হলে।

বার্ষিক ছুটি

এই নতুন শ্রম আইনের মাধ্যমে সরকার কোনও সংস্থায় কর্মীদের ছুটিকে যুক্তিযুক্ত করতে চায়। এক বছরের পড়ে থাকা ছুটিকে পরের বছরে নিয়ে যাওয়া ও ছুটির পরিবর্তে টাকা দেওয়াকেও মান্যতা দেয় সরকার। অন্যদিকে, এই আইন অনুযায়ী কোনও সংস্থায় যোগ দেওয়ার ২৪০ দিন পরই কোনও অতিরিক্ত ছুটি পেতে পারেন। আগে এই সীমাটা ছিল ১৮০ দিন।পরই কোনও অতিরিক্ত ছুটি পেতে পারেন। আগে এই সীমাটা ছিল ১৮০ দিন।