তাহেরপুরে পৌরসভার খরচ বাঁচাতে দেহরক্ষীসহ সাইকেলেই যাতায়াত পুরো প্রধানের

তাহেরপুরে পৌরসভার খরচ বাঁচাতে দেহরক্ষীসহ সাইকেলেই যাতায়াত পুরো প্রধানের

হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল, বাস্কেটে লাল ফাইল। সাইকেলের প্যাডেল করতে করতেই বাড়ি থেকে পৌরসভা, এভাবেই পৌঁছাচ্ছেন তাহেরপুর পৌরসভা সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর পিতা উত্তমানন্দ দাস । শুধু তিনিই নয়, সঙ্গে দেহরক্ষী তিনিও সাইকেল চালিয়ে পিছনে পিছনে ছুটছেন ।এভাবে প্রতিনিয়ত যাচ্ছেন অফিসে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী, বাক্সবন্দী গাড়ির মধ্যে যাতায়াত করলে মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়।

কাউন্সিলর থাকাকালীনও এভাবেই যাতায়াত করতাম চেয়ারম্যান হয়ে যাবার পর তো আর বিশেষ কিছু হয়ে পড়িনি। তাহেরপুর ছোট্ট পৌরসভা, তহবিলের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয় । তাই অগ্নিমূল্যের পেট্রোলের দাম কিছুটা বাঁচিয়ে সাধারণ মানুষের যাতে কাজে লাগে সেই লক্ষ্যেই পৌরসভার  গাড়ি ব্যবহার করছি না।

শুধু তাই নয় অন্যান্য দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার বা অধিকর্তাদের অনুরোধ করেছি একান্ত অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া তারা যেন গাড়ি ব্যবহার না করেন। আর সেটা তারা তখনই মানবেন যখন আমি, মেনে চলবো। রাজ্যের মধ্যে একমাত্র পৌরসভা যা বামেদের দখলে। প্রার্থীপদ ঘোষণা থেকে শুরু করে, দেওয়ার লেখা প্রচার নির্বাচন পদ্ধতি শপথগ্রহণ এমনকি সংবর্ধনা পর্যন্ত বারে বারে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য সাংবাদিকরা সংবাদ গ্রহণ করতে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

এই পৌরসভার 13 টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটিতে পরাজিত হয়েছে সিপিআইএম কিন্তু সেখানেও লাল পতাকা নিয়ে লড়াই করা পরাজিত প্রার্থীকেও পর্যন্ত সংবর্ধিত করা হয়েছে সম্প্রতি। পৌরসভার  গাড়িচালক শংকর দাস বলেন, প্রথম দিন আমি নিজেকে তৈরি রেখেছিলাম নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসার জন্য। কিন্তু তিনি আমাকে পরিষ্কারভাবেই না করে দেন। সাইকেলে করেই অফিসে আসবে বলে জানিয়ে দেন তিনি। এমনকি বিভিন্ন জায়গায় ভিজিটে পর্যন্ত যাচ্ছেন সাইকেল করেই।

দেহরক্ষী বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে তারও শরীর মন দুইই সুস্থ থাকছে সাইকেল চালানোর ফলে। যদিও তাহেরপুর শহর তৃণমূল সভাপতি পরিতোষ ঘোষ বলেন, এটা সম্পূর্ণ লোকদেখানো। সবে তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মাত্র কয়েকদিন হলো। কিছুদিন অপেক্ষা করুন, পরবর্তীকালে স্পষ্ট বোঝা যাবে তিনি কোন উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিচ্ছেন, আর কতদিন বা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে সাধারণ মানুষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, তারা বলেন এমনটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। এ আর নতুন কি ? তবে আশেপাশের পৌরসভায় বিভিন্ন চেয়ারম্যানদের চালচলন দেখে স্বাভাবিক বিষয়টিও অস্বাভাবিক লাগে।