শীতের ফল মানেই কমলালেবু, দেখে নিন এর পুস্তিগুন ও উপকারিতা

শীতের ফল মানেই কমলালেবু, দেখে নিন এর পুস্তিগুন ও উপকারিতা

আজবাংলা   নভেম্বর থেকে প্রায় ফেব্রুয়ারি অবধি টানা কমলালেবুর মাস। মানে বাজার জুড়ে মিলবে দুর্দান্ত স্বাদের লেবু – দার্জিলিং, সিকিম, ভুটানের মতো জায়গা থেকে তো ফল আসবেই, সেই সঙ্গে আছে নাগপুরের লেবু। কমলার রস, শাঁস, খোসা সব কিছুরই নানা উপকারিতা আছে।

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এই ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে শীতকালে এই ফল পাওয়া যায় বেশি। এই ফলে বিভিন্ন পুষ্টিদ্রব্যের পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। আসুন আজকের প্রতিবেদনে দেখে নেব এর কি কি উপকারিতা রয়েছে।

১. যেকোনো ঘা, জিহ্বায় ঘা, কাটা ও সেলাইজনিত চামড়া, মাংসপেশি শুকানোর জন্য কমলালেবু ভীষণ উপকারী ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এই ফল খায়, তাদের দাঁতের অসুখ তুলনামূলকভাবে কম হয়।

২. কমলালেবুতে আরও আছে উপকারী বন্ধু বিটা কেরোটিন, এই উপাদান দেহের শীতকালীন অসুখ দূর করে। রোগপ্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। মুখ ও ঠোঁটের কোনায় ঘা, টনসিল, কাশি, শারীরিক দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে।

৩. সব বয়সের মানুষের জন্য ভিটামিন সি খুব দরকারি। আমাদের শরীরে প্রয়োজনের বেশি লিপিড বা fat রক্তে জমা হয়। কিন্তু ভিটামিন সি জমা হয় না। তাই নিয়মিত ভিটামিন সি খাওয়া ভীষণ জরুরি। তবে অ্যাসিডিটি যাঁদের বেশি হয়, তাঁরা রাতে লেবু খাবেন না।

৪. এতে শরীরে টক্সিনের পরিমাণ কমায়। বেড়ে যাওয়া টক্সিন দেহে বিভিন্ন রকম অসুখ তৈরি করে। তাই নিয়মিত কমলালেবু খান। তবে এই ফলে পটাশিয়াম আছে, যা কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত সব রোগীর জন্য খাওয়াটা উচিত হবে না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাওয়া উচিত।

৫. কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ। এই ভিটামিন দুটি চোখ, নখ, চুল, হাড়, সর্বোপরি পুরো দেহের জন্য খুব উপকারী। শিশু বয়স থেকে এই ফল খাওয়ার চেষ্টা করা দরকার।

৬. কমলালেবুতে লিপিড (fat) নেই। তাই যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে এই ফল খান। ঠোঁট ও পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া রোধ করে ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ। এই দুই ধরনের ভিটামিন এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে।

৭. গুণের বিচারে এই শীতকালে কমলালেবু হোক আপনার উপকারী বন্ধু। ৮. ভিটামিন সি পুরো দেহের চামড়ার পুষ্টি জোগায়, বহুবিধ ছোঁয়াচে রোগ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। গরম বা ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রক্ষা করে এই ফল।

৯. তবে ডায়াবেটিসের রোগীরা মিষ্টি কমলালেবু না খেয়ে টক লেবু খাবেন। কিছুটা টক লেবু তাঁদের জন্য বয়ে আনবে সুফল। ১০. সায়ানোসাইটিস অসুখের রোগীদের খুব দ্রুত শীতকালীন অসুখগুলো হয়। তাদের জন্য এই ফল খুব উপকারী।

১১. এই ফলের পুষ্টিগুণ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়। তাই ফ্রিজে সংরক্ষণ না করাই ভালো। ১২. কমলালেবুতে রয়েছে কেরোটিনয়েড (carotinoid) নামক এক উপাদান, যা ভাইরাসজনিত ইনফেকশনকে প্রতিহত করে। ডায়রিয়ার জীবাণুকে করে দুর্বল।

১৩. চোখের পাতায় ইনফেকশন (conjunctivitis), চোখ ওঠা ভীষণ ছোঁয়াচে রোগ। এই অসুখগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে কমলালেবু।

১৪. পৃথিবীর একেক দেশে একেক প্রজাতির কমলালেবু পাওয়া যায়। সব ধরনের লেবু উপকারী। কমলালেবু কিনতে না পারলে, ভাতের সঙ্গে যে লেবু আমরা খাই, তা নিয়মিত খান।

১৫. এই ফলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামে এক জরুরি উপাদান, যা দেহের বিষাক্ত জীবাণুকে মেরে ফেলতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও এই ফল খুব দরকারি। ১৬. তারুণ্য বজায় রাখতে যুদ্ধ করে দেহের বিষাক্ত উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে।