ফেসবুক থেকে মাসে ৩ লাখ টাকারও বেশি রোজগার করা যাবে এই ভাবে

ফেসবুক থেকে মাসে ৩ লাখ টাকারও বেশি রোজগার করা যাবে এই ভাবে

ফেসবুকে রোজ ছোট ছোট ভিডিয়ো তৈরি করছেন? আর সেই রিলস ভিডিয়োগুলো শেয়ার করে নিশ্চয়ই খুব মজা পাচ্ছেন? তাহলে জেনে রাখুন, আপনার সেই মজার পরিমাণটা দ্বিগুণ হতে চলেছে। কারণ, এবার আপনি ফেসবুকে রিলস (Facebook Reels) ভিডিয়ো তৈরি করে মোটা টাকা রোজগারও করতে পারবেন। সম্প্রতি এমনই ঘোষণা করেছে ফেসবুকের প্যারেন্ট সংস্থা মেটা ( Meta) ।

আর রিলস ভিডিয়োর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের এই পন্থাটা ফেসবুক বা মেটাকে নিয়ে আসতেই হত। কারণ, প্রতিযোগী আর এক শর্ট ভি ডিয়ো মেকিং প্ল্যাটফর্ম টিকটক তার ছোট্ট ভিডিয়োগুলির মাধ্যমেই ব্যবহারকারীদের লাখ লাখ টাকা রোজগারের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। ভারতের মতো একটা দেশে বিপুল ইউজারবেস রয়েছে ফেসবুকের।

সেই দেশে আবার টিকটক ব্যান। সেখানে রিলস ক্রিয়েটরদের যদি একটা রোজগারের পথ তৈরি করে দেওয়া যায়, তাহলে আখেরে লাভ ফেসবুকেরই। মেটা-র তরফ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ফেসবুক রিলস ভিডিয়ো তৈরি করে ক্রিয়েটররা প্রতি মাসে ৪০০০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা রোজগার করতে পারবেন।

মেটা তার ইউজারদের জন্য ‘চ্যালেঞ্জেস’ অন ফেসবুক নামক একটি নতুন ফিচার নিয়ে এসেছে। এটি আসলে একটি ইনসেন্টিভ প্রোগ্রাম। এই ফিচারটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের রিলস প্লে বোনাস প্রোগ্রামে অংশ নিতে সাহায্য করবে। মেটা-র পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বলা হয়েছে, প্লেআউট কীভাবে ক্যালকুলেট করা হয়, সেই বিষয়টিই তারা অ্যাডজাস্ট করছে।

লক্ষ্য একটাই, যে ক্রিয়েটরের যেমন অডিয়েন্স রেঞ্জ রয়েছে, সেই অনুপাতেই ব্যবহারকারীদের একটা রোজগারের পথ তৈরি করে দেওয়া। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কীরকম ভিডিয়ো হলে ফেসবুক ক্রিয়েটরর রিলসের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন? এ বিষয়ে মেটা-র তরফে বলা হচ্ছে, “হাই-কোয়ালিটি অরিজিনাল কন্টেন্ট হতে হবে, যা মানুষকে আকৃষ্ট করবে।”

আদপে ফেসবুকের এই চ্যালেঞ্জ হল একটি নতুন রাস্তা যার মাধ্যমে গুচ্ছের বোনাস পাওয়া যাবে এবং শেষমেশ সেখান থেকেই অর্থ উপার্জন সম্ভব হবে। এবার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টায় আসা যাক। কীভাবে টাকা রোজগার করা যাবে ফেসবুক রিলস ভিডিয়োর মাধ্যমে? এ বিষয়ে মেটা-র তরফে বলা হচ্ছে, “এই প্রোগ্রামে প্রতিটা ক্রিয়েটর প্রত্যেক মাসে সিকোয়েন্সিল এবং কিউমুলেটিভ চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, একজন ক্রিয়েটরের ৫টি রিলস ভিডিয়ো যদি ১০০ বার প্লে করা হয়, তাহলে তিনি ২০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১,৫৫০ টাকা আয় করতে পারবেন।” এই ভাবে একজন ক্রিয়েটরের একটি চ্যালেঞ্জ যখন সম্পূর্ণ হবে, তার পরক্ষণেই আনলক হয়ে যাবে তাঁর পরবর্তী চ্যালেঞ্জটি। প্রতি মাসে ৩০ দিনের বোনাস পিরিয়ডে ‘চ্যালেঞ্জেস’-এ ক্রিয়েটরের অগগ্রতি রিসেট করা হবে।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে যে, তারা ফেসবুকে ক্রিয়েটরদের জন্য রিলস প্লে-র ইনসাইটও রোল আউট করছে। ফেসবুকের রিলস প্লে বোনাস ইনসাইট পেজে ক্রিয়েটররা খুব সহজেই দেখে নিতে পারবেন, ওই রোজগারের নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে তাঁদের রিলস ভিডিয়ো কত জন, কত বার দেখেছেন। শুধু তাই নয়।

ফেসবুক রিলসের জন্য ওভারলে অ্যাডসও রোল আউট করতে চলেছে ফেসবুক। এর সাহায্যে ক্রিয়েটররা একদিকে যেমন অন্যান্যদের কাজ দেখে প্রতিযোগিতার বাজারটা বুঝতে পারবেন, তেমনই আবার প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনদাতাদেরও চিনে নিতে পারবেন। তাতে পরবর্তীতে তাঁদেরই আরও সুবিধা। কারণ, এই সব সূত্র থেকে তাঁরা বুঝতে পারবেন, কেমন ভিডিয়ো তৈরি করলে আরও অর্থ উপার্জন করা যেতে পারে।