নির্জন নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন চাঁদিপুর থেকে 

নির্জন নিরিবিলিতে সময় কাটাতে চাইলে ঘুরে আসুন চাঁদিপুর থেকে 

ওড়িশার বালেশ্বর জেলায় বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত চাঁদিপুর। দেশের অন্যতম বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত এটি।এই সমুদ্রতটের একটি বিশেষত্ব হল ভাটার টানে জল প্রায় ৫ কিমি দূরে চলে যায়।আবার জোয়ারের সময় পাড়ে এসে ঢেউ ভাঙে সমুদ্রের। এই দৃশ্য পৃথিবীতে খুব কমই দেখা যায়। এই বিশেষ বৈশিষ্ট সেখানকার জীববৈচিত্র্যকে সাহায্য করে। মির্জাপুরের কাছে সমুদ্রতটে এক বিপন্ন প্রজাতি লিমুলাসও দেখতে পাওয়া যায়।সমুদ্র অন্তর্ধান হয়ে যাওয়ার জন্য চাঁদিপুর বিখ্যাত।এছাড়াও চাঁদিপুর রকেট, মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের জন্যও পরিচিত। 


সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্ট : ওড়িশা রাজ্যের ময়ূরভঞ্জ জেলায় সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্ট 2,750 কিমি  (1,060 বর্গ মাইল) জুড়ে রয়েছে। এটি ভারতের সপ্তম বৃহত্তম জাতীয় উদ্যান।ভারতের সবচেয়ে বড় জাতীয় পশু সংরক্ষিত এলাকা এটি। এটি ময়ূরভঞ্জ হাতি রিজার্ভের অংশ, যার মধ্যে তিনটি সুরক্ষিত এলাকা রয়েছে  সিমিলিপাল টাইগার রিজার্ভ, হাদগড় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সহ কুলদিহা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।

সিমলিপাল ন্যাশনাল পার্কটি এই এলাকায় বেড়ে ওঠা লাল রেশম তুলা গাছের প্রাচুর্য থেকে এর নাম পেয়েছে। চাঁদিপুর ঘুরতে এলে অবশ্যই ঘুরতে যাওয়া উচিত সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্টে।লেপার্ড,হাতি,বাঘ,হরিণ,কুমীর সহ বিভিন্ন প্রাণীদের সামনে থেকে দেখতে চাইলে অবশ্যই যেতে হবে সিমলিপাল রিজার্ভ ফরেস্টে।


রেমুনা : এটি ওড়িশার একটি ধর্ম স্থান। চাঁদিপুর থেকে রেমুনার দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। এই স্থানটি ক্ষীর চোরা গোপিনাথ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। এখানে ভগবানকে ক্ষীর ভোগ দেওয়া হয়।এটি ১৪ শতকে নির্মিত একটি মন্দির।
 
পঞ্চলিঙ্গেশ্বর :চাঁদিপুর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি পাহাড়ে অবস্থিত পঞ্চলিঙ্গেশ্বর মন্দির। চাঁদিপুরের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থল হল পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। শিবের পাঁচটি মূর্তির জন্য জনপ্রিয় পঞ্চলিঙ্গেশ্বর।চাঁদিপুর/বালাসোরের অন্যতম আকর্ষণীয় ঘোরার জায়গা এই পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। নীলগিরি পাহাড় দিয়ে এটি চারিদিক থেকে আচ্ছাদিত।

চাঁদিপুর থেকে এর দুরত্ব ৪৫ কিলোমিটার,বালাসোর থেকে এর দুরত্ব ৩০ কিলোমিটার, ভগবান শিবের মূর্তির জন্য এটি ধর্মীয় ভাবে খুব প্রসিদ্ধ জায়গা। এর পাশে ঝর্ণার উপস্থিতি চোখ জুড়িয়ে যায়। শিবের লিঙ্গের উপর দিয়ে প্রবহমন ঝর্ণার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। পাদদেশ থেকে ৩০৫ টি সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে পৌছান যায়। এটি ট্রেকিং এর জন্য আদর্শ জায়গা। 

নীলগিরি জগন্নাথ মন্দির : চাঁদিপুর থেকে নীলগিরি জগন্নাথ মন্দিরের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। পাহাড়ের এই অংশ জগন্নাথ মন্দিরের জন্য প্রসিদ্ধ। নীলগিরি একটি খুব ছোট শহর কিন্তু সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ। এর ইতিহাস জ্যোতির্বিদ্যাযুগের দিকে ফিরে পাওয়া যায়।