ধ্বংসের মুখে পাকিস্তানের অধিকাংশ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মস্থান

ধ্বংসের মুখে পাকিস্তানের অধিকাংশ সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মস্থান

পাকিস্তানে (Pakistan) সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সীমাহীন অত্যাচার নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। শুধু ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের উপরই নয়, আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না তাঁদের ধর্মস্থলগুলিও। অভিযোগ, বারবার হিন্দুদের ধর্মস্থানে আক্রমণের ঘটনা ঘটছে ইসলামাবাদে। ফলে ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে সে দেশের অধিকাংশ হিন্দু (Hindu) ধর্মস্থান।

আর এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি। এই মর্মে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আর সেই রিপোর্ট ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি সে দেশের সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা পড়ে। যাতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের হিন্দু ধর্মস্থানগুলির বেহাল দশা। ভগ্নপ্রায় হয়ে রয়েছে অধিকাংশ উপাসনাস্থল।

আর এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাদের গাফিলতির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।  রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের ধর্মস্থানগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বোর্ড গঠিত হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব পালন করেনি তারা। এই বোর্ডের কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে এক সদস্যের কমিশন তৈরির নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

সেই কমিশনের রিপোর্টেই এই তথ্য উঠে এসেছে। পাকিস্তানের একাধিক প্রদেশের মন্দির-উপাসনালয় ঘুরে দেখে রিপোর্ট তৈরি করেছে কমিশনের সদস্য। সূত্রের খবর, অধিকাংশ প্রাচীন হিন্দু ধর্মস্থানই প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমনকী, সেই ধর্মস্থানগুলি সারানোর ব্যবস্থাও করা হয়নি।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সিন্ধ ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা লাগাতার বাড়ছে। জোর করে নাবালিকাদের তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করছে ইসলামিক মৌলবাদীরা। গত ডিসেম্বর মাসে খাইবার পাখতুনখোয়ায় একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলে ধর্মান্ধরা। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। এরপর হিন্দু উপাসনালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।