কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর সাং বন্ধের প্রতিবাদে কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা

কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর সাং বন্ধের প্রতিবাদে  কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা

কৃষ্ণনগরে বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের সাংয়ের দাবিতে পথ অবরোধ চলে দীর্ঘ এক ঘন্টা যাবত। কোতোয়ালি থানার ঢিলছোড়া দূরত্বে পৌরসভার মোড়ে, আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজোয় সাং বন্ধ রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিভিন্ন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি এবং বারোয়ারির সদস্যরা। মাত্র দু'দিন আগেই জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বারোয়ারি গুলির সাথে এক আলোচনা সভায় শোভাযাত্রা বিহীন পুজোর বিরুদ্ধে অনেকেই দ্বিমত পোষণ করেছিলেন।

কার্যত তাদের কথা মান্যতা না দিয়েই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মত বিক্ষুব্ধ বারোয়ারি সদস্যদের । ওই মিটিংয়ের পর ক্ষোভের আগুন ক্রমশ ছড়াতে থাকে, যা আজ দাবানল হয়ে কৃষ্ণনগরের প্রধান রাস্তা রুদ্ধ হয়ে যায়।  পৌরসভার মোড়ে প্রায় প্রত্যেক বারোয়ারির পক্ষ থেকে আগত সদস্যদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে জনরোষে পরিণত হয়।

কোতোয়ালি থানার পুলিশ দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় বিপুল পরিমাণে অবরোধকারীদের বোঝাতে বা হটাতে পারেনি এখনো, একদিকে বাড়ছে পুলিশ মোতায়েনের সংখ্যা অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়ছে তার দ্বিগুণ, কার্যত রণক্ষেত্রর চেহারা নিয়েছে কৃষ্ণনগর। তাদের দাবি শান্তিপুরে কালী পূজার বিসর্জন, উপনির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় বহুবার উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি তাতেও প্রশাসন নির্বিকার।

আর কৃষ্ণনগরের প্রতি দ্বিচারিতা করছে জেলা পুলিশ, এমনকি সাং বন্ধের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশের কথা বলা হলেও তা এখনও দৃষ্টিগোচর হয়নি তাদের। গতবার অতি মারির ভয়াবহতার কারণে বন্ধের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও  এবছর তারা তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ কোনোমতেই, কৃষ্ণনগরের ঐতিহ্য হারাতে দেবেন না।  

5 ঘন্টা অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর এখনো বিক্ষোভ চলছে, কোতোয়ালি থানার আইসি রক্তিম চ্যাটার্জী দুবার বিক্ষোভকারীদের সাথে বসে মেটাতে পারেনি বিষয়টি, অবশেষে 34 নম্বর জাতীয় সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে পথ অবরোধ করলো বিক্ষোভকারীরা। সূত্রে খবর জানা যায় মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং সংসদ মহুয়া মৈত্র পোস্টার ছেড়া হয়েছে যদিও বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, বিক্ষোভ স্থগিত করার জন্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইচ্ছাকৃত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে আন্দোলনের সাথে কোন রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই, এটি কৃষ্ণনগরের সকল অধিবাসীদের দাবি।