নন্দীগ্রামে হাফ লাখ ভোটে হারাতে না পারি রাজনীতি ছেড়ে দেব, শুভেন্দু

নন্দীগ্রামে হাফ লাখ ভোটে হারাতে না পারি রাজনীতি ছেড়ে দেব, শুভেন্দু

সোমবার নন্দীগ্রামের তেখালিতে সভা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি এ বার নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন। এ কথা বলার সময়ে তিনি প্রথমে এও বলেছিলেন, 'ভবানীপুরকেও আমি অবহেলা করছি না। সেখানেও ভাল প্রার্থী দেব।' তবে পরে, বক্তৃতার একেবারে শেষে বলেন, 'ভবানীপুর আমার বড় বোন, নন্দীগ্রাম আমার ছোট বোন। পারলে আমি দুটো আসনেই লড়ব।

'দুর্বলতা' সন্ধানে সবাইকে চমকে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন নন্দীগ্রামে প্রার্থী হবেন। তার পর খুব বেশি সমায় গড়ায়নি। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে অনতিদূরে রাসবিহারী অ্যাভেনিউর মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে পাশে নিয়ে বললেন, 'শুনে রাখুন মাননীয়া, আপনাকে যদি নন্দীগ্রামে হাফ লাখ ভোটে হারাতে না পারি রাজনীতি ছেড়ে দেব'। এদিন রাসবিহারীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, 'মাননীয়া আপনি নন্দীগ্রামে সেই ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর শেষ বার গিয়েছিলেন। পাঁচ বছর পর ভোটের আগে ফের নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েছে। মানুষ সব জানে।' শুভেন্দু প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, 'আপনি নন্দীগ্রামের জন্য কী করেছেন? সিঙ্গুরে শিল্প বন্ধ করে দেওয়ার কথা অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে রয়েছে, নন্দীগ্রামের কথা এক লাইনও নেই।' বিজেপিতে নবাগত এই নেতার কথায়, 'এদিন সাতটা জেলা থেকে আটশো বাসে করে লোক এনেছিলেন। তাও মাঠ ভরাতে পারেননি। তাও যাঁরা ছিলেন তাঁরা সব ওই হায়দরাবাদের পার্টির লোক। নন্দীগ্রামের ভোলেনি যে অরুণ গুপ্ত নন্দীগ্রামে গুলি চালিয়েছিলেন তাঁকে ষাট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর চার বার এক্সটেনশন দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে সত্যজিত্‍ বন্দ্যোপাধ্যায় অধিকারী পাড়ায় গুলি চালিয়েছিলেন, সেই পুলিশ অফিসারকে টেট কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত মহাসচিব দলে সামিল করিয়েছেন। নন্দীগ্রামের মানুষ এর জবাব দেবেই দেবে।'  শুভেন্দু-মমতা দ্বৈরথ নিয়েও এদিন টিপ্পনী করেন মান্নান সাহেব। তাঁর কথায়, 'মমতার মনে শুভেন্দুকে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। উনি ভূত দেখছেন। নন্দীগ্রামের আন্দোলনের সময়ে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি বাইক নিয়ে আগে ঢুকেছিলেন। পরে ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারীই। মমতা এখন সেই আন্দোলনের ক্রেডিট নিতে চাইছেন।' এ ব্যাপারে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরে পরাজয় মেনে নিলেন। বুঝিয়ে দিলেন তাঁর নিজের কেন্দ্র সেফ নয়।' যাদবপুরের বিধায়ক আরও বলেন, 'গতবার তো বলেছিলেন শুভেন্দুকে দাঁড় করাচ্ছেন বলে শহিদের মাকে ওখানে প্রার্থী করতে পারছেন না। এবার তো শুভেন্দু নেই। তাহলে শহিদের মা নন কেন? আসলে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বাঁচতে চাইছেন।কিন্তু পারবেন না।'