হাওড়ার দুই বৌ পালালো বাড়িতে কাজ করতে আসা মুর্শিদাবাদের দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে

হাওড়ার  দুই বৌ পালালো বাড়িতে কাজ করতে আসা মুর্শিদাবাদের দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে

রাজমিস্ত্রির প্রেমে পড়ে নিজের সন্তান নিয়ে বাড়ি ছাড়লেন এক জন। সেই পরিবারেই অন্য এক গৃহবধু এক কাপড়ে ঘর ছাড়লেন অন্য় এক জনের জন্য। সেই পুরুষসঙ্গীও পেশায় রাজমিস্ত্রি। এমনই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে হুগলির নিশ্চিন্দায়। গত ১৫ই ডিসেম্বর সকালে নিশ্চিন্দার বাসিন্দা রিয়া কর্মকার, অনন্যা কর্মকার তাঁর সাত বছরের ছেলে অরিন কর্মকারকে নিয়ে হুগলির শ্রীরামপুরে শীতবস্ত্র কিনতে যাওয়ার নামে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

নিখোঁজদের পরিবারের তরফে লিলুয়া, বেলুড় ও নিশ্চিন্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ রিয়া কর্মকারের মোবাইল নাম্বার ট্র্যাক করে। মোবাইল নাম্বার ট্র্যাক করে প্রায় চার দিন পরে নিখোঁজদের খোঁজ মিললেও তাঁদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। পুলিশের দাবি নিখোঁজেরা অপহৃত হননি।

হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি নর্থ অনুপম সিংহ জানান, গৃহবধূরা স্বইচ্ছায় মুর্শিদাবাদের সুতির দুই যুবকের সঙ্গে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন| দুই যুবক পেশায় রাজমিস্ত্রি | পুলিশের দাবি তদন্তে নেমে, শ্রীরামপুর এলাকায় গিয়ে কোনও তথ্য এমনকি যেই দোকানে যাওয়ার নাম করে গিয়েছিলেন ওই মহিলারা, সেই দোকানের সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের খোঁজ মেলেনি।

এর পর নিখোঁজদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে ও পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই নিখোঁজদের বাড়ি তৈরি করতে আসেন বেশ কয়েকজন নির্মাণকর্মী। সেই সময় দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক তৈরি হয় দুই মহিলার | এর পর দীর্ঘদিন কাজ শেষ করে চলে গেলেও ফোনে যোগাযোগ ছিল তাঁদের |

১৫ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে কেনাকাটা করতে যাওয়ার নাম করে বেরিয়ে তাঁরা চলে যান মুর্শিদাবাদে। খবর পেয়ে হাওড়া সিটি পুলিশের একটি দল পৌঁছে যায় মুর্শিদাবাদে সেই দুই যুবকের বাড়িতে | সেখানে গিয়ে জানা যায় এক দিন মুর্শিদাবাদে থাকলেও পরের দিন দুই গৃহবধূ ও এক শিশুকে নিয়ে মুম্বাইয়ে চলে যান দুই যুবক। খবর পাওয়ার পর দুই যুবক ও নিখোঁজদের খোঁজে মুম্বইয়ের পথে পাড়ি দেয় হাওড়া সিটি পুলিশের একটি দল।

নিখোঁজদের পরিবারের দাবি, বাড়ি তৈরির সময় দুই গৃহবধূর সঙ্গে কথা বলতেন কাজে আসা মিস্ত্রিরা কিন্তু তাদের সাথে এত ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি হয়ে যাবে, সেটা কেউ বুঝতে পারেননি। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে তাঁরা নিজেদের কাছে ফিরে পেতে চান। তবে গৃহবধূরা দু'জনেই প্রাপ্তবয়স্ক, তাই তাঁদের সিদ্ধান্ত তাঁরা নিজেরাই নেবেন |