রামপুরহাট হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সঙ্গে তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতার যোগ

রামপুরহাট হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত  সঙ্গে তৃণমূলের  প্রভাবশালী নেতার যোগ

রামপুরহাট হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার CBI’কে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। SIT কোনও তদন্ত করতে পারবে না। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচারের স্বার্থে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে CBI’কে তদন্তভার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আদালত। রামপুরহাট হত্যাকাণ্ডে ধৃত তৃণমূল নেতা আনারুল হোসেন-সহ ২২ জনকে রামপুরহাট থানায় রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, আজ থানায় গিয়ে কেস ডায়েরি ও মামলা সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংগ্রহ করবে সিবিআই।

তদন্তে যে সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে, তা সিটের তরফে সিবিআইকে জানানো হবে। পাশাপাশি, ধৃতদের বয়ানও নিতে পারে সিবিআই । এই হত্যাকাণ্ডে প্রথম থেকেই নাম জড়িয়েছে আনারুলের।  বগটুই গ্রামে মানুষ পুড়ে খাক হওয়ার আগে ও পরে রামপুরহাট-কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত এবং ধৃত আজাদ চৌধুরীর সঙ্গে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনের ফোনে কথা হয়েছিল বলেই গোয়েন্দা সূত্রে দাবি।

ওই সূত্রে খবর, আগুন লাগিয়ে হত্যার আগে তো বটেই, দু’জনের কথা হয়েছিল ঘটনার ঠিক পরেও। শুধু তা-ই নয়, ওই ঘটনায় জেলার আরও এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নাম উঠে এসেছে। তাঁর সঙ্গেও ধৃতদের যোগাযোগের স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে বলে গোয়েন্দাদের একাংশের দাবি। তার পরেই রামপুরহাট ছাড়েন বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) কর্তা জ্ঞানবন্ত সিং, মিরাজ খালিদ।

মঙ্গলবার দুপুরে সিট গঠনের পরে সেই রাতে রামপুরহাটে পৌঁছন সিট-কর্তারা। রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালবীয় ঘাঁটি গাড়েন রামপুরহাটে। মঙ্গলবার রাত থেকে সেখানকার একটি হোটেলকে কার্যত কন্ট্রোল রুম বানিয়ে ফেলে তদন্ত শুরু করেছিল সিট। এখনও পর্যন্ত পাঁচ জন প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান তারা নথিভুক্ত করেছে বলে সিট সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁদের বয়ান অনুযায়ী, আজাদের নেতৃত্বে ওই দিন প্রায় ২০ জনের একটি দল বগটুইয়ে একটি মুদি দোকানে প্রথম আগুন লাগায়।

সিটের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রামে আগুন লাগানোর ঘটনা রামপুরহাট থানা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গেলেও, তাদের সক্রিয়তা চোখে পড়েনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ভাদুর ভাড়ায় খাটা দু’টি গাড়ির একটি থানার আইসি-র কাছে, অন্যটি এসডিপিও-র কাছে থাকত। সিটের একটি অংশের দাবি, পুলিশ কোনও জখম ব্যক্তির জবানবন্দি প্রথমে নথিভুক্ত করেনি, যা তদন্তের কাজে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

এমনকি প্রাথমিক ভাবে দায়ের হওয়া মামলায় বিস্ফোরণের কোনও ধারাও যুক্ত করা হয়নি! অথচ প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাড়িতে আগুন লাগানোর আগে গ্রামে প্রবল বোমাবাজি হয়েছিল। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, “আনারুল দিদির, পুলিশও দিদির। এটা পারিবারিক গন্ডগোল তার মাঝখানে সিট ঢুকে পড়েছিল। আদালত আজ সিটকে ওই দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।”