অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠকে মুকুল‌ রায়!‌ বাড়ছে জল্পনা

অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠকে মুকুল‌ রায়!‌ বাড়ছে জল্পনা

দলের বৈঠকে যাচ্ছেন না মুকুল‌ রায়। কারণ হিসাবে জানাচ্ছেন, আমন্ত্রণ পাননি তাই যাননি। আর দলের বৈঠকের বিষয়ে কিছুই নাকি জানা নেই তাঁর। কিন্তু সল্টলেকের বাসভবনে প্রতিদিনই আসতে দেখা যাচ্ছে অনুগামীদের। বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন অনুগামীরা। অনুগামীদের নিয়ে বৈঠক করছেন মুকুল রায়। মুকুল ঘনিষ্ঠদের কথায় রাজনৈতিক আলোচনা হচ্ছে। ঠিক কোন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে তা নিয়েই বাড়ছে জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের ভাবনায়, তবে কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের পথে মুকুল রায়!‌

এখনও বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-‌সভাপতির পদে আছেন মুকুল রায়। এখন আবার কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়কও নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু বিজেপির রাজ্য নেতাদের সঙ্গে ইদানিং খুব একটা যোগাযোগ নেই তাঁর। প্রসঙ্গত, মুকুল রায়ের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভর্তি হাসপাতালে। তা নিয়ে রয়েছেন চিন্তায়। তাঁর স্ত্রীকে দেখতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। এ বিষয়ে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় প্রশংসা করেন অভিষেকের।

আর বঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষও মুকুল রায়ের স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যান। অথচ তা নিয়ে প্রকাশ্যেই মুকুল রায় বলেন আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। বিজেপির অন্দরেও কান পাতালে শোনা যাচ্ছে দিলীপ-‌মুকুল ঠান্ডা লড়াইয়ের কথা। বিধানসভা ভোটে নিজে কৃষ্ণনগর উত্তরে জিতলেও শুভ্রাংশু রায় বীজপুরে হেরে যান। আর হেরে যাওয়ার পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে থাকেন শুভ্রাংশু রায়। ফেসবুকে পোস্টেও নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা বন্ধ করে নিজেদের হারের কারণ খুঁজে বের করা উচিত বলে মনে করেন।

তারপর থেকেই জল্পনা তৈরি হয় বিজেপি ত্যাগের। ইতিমধ্যেই মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ সংখ্যালঘু নেতারা বিজেপি ত্যাগের কথা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন। কাশেম আলি, কবিরুল ইসলামরা তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদনও করেছেন। ক্ষমা চাইছেন মমতা ব্যানার্জির কাছে। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। প্রসঙ্গত, গতকালই রাজীব ব্যানার্জি থেকে সব্যসাচী দত্তর মতো হেভিওয়েট নেতারাও বেসুরো গাইছেন। বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলছেন তাঁরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এমনিতেই রাজ্য বিজেপি নেতারা রয়েছেন বেশ চাপে।

কারণ গতকালই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, দলবদলু এবং বিজেপির জয়ী বহু বিধায়কও নাকি তৃণমূলে যোগ দিতে তৈরি। অভিষেকের এধরণের মন্তব্যের পর থেকেই বিজেপির অন্দরে তৈরি হয়েছে গুঞ্জন। ঠিক কোন কোন বিধায়ক তৃণমূলে পা বাড়িয়ে। যদিও বিজেপির সায়ন্তন বসু, জয়প্রকাশ মজুমদারের মতো নেতারা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই বিজেপির মিটিংয়ে আর দেখা যায়নি প্রবীর ঘোষাল, রাজীব ব্যানার্জিদের। বিজেপি থেকে একাধিক নেতাও দলবদল করে তৃণমূলে ফিরবেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহল মহল।