জেনে নিন ঐতিহাসিক প্রিন্সেপ ঘাটের অজানা গল্প

জেনে নিন ঐতিহাসিক প্রিন্সেপ ঘাটের অজানা গল্প

আজবাংলা   কলকাতায় হুগলি নদীর তীরে ব্রিটিশ যুগে তৈরি হওয়া একটি ঘাট, যার নাম প্রিন্সেপ ঘাট। ঘাটটি মহামতি অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধারকারী প্রাচ্যবিদ জেমস প্রিন্সেপের স্মৃতিতে নির্মিত করা হয়। এর প্যালাডিয়ান পোর্চটির নকশা করেন ডব্লিউ ফিজগেরাল্ড।

 

প্রিন্সেপ ঘাটটি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের ওয়াটার গেট ও সেন্ট জর্জেস গেটের মাঝে অবস্থিত। এটি ১৮৪১ সালে নির্মিত হয় এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ইতিহাসবিদ জেমস প্রিন্সেপের নামে নামাঙ্কিত। ঘাটের মূল গ্রিকো-গথিক স্থাপত্যটি ২০০১ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত মন্ত্রক সংস্কার করেছে। এটির রক্ষণাবেক্ষণও উক্ত মন্ত্রকই করে থাকে।

প্রথম দিকে প্রিন্সেপ ঘাট ব্রিটিশদের সব যাত্রীবাহী জাহাজের যাত্রী ওঠানামার কাজে ব্যবহার করা হত। বলা হয়ে থাকে, কলকাতার সবচেয়ে পুরনো দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে একটি হল প্রিন্সেপ ঘাট। এখানে বাংলা সিনেমা থেকে শুরু করে অনেক হিন্দি সিনেমার শুটিং হয়েছে বা বলা যেতে পারে এখনো হয় মাঝেমধ্যেই।

ঘাটের কাছে চল্লিশ বছরের পুরনো আইসক্রিম ও ফাস্ট ফুড বিক্রির একটি কেন্দ্র আছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ঘাটটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়। পাশাপাশি ভাবে বিশেষ বিশেষ দিনে এখানে গানের অনুষ্ঠান ও নানাধরনের প্রোগ্রাম করা হয়ে থাকে। 

২০১২ সালের ২৪ মে প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাজে কদমতলা ঘাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পথে নদীতীরের উদ্বোধন করা হয়েছে। বর্তমানে এই জায়গাটি আলো লাইটিং, বাগান, পরিস্কার পিচের রাস্তা, ফোয়ারা, মূর্তি দিয়ে সাজানো হয়েছে। কলকাতা ভ্রমণে কিছু সময় একান্তে কাটাতে চান, তবে প্রিন্সেপ ঘাট আপনার জন্য।

প্রিয় শহরের বুকেই রয়েছে এমন কয়েকটি জায়গা যেখানে পৌঁছালে আপনার ক্লান্তি দূর হতে বাধ্য। আর প্রিন্সেপ ঘাট তাঁর মধ্যে অন্যতম। বিকেলের আলোয় গঙ্গার পাড়ের বিষন্ন নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে অনেকেই আসেন এখানে।

প্রিন্সেপ ঘাটের পাশেই পূর্ব রেলের অধীনস্থ কলকাতা চক্র রেলের একটি স্টেশন আছে।স্টেশনটির নামও "প্রিন্সেপ ঘাট"। স্টেশনের কোড পিপিজিটি। ঘাটের নিকটবর্তী ম্যান-অ-ওয়ার জেটিটি কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কলকাতা বন্দরের গৃহীত ভূমিকার স্মৃতি বহন করছে। জেটিটি এখন মূলত ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যাবহার করে।